রবিবার, ০৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৩, ০৬:০২ অপরাহ্ন

দেশের মানুষ বড় কষ্টে আছে!

Reporter Name
  • Update Time : সোমবার, ২১ নভেম্বর, ২০২২
  • ২৪ Time View

 

(তিন বেলা খাবারের জন্য দরকারি এমন কোন পণ্য নেই, যার দাম বাড়েনি। বরং প্রতিদিনই নতুন করে দাম বাড়ছে খাদ্য ও নিত্যপণ্যের। অভিযোগ রয়েছে, ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে এভাবে নিয়ন্ত্রণহীন করেছে বাজার দর। তাছাড়া সরকারের বাজার মনিটরিং সিস্টেম পুরোপুরি অকার্যকর হয়ে আছে।)

 

শের ই গুল :

 

দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে সরকার ব্যর্থ হয়েছে। সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না। সাধারণ মানুষ অ্যাফেকটেড (ক্ষতিগ্রস্ত) হচ্ছে। তাদের স্বার্থ রক্ষার জন্য কঠোরভাবে বাজার নজরদারি করতে হবে। সরকারের সহযোগিতা ছাড়া সিন্ডিকেট মূল্যবৃদ্ধি করতে পারে না। এমনটা আলোচনায় জাতীয় সংসদ মুখরিত হলেও অসহায় মানুষের ভাগ্য আকাশে দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতির কালো ছায়া নেমে গেছে। দেশের মানুষ আছে বড় কষ্টে। সাধারণ মানুষের জন্য সবচেয়ে বড় আপদ হয়ে এসেছে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি।

বিগত এক যুগে দেশের বাজারে চালের দামের সঙ্গে কয়েকগুণ মূল্য বেড়েছে প্রায় সব নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের। ফলে এখন আর মানুষের আয় ও ব্যয়ের সমন্বয় হচ্ছে না। দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতি মধ্যবিত্তের বোবাকান্নায় পরিণত হয়েছে। বাজার দর নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয়েছে ট্যারিফ কমিশন, অকার্যকর হয়ে আছে প্রতিযোগিতা কমিশনও। তবে পরিকল্পনামন্ত্রী ও স্বীকার করেছেন যে, নিয়ন্ত্রণহীন বাজারদরে দারুণ কষ্টে আছেন মানুষ। এ সমস্যার সমাধানে কাজ করছে সরকার। আর নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য স্বাভাবিক রাখতে পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানালেও বাণিজ্যমন্ত্রী বাস্তবে কোন পদক্ষেপই কাজে লাগছেনা।

রাজধানীর কারওয়ান বাজার থেকে শুরু করে তেজগাঁও ‘ফইন্নিবাজার’, সবখানেই জিনিসপত্রের দাম নিয়ে মানুষের হতাশা কেবল দীর্ঘায়িতই হচ্ছে। ক্রেতার নাভিশ্বাস কথাটা সবার কাছে পরিচিত ছিল এতোদিন, এখন বিক্রেতারাও বলছেন নাভিশ্বাস উঠে গেছে তাদের। তিন বেলা খাবারের জন্য দরকারি এমন কোন পণ্য নেই, যার দাম বাড়েনি। বরং প্রতিদিনই নতুন করে দাম বাড়ছে খাদ্য ও নিত্যপণ্যের। অভিযোগ রয়েছে, ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে এভাবে নিয়ন্ত্রণহীন করেছে বাজার দর।

তাছাড়া সরকারের বাজার মনিটরিং সিস্টেম পুরোপুরি অকার্যকর হয়ে আছে। দ্রব্যমূল্যের তুলনা করলে দেখা যায় ২০০৯ থেকে ২০২২ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত খাদ্য ও ভোগ্যপণ্যের দাম বেড়েছে কয়েকগুণ। কৃষি মন্ত্রণালয়ের কৃষি বিপণন অধিদপ্তর প্রতিদিন ওয়েবসাইটে বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলার বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম প্রকাশ করে।

এতে দেখা যাচ্ছে ২০০৯ সালের ১০ নভেম্বর ঢাকার এক বাজারে এক কেজি সরু বোরো চালের দাম ছিল ৩৪-৩৬ টাকা। ২০২১ সালের ১০ নভেম্বর একই বাজারে ওই চালের দাম ছিল ৫৭-৭৫ টাকা। আর ২০২২ জানুয়ারিতে ওই চাল ৬৫ থেকে ৮০ টাকা। মোটা বোরো চালের দাম ২০০৯ সালে ছিল ২১-২৩ টাকা। ২০২১ সালে ছিল ৪৪-৫০ টাকা। আর ২০২২ জানুয়ারিতে ওই চাল ৬০ থেকে ৬৫ টাকা। ডাল : ২০০৯ সালে এক কেজি দেশি মসুর ডালের দাম ছিল ৮০-৯০ টাকা। ২০২২ সালে ১২০-১৪০ টাকা। আমদানিকৃত মসুর ডালের দাম ২০০৯ সালে ছিল ৫০-৬০ টাকা। ২০২২ সালে সেটা হয় ১১০-১২০ টাকা। মুগ ডালের দাম ২০০৯ সালে ছিল ৮৫-১০০ টাকা। ২০২২ সালে সেটা বেড়ে হয় ১৫০-১৮০ টাকা। আটা, ময়দা : ২০০৯ সালে এক কেজি আটার দাম ছিল ২৭-২৯ টাকা। ২০২২ সালে ৬০-৬৫ টাকা। ২০০৯ সালে এক কেজি ময়দার দাম ছিল ৩৪-৩৬ টাকা। ২০২২ সালে ৭০-৮০ টাকা। পেঁয়াজ : এক কেজি দেশি পেঁয়াজের দাম ২০০৯ সালের ১০ নভেম্বর ছিল ৪০-৪৪ টাকা। মাঝখানে বেড়ে হয়েছিল ১০০ টাকা আবার ২০২২ সালে সেটা বিক্রি হয় ৫০-৬০ টাকা। রসুন : ২০০৯ সালে এক কেজি দেশি রসুনের দাম ছিল ৯০-১০৫ টাকা। ২০২১ সালে সেটা কম ছিল, ৫০-৭০ টাকা। আমদানিকৃত রসুনের এক কেজির দাম ২০০৯ সালে ছিল ৮০-৮৫ টাকা। ২০২২ সালে সেটা বেড়ে হয় ১৬০-২০০ টাকা। কাঁচামরিচ : ২০০৯ সালের ১০ নভেম্বর ঢাকার এক বাজারে এক কেজি কাঁচা মরিচের দাম ছিল ৩০-৪০ টাকা। ওই একই বাজারে ২০২১ সালের ১০ নভেম্বর কাঁচামরিচের দাম ছিল ১২০-১৩০ টাকা। আর চলতি বছরে ভড়া মৌসুমে কাঁচা মরিচ বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৫০ থেকে ৮০ টাকায়। সয়াবিন তেল : ২০০৯ সালে এক লিটার সয়াবিন তেলের দাম ছিল ৭০-৭৩ টাকা। ২০২১ সালে সেটা বিক্রি হয়েছে ১৩৮-১৪২ টাকায়। চলতি বছর ৬ ফেব্রুেয়ারি থেকে সেই তেল বিক্রি হচ্ছে ১৬০-১৬৮ টাকায়। ২০২২ বর্তমান সময়ে বিক্রি হচ্ছে ২০০-২২০ টাকা পর্যন্ত। চিনি : ২০০৯ সালে আমদানিকৃত এক কেজি চিনির দাম ছিল ৫২-৫৪ টাকা। ২০২১ সালে ৭৫-৭৭ টাকা। বর্তমানে চিনি বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ১২০ থেকে ১৪০ টাকায়। ডিম : ২০০৯ সালে দেশি মুরগির ডিম ছিল ৩২-৩৪ টাকা হালি। ২০২১ সালে সেটা বিক্রি হয়েছে ৫৫-৬০ টাকায়। ফার্মের মুরগির ডিমের (লাল) দাম ২০০৯ সালে ছিল ২৫-২৬ টাকা। ২০২১ সালে ৩৬-৪০ টাকা। এখন ২০২২ বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকায়। দেশী হাস-মুরগির ডিমের দাম প্রতিহালি ৭০-৮০ টাকা। গরুর মাংস : গরুর মাংসের কেজিপ্রতি দাম ২০০৯ সালে ছিল ২২০-২৩০ টাকা। ২০২১ সালে সেটা বিক্রি হয়েছে ৫৮০-৬০০ টাকায়। এখন প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৬৮০-৭০০ টাকায়। খামারের মুরগি : ২০০৯ সালে কেজিপ্রতি দাম ছিল ১০০-১১০ টাকা। ২০২১ সালে ১৫০-১৬০ টাকা।

বর্তমানে ১৮০ টাকা কেজি। দেশি রুই : ২০০৯ সালে ছিল ১৪০-১৬০ টাকা। ২০২১ সালে ২০০-৩০০ টাকা। ২০২২ সালে ৩০০-৪০০ টাকা। পানির দাম : গত ১২ বছরে ১৪ বার পানির দাম বাড়িয়েছে ঢাকা ওয়াসা। ২০০৯ সালে আবাসিক গ্রাহকদের জন্য প্রতি ইউনিট (১ হাজার লিটার) পানির দাম ছিল ৫ টাকা ৭৫ পয়সা। গত বছর জুলাই থেকে ১৫ টাকা ১৮ পয়সা দরে দাম দিতে হচ্ছে। অর্থাৎ গত ১২ বছরে ইউনিট প্রতি পানির দাম প্রায় ১০ টাকা বেড়েছে। বিদ্যুৎ : কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশ (ক্যাব) ও ভোক্তাকণ্ঠ আয়োজিত এক ওয়েবিনারের মূল নিবন্ধে বলা হয়, ২০০৯ থেকে ২০২১ পর্যন্ত গত ১১ বছরে বিদ্যুতের দাম ১০ বার বেড়েছে। পাইকারি বিদ্যুতের দাম ১১৮ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। আর খুচরা পর্যায়ে দাম বেড়েছে প্রায় ৯০ শতাংশ। জ্বালানির দাম বৃদ্ধি : গত বছর ৩ নভেম্বর বুধবার রাতে ডিজেল ও কেরোসিনের দাম লিটারে ১৫ টাকা বাড়িয়ে ১২০ টাকা করা হয়। অকটেন বেড়ে হয়েছে ১৩০ টাকা। ডিজেলের মোট চাহিদার ৬৩ শতাংশ ব্যবহূত হয় পরিবহন খাতে। আর সেচকাজে ব্যবহূত হয় ১৬ শতাংশ। ৪ নভেম্বর ফার্নেস অয়েলের দাম লিটার প্রতি তিন টাকা বাড়িয়ে ৬২ টাকা করা হয়।

আরও বেড়েছে বেসরকারি খাতের তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম। ১২ কেজির সিলিন্ডারে বেড়েছে ৫৪ টাকা। মুনাফা সত্ত্বেও বৃদ্ধি : জ্বালানি বিভাগের একটি সূত্র জানায়, সবশেষ ২০১৩ সালে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হয়েছিল। মাঝে ২০১৬ সালে দাম কিছুটা কমানোও হয়েছিল। তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, বিশ্ববাজারে দাম যখন কম ছিল তখন তেলের দাম ততটা না কমানোয় বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন সাত বছরে প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা মুনাফা করেছিল। আর এবার টানা পাঁচ মাস ক্ষতি হওয়ার পর দাম বাড়ানো হলো। ঢাকায় বাসা ভাড়া দ্বিগুণ হয়েছে : কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) বলছে ঢাকায় ২০০৯ সালে দুই কক্ষের পাকা বাসার গড় ভাড়া ছিল ১১ হাজার ৩০০ টাকা। ২০১৯ সালে তা বেড়ে হয় ২৪ হাজার ৫৯০ টাকা। আধাপাকা (টিন শেড) বাড়ির দুই কক্ষের ভাড়া ২০১০ সালে ছিল ৬ হাজার ৮০০ টাকা। ২০১৯ সেটা বেড়ে হয় ১৩ হাজার ২০০ টাকা। ২০১০ সালে দুই কক্ষের মেসের গড় ভাড়া ছিল ১১ হাজার ৫০০ টাকা। ২০১৯ সালে তা বেড়ে হয় ২৩ হাজার ২০০ টাকা। জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়েছে : ক্যাব জানায় ২০২০ সালে (সর্বশেষ জড়িপ) ঢাকায় জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়েছে ৬ দশমিক ৮৮ শতাংশ এবং সেবা-সার্ভিসের দাম বেড়েছে ৬ দশমিক ৩১ শতাংশ। ২০১৯ সালে এটি ছিল যথাক্রমে ৬ দশমিক ৫০ শতাংশ ও ৬দশমিক০৮ শতাংশ। ২০১৮ সালে তা ছিল ৬ শতাংশ ও ৫ দশমিক ১৯ শতাংশ। ঢাকার ১৫টি খুচরা বাজার ও বিভিন্ন সেবা-সার্ভিসের মধ্য থেকে ১১৪টি খাদ্যপণ্য ও ২২টি নিত্যব্যবহার্য সামগ্রী এবং ১৪টি সেবা-সার্ভিসের সংগৃহীত মূল্য বিশ্লেষণ করে এ প্রতিবেদন তৈরি করেছে ক্যাব। মাথাপিছু আয় বেড়েছে : বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর হিসেবে ২০০৯-২০১০ সালে মাথাপিছু আয় ছিল ৮৪৩ মার্কিন ডলার।

আর সবশেষ হিসাব বলছে, মাথাপিছু আয় এখন ২,৫৫৪ ডলার। তবে এই আয়ের সুষম বণ্টন হচ্ছে বলে মনে করেন না অনেক অর্থনীতিবিদ। কারণ একদিকে যেমন একদল মানুষ দ্রুত ধনী হচ্ছেন, আবার গরিবের সংখ্যাও বাড়ছে। করোনার সময়ে প্রায় সোয়া তিন কোটি মানুষ নতুন করে দরিদ্র হয়েছেন বলে সমপ্রতি এক জরিপে জানা গেছে। উত্তরা জয়নাল মার্কেট ছালিপুরা রেস্টুরেন্টে দুপুরে খেতে এসেছেন এস এম মাসুদ রানা। তিনি বলেন, সব খাবারের জিনিসের-ই দাম বেড়ে গেছে, মুরগির মাংস ১০০ থেকে ১৫০ টাকা হয়ে গেছে, গরুর মাংস ৮০ টাকার পরিবর্তে এখন ২০০ টাকায় খেতে হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, ৫ টাকার পরোটা ১০-২০ টাকায়, ১০ টাকার সবজি ৩০-৪০ টাকায় এবং ১৫ টাকার ডিম ভাজি ৩০ টাকায় কিনে খেতে হয়েছে! এভাবে দাম বাড়তে থাকায় আমাদের মতো নিম্ন আয়ের মানুষের খুবই কষ্ট হয়ে যাচ্ছে। ছালিপুরা রেস্টুরেন্টের ম্যানেজার বলেন, সব কিছুই বাড়তি দামে কিনতে হচ্ছে, তাই আমরাও দাম বাড়াতে বাধ্য হয়েছি, সরকার জিনিসপত্রের দাম কমালে আমরা দাম কমাতে পারবো। উত্তরার বিভিন্ন ভ্রাম্যমাণ খাবার দোকানিরা বলেন, গত চার-পাঁচ দিন থেকে কাঁচামাল কিনতে দৈনিক ২০০০ থেকে ৩০০০ টাকা বেশি গুনতে হচ্ছে। পাঁচদিন আগে যে ময়দার বস্তা ১৮শ টাকা ছিল এখন ২৫০০-৩০০০ টাকায় কিনতে হয়েছে, ৪৫ টাকার পেঁয়াজ ৫৫ টাকায় কিনতে হচ্ছে, তাই খাবারের দাম বাড়াতে বাধ্য হয়েছি। নিত্যপণ্যের মূল্য যৌক্তিক ও সহনীয় পর্যায়ে রাখার পাশাপাশি অস্বাভাবিক মজুদ ঠেকাতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় গঠিত মনিটরিং টিম কাজ করছে না। পাশাপাশি পণ্যের মূল্য বাড়াতে হলে তার যৌক্তিক কারণ অবহিত করার নিয়ম রয়েছে ট্যারিফ কমিশনকে।

কোম্পানির পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির যুক্তি সঠিক মনে না হলে কোনও কোম্পানি তার পণ্যের দাম বাড়াতে পারে না। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, টারিফ কমিশনকে অবহিত না করে বাড়ানো হচ্ছে নানা প্রকার আমদানি পণ্যের দাম। এ ক্ষেত্রে নীরব রয়েছে বাংলাদেশ ট্যারিফ কমিশন। একই অবস্থা সদ্য গঠিত বংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশনেরও। বাজারে কোনও পণ্যের মনোপলি, সিন্ডিকেট অথবা দামের ক্ষেত্রে অসম প্রতিযোগিতা হচ্ছে কিনা তা দেখার এবং সেখানে ভূমিকা রাখার কথা থাকলেও সে অনুযায়ী কাজ করছে না প্রতিযোগিতা কমিশন। ফলে প্রতিদিন বাড়ছে নিত্যপণ্যের দাম। ক্যাব সভাপতি বলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে দরিদ্র ব্যক্তিদের পক্ষে বজ্রাঘাততুল্য। বিভিন্ন শ্রেণির ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য বৃদ্ধি করছেন। সরকারকে কঠোর হাতে অতিলোভী অসাধু এসব ব্যবসায়ীকে দমন করতে হবে। বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের মূল্যতালিকা টাঙানো এবং নির্ধারিত মূল্যে পণ্য বিক্রয় করা হচ্ছে কি না, সেটি পর্যবেক্ষণের জন্য সব বাজারে দ্রব্যমূল্য মনিটরিং কমিটি গঠনের ব্যবস্থা করতে হবে।

বাংলাদেশ ট্যারিফ কমিশনের চেয়ারম্যান বলেন, বাজার নিয়ন্ত্রণে ট্যারিফ কমিশনের সরাসরি কোনো দায়িত্ব নেই। ট্যারিফ কমিশন সরাসরি মাঠে কাজ করে না। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে বাজার নিয়ন্ত্রণে যে মনিটরিং কমিটি রয়েছে সেখানে ট্যারিফ কমিশনের একজন প্রতিনিধি থাকেন। সেখানে তিনি ট্যারিফ কমিশনের পক্ষে অভিমত দেন। পরামর্শ দেন। মনিটরিং কমিটির সঙ্গে যুক্ত থেকে তিনি কাজ করেন। কোনও কারখানায় উৎপাদিত পণ্যের মূল্য নির্ধারণ সংক্রান্ত বিষয়টিতে অনুমোদন দেয় ট্যারিফ কমিশন। তবে যদি কোনো কোম্পানি তার উৎপাদিত পণ্যের মূল্য ট্যারিফ কমিশনকে না জানিয়ে বাড়ায় তাহলে তা প্রতিবেদন আকারে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে দাখিল করা হয়। সে কোম্পানির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার এখতিয়ার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের, ট্যারিফ কমিশনের নয়। বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেছেন, দেশের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য স্বাভাবিক রাখার জন্য বেশ কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। বাজার মনিটরিং জোরদার করা হয়েছে।

ভোক্তা যাতে প্রতারিত না হন, সেজন্য সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় কাজ করে যাচ্ছে। ভোজ্যতেল, ডাল, চিনি, পেঁয়াজের মতো আমদানি নির্ভর পণ্য যাতে সঠিক মূল্যে বিক্রয় হয়, সেজন্য সরকার কঠোর নজরদারি করছে। বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল (বিএআরসি) বলছে, সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণে সরকারের ব্যর্থতার কারণে চাল, আলু আর পেঁয়াজের দাম বেড়েছে। এই সিন্ডিকেট কেন নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না সরকার? সিন্ডিকেট কি সরকারের চেয়েও শক্তিশালী? বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ (বিআইডিএস)-এর সাবেক গবেষণা পরিচালক অর্থনীতিবিদ ড. এম আসাদুজ্জামান বলেন, ‘‘যারা নীতিনির্ধারক তাদের সঙ্গে এদের কোথাও না কোথাও সম্পর্ক আছে। সেটা লেনদেনের সম্পর্ক। তা না হলে এটা হতে পারে না। কেউ তো নির্মোহভাবে তাদের কন্ট্রোল করছে না।

আপনি যদি তার কাছ থেকে সুবিধা পান, তাহলে কিভাবে নির্মোহভাবে কাজ করবেন? আমি জানি, মাঠ পর্যায়ে অনেকেই আছে, তারা সঠিকভাবে কাজটা করতে চায়। কিন্তু উপর থেকে যখন নির্দেশ আসে তখন তাদের কিছু করার থাকে না। শুধু এই সরকার না, আগের সব সরকারের আমলেই এটা হয়েছে। শুধু ব্যতিক্রম ছিল ২০০৭ ও ২০০৮ সালে। তখন যারা ক্ষমতায় ছিলেন, তারা তো রাজনীতিবিদ ছিলেন না। তারা পেশাদার লোক ছিলেন। তারা এই সিন্ডিকেটের সদস্যদের চিনতেন না। তারপরও রাজনীতিটা রাজনীতিবিদদের হাতেই থাকা উচিত।

 

 

 

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category