Amar Praner Bangladesh

দেশের সবচেয়ে বড় ঘোড়ার হাট জামালপুরে

 

 

জামালপুর প্রতিনিধিঃ

 

জামালপুর শহর থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে এ হাটের অবস্থান। প্রতি বৃহস্পতিবার এ হাট বসে। এদিনে ঘোড়া কেনাবেচা করতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পাইকার ও ক্রেতার আগমন ঘটে।

একসময় গ্রামবাংলার মানুষের পণ্য পরিবহন এবং যাতায়াতের প্রধান বাহন ছিল ঘোড়ার গাড়ি। সেসময় দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বসতো ঘোড়ার হাট। কিন্তু আধুনিকতার ছোঁয়ায় ঘোড়ার কদর কমে যাওয়ায় হারিয়ে যেতে বসেছে ঘোড়ার হাটগুলোও। তবে ঐতিহ্য ধরে রেখে দীর্ঘ ৫০ বছর ধরে এখনো দেশের সবচেয়ে বড় ঘোড়ার হাট বসছে জামালপুর সদর উপজেলার রশিদপুর ইউনিয়নের তুলসিপুর গ্রামে।

বর্তমানে দেশের যে কয়েকটি ঘোড়ার হাট রয়েছে সেগুলোর মধ্যে সবচেয়ে পুরোনো এবং বড় হাট হচ্ছে এটি। স্থানীয়দের পাশাপাশি ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল, সিরাজগঞ্জ, সুনামগঞ্জ, শেরপুর, গাজীপুরসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পাইকাররা আসেন ঘোড়া কেনাবেচা করতে।

হাটে ঘোড়ার শক্তি পরীক্ষা করারও ব্যবস্থা রয়েছে। ক্রেতা-বিক্রেতারা এর নাম দিয়েছেন ‘রিমান্ড’। এজন্য হাটের ভেতর তৈরি করা হয়েছে বালু ও পানির রাস্তা। সেই রাস্তায় ১০-১৫ জন মানুষ উঠিয়ে ঘোড়ার গাড়ি ছুটানো হয়। যে ঘোড়া বালু ও পানির মধ্যে গাড়ি টেনে নিতে সক্ষম হয় সেই ঘোড়ার শক্তি বেশি বলে বিবেচিত হয়। এছাড়া শক্তি পরীক্ষার জন্য ঘোড়াকে উচু পাড় বেয়ে ওঠানামা করানো হয়।

রিমান্ডে যে ঘোড়া সবচেয়ে বেশি শক্তি দেখাতে পারে সে ঘোড়ার দামও তত বেশি। জাতভেদে প্রতিটি ঘোড়া পাঁচ হাজার থেকে লক্ষাধিক টাকা দামে বিক্রি হয়। টাট্টু, খাসি, ঘুড়িসহ বিভিন্ন জাতের ঘোড়া এখানে পাওয়া যায়।

এ হাটে ঘোড়া কিনতে এসেছেন মেলান্দহ উপজেলার ঘোষের পাড়া ইউনিয়নের ছবিলাপুর গ্রামের বাসিন্দা মো. সুলতান। তিনি প্রাণের বাংলাদেশকে বলেন, ‘বিভিন্ন দামের ঘোড়া এখানে পাওয়া যায়। ভালো ঘোড়ার দাম অনেক। ৫০-৭০ হাজার টাকা মধ্যে ভালো ভালো ঘোড়া পাওয়া যায় এখানে। এ হাটে আমি কখনো ঘোড়া কিনি আবার কখনো বিক্রি করি।’

ঘোড়া কেনার জন্য শক্তি পরীক্ষার মাঠে বসেছিলেন শামীম মিয়া। তিনি বসে বিভিন্ন ধরনের ঘোড়া দেখছিলেন। তিনি বলেন, মালামাল পরিবহন করার জন্য তার একটি ঘোড়া প্রয়োজন। তাই তিনি এখানে বসে আছেন। এখানে টাট্টু, ঘুড়ি, খাসিসহ সব জাতের ঘোড়াই পাওয়া যায়। ঘোড়ার দাম মোটামুটি হাতের নাগালে বলেও জানান শামীম মিয়া।

হাট কমিটির কার্যকরী সদস্য মো. হাবেল উদ্দিন প্রাণের বাংলাদেশকে বলেন, ‘তুলসিপুরের এ হাটটি শুধু জামালপুরের নয়, বাংলাদেশের ঐতিহ্য। প্রতি হাটেই এখানে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ক্রেতা-বিক্রেতা আসেন। পরিবেশ পরিস্থিতি ভালো থাকলে ১৫০-২০০ ঘোড়া বিক্রি হয়। ক্রেতা-বিক্রেতারা যে যেমন নিরাপত্তা চান তাকে সেরকম নিরাপত্তা দেওয়া হয়।’

ঐতিহ্য ধরে রেখে প্রায় ৫০ বছর ধরে হাটটি পরিচালনা করা হচ্ছে বলে জানান হাট কমিটির সভাপতি ফারুক আহাম্মেদ।

জামালপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লিটুস লরেন্স চিরান বলেন, এটি জেলার একটি ঐতিহ্যবাহী হাট। ভবিষ্যতে এ হাটের উন্নতিকরণে উপজেলা প্রশাসনের চেষ্টা থাকবে।