রবিবার, ০৪ ডিসেম্বর ২০২২, ০৯:৫৮ অপরাহ্ন
Title :
বমনা থানায় মাদক-সন্ত্রাস নির্মূলে কঠোর ভূমিকায় ওসি বশির আলম কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক হলেন নীলফামারীর মোঃ রতন সরকার রূপসায় আওয়ামীলীগ নেতা ও সাংবাদিক বাবুর চাচার মৃত‍্যু, জানাজা সম্পন্ন শেরপুরে ৬ বছরের শিশু ধর্ষণ, প্রধান আসামি গ্রেপ্তার টাঙ্গাইলে ইট পোড়ানোয় ব্যবহৃত হচ্ছে বনের কাঠ : অবৈধ ১৪৮ ইটভাটার কার্যক্রম বন্ধ হয়নি মিরপুর ১ নাম্বারে প্রকাশ্যেই আবাসিক হোটেল আল মামুনের রমরমা মাদক ও নারী বাণিজ্য নরসিংদীতে ইউপি চেয়ারম্যানকে গুলি করে হত্যা স্কুল ছাত্রী মিমকে হত্যার অভিযোগে স্বামীর বিরুদ্ধে বিচারের দাবিতে শিববাড়ী মোড়ে মানববন্ধন বন্দরের ৭২তম প্রতিষ্ঠা বাষির্কীতে ইয়ামিন আলীকে সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান কুষ্টিয়ার থানাপাড়ায় বসতবাড়িতে ভয়াবহ অগ্নিকান্ড

দেশে যে যতবেশি ভন্ডামীর অভিনয় করছে সে হচ্ছে তত বড় ক্ষমতাবান প্রতারক

Reporter Name
  • Update Time : বৃহস্পতিবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২২
  • ৬ Time View

 

(দেশে মিথ্যার রাজত্ব চলে এখন, সত্য বড় ক্লান্ত, মিথ্যা বলা মানুষ গুলো সবার কাছে ভালো হলেও সত্যি বলা মানুষ গুলো হচ্ছে অপমানিত। যে যত বড় পাকা অভিনয় করে নিজের শয়তানি লুকিয়ে অন্যের উপর প্রভাব খাটাতে পারে সেই এখন ক্ষমতাধর।)

 

 

শের ই গুল :

 

বাংলাদেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে সকল প্রতারণার সাতকলা পূর্ণ হওয়ার পর নতুন এক প্রতারণার ভন্ডামী শুরু হয়েছে। প্রকৃত সত্যকে গোপন করে মিথ্যাকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য বিশাল অভিনয় করে জাতিকে কান্নাকাটি দেখিয়ে চোখের পানি ফেলে এসব বাস্তবের অভিনেতারা নিজেদের স্বার্থ হাসিলের লক্ষ্যে সিনেমা টেলিভিশনের প্রকৃত অভিনেতা ও অভিনেত্রীদেরকে হার মানাচ্ছে, এসব প্রতারকরা যে ঢাহা মিথ্যা কথা বলছে তা বুঝার ক্ষমতা বাংলাদেশের সাধারণ জনগণ ও প্রশাসনের নেই।

একটি সময়ে এসব প্রতারক ভন্ডদের মিথ্যা অভিনয় জাতির সামনে উন্মোচিত হলে সম্পূর্ণ বাংলাদেশের জনগণ নড়েচড়ে বসে।

সকলে নিঃশ্বাস ছাড়ে আর বলে, এটাও কি সম্ভব! সম্প্রতি মরিয়মের কান্নার আহাজারিতে যখন আকাশ বাতাস প্রকম্পিত হয়েছে, পরক্ষণে তার অভিনয়ের ছলাকলা প্রকাশ পেলে সকলের হয় আক্কেল ঘুরুম। অন্যদিকে গাজীপুরের বহিস্কৃত মেয়র জাহাঙ্গীরের রাজনৈতিক কান্না, ব্যবসায়ী প্রতারক সাহেদ সহ চট্টগ্রামের এসপি বাবুল আকতার এছাড়া দেশের সাধারণ জনগণের মধ্যে এক শ্রেণির ছোটলোক থেকে শুরু করে মধ্যবিত্ত-উচ্চবিত্ত সবাই কমবেশি অভিনয়ে পাকা।

যখন যে পারছে অভিনয় করে একজন অপরজনকে ঠকাচ্ছে। সাংবাদিক কিংবা বুদ্ধিজীবি, বড় বড় এমপি, মন্ত্রী, আমলা, চেয়ারম্যান, বিভিন্ন সরকারী বেসরকারী কর্মকর্তা, ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার সহ প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তা সহ র‌্যাব, আর্মি সহ নৌকার মাঝি, পার্কে বিক্রি করা ঝালমুড়িওয়ালা, ফেরি করে বিক্রি করা ফেরিওয়ালা সবাই এখন শিখেছে কিভাবে অভিনয় করে আরেকজনকে ঠকানো যায়। বিভিন্ন ইলেকট্রিক মিডিয়ার টেবিল বৈঠকে দেখ দেদার্সে বলছে মিথ্যা কথা জ্ঞান পাপীরা। তাদের কথা শুনে প্রকৃত অভিনেতারাও অভিনয় ভুলে যায়।

দোকানে যান কিংবা মার্কেটে ঝটপট ডেকে বলবে দোকানী আমার পণ্যই বাজারের সেরা। অথচ তার পণ্য সবচেয়ে পচাঁ। সুন্দর করে গুছিয়ে অভিনয় করে পচাঁ মাছটিও ক্রেতার ব্যাগে ভরে দিতে পারে মাছ বিক্রেতা। চাপড়াশি থেকে অফিসের বড় বাবু সবাই করছে অভিনয় ঘুষ খাওয়ার ছলে। সবচেয়ে বড় যে প্রতারণার অভিনয় সেটি হচ্ছে ভালোবাসার অভিনয়। পরকিয়া থেকে শুরু করে সর্বক্ষেত্রে একজন অপরজনকে মিথ্যা ভালোবাসা দেখিয়ে নিজের স্বার্থ হাসিল করছে প্রতিনিয়ত।

মাঝে মাঝে এসব মিথ্যা ভালোবাসা প্রকাশ পায় অবৈধ গর্ভধারণের খবরে। নিজের আপনজনকে নিজেই স্বার্থের জন্য খুন করে আবার লাশের পাশে বসে অভিনয় করে কান্না করছে। এমন দৃশ্য এখন নিত্য নৈমিত্তিক বিষয়ে দাঁড়িয়েছে। সবচেয়ে বড় চাপাবাজ এবং মিথ্যা ভালোবাসার হুংকার দিতে পারে রাজনৈতিক ব্যক্তিরা। তারা সবসময় বলে আমার জীবন যৌবন সবসময় জনগণের জন্য, আমার জীবনে আর কিছু চাইনা, এইবার সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হলে মৃত্যুর আগ মুহুর্ত পর্যন্ত আপনাদের সাথে আছি।

আমি ২২ বার পবিত্র উমরাহ হজ্জ¦ পালন করেছি। আল্লাহর কাছে কিছু চাইনি, বার বার আপনাদের খেতমতদার হতে চেয়েছি, কেউ কেউ আবার বলে এবার দূর্গা পূজায় মা দূর্গাকে বলেছি এবার নির্বাচিত হলে প্রত্যেক গ্রামে গ্রামে একটি করে মন্দির বানিয়ে দিবো। এরাই হচ্ছে রাজনৈতিক অভিনেতা। যখন যে দল ক্ষমতায় আসে কোন না কোনভাবে তাদের সাথে মিশে মিথ্যা তেল বাজি করে ভালোবাসা দেখিয়ে হায় মুজিব হায় মুজিব- হায় জিয়া হায় জিয়া- হায় হুসেন হায় হুসেন কায়দায় চাবুক নিজের পিঠে মেরে ভালোবাসার অতিমাত্রা প্রকাশ করে সবার নজরে আসতে চায়।

কথায় কথায় গাড়ীর বহর নিয়ে কবর জিয়ারতের নামে মিথ্যা ভালোবাসা দেখায়। তাদের আসল উদ্দেশ্য মিথ্যা ভালোবাসা দিয়ে ক্ষমতা পেয়ে টাকা কামানো ছাড়া অন্যকিছু নয়। সামনে সংসদ নির্বাচন এখন চলছে প্রতিশ্রুতি দেওয়ার ভালোবাসার কথা, একবার ক্ষমতায় আসার পর প্রতিশ্রুতির কথা কখনোই মনে থাকেনা। দেশে এই মিথ্যা ভালোবাসার প্রতারণার ছলনা বন্ধ করতে হবে। বর্তমান প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের থানা ও আদালতে যত মামলা চলমান আছে তার অর্ধেকেরও বেশি মিথ্যা অভিনয় দিয়ে কার্যকর করে প্রতিপক্ষকে হয়রানি করার জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে বোকা বানিয়ে এসব মামলার সৃষ্টি করেছে। দূর্নীতিবাজরা দেশের ক্ষতি করে নিজেদের ফায়দা হাসিল করে বিদেশে অর্থ পাচার করছে।

আবার এরাই সুন্দর অভিনয় করে জাতিকে বুঝিয়ে দেয় আমি আপদমস্তক একজন সৎ ব্যক্তি। এই বিষয় নিয়ে বিভিন্ন বিজ্ঞজনদের সাথে আলাপ করলে তারা দৈনিক আমার প্রাণের বাংলাদেশকে বলেন, কারো কথা শুনেই তাৎক্ষণিক বিচার করা যাবেনা, অনেক ভেবে চিন্তে বিচার বিশ্লেষণ করে সম্পূর্ণ যাচাই বাছাই করে বিষয়টি আমলে নিতে হবে। কারো মিথ্যা ভালোবাসার কান্নায় মন যেন গলে না যায়। প্রথমে সত্য উন্মোচন করতে হবে, তারপর ঘটনার সত্যতা পেলে উপযুক্ত ব্যবস্থা নিতে হবে।

অহরহ মিথ্যা অভিনয় প্রকাশ পেলে এবং জাতি ও গোষ্ঠী বিভ্রান্তির মধ্যে পড়লে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে। সে যত বড়ই ক্ষমতা ধর হোক সে আইনের আওতায় আসবেই। তাহলেই দেশে মিথ্যা অভিনয় বন্ধ হবে।

 

 

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
Headlines