Amar Praner Bangladesh

দৈনিক আমার প্রাণের বাংলাদেশের সংবাদের ভিত্তিতে উত্তরখানে অবৈধ জুস ফ্যাক্টরীতে র‌্যাবের অভিযান

 

প্রাণের বাংলাদেশ ডেস্ক :

 

খাবার মানুষের জীবনের একটি মূল্যবান অধ্যায়। খাবার ছাড়া বাঁচতে পারে পৃথিবীতে এমন কোন প্রাণী নেই। সৃষ্টিকর্তা প্রাণীকুলের জন্য নিয়ামত স্বরূপ দিয়েছেন বিশুদ্ধ খাবার। কিছু জানোয়ার সাদৃশ্য মানুষ এই খাবারকে নকল করে রাসায়নিক দ্রব্য মিশিয়ে খাবারের পরিবর্তে খাওয়াচ্ছে বিষ।

রাজধানীর উত্তরখান দক্ষিণখানে ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে উঠেছে জুস ফ্যাক্টরী সহ অনেক প্রকার খাবারের কারখানা। তাদের মধ্যে অন্যতম টপ চিপস চানপাড়া, উত্তরখান, ঢাকা। এই কারখানার ভিতরে প্রবেশ করতেই মেজেতে ছাপ ছাপ কালো দাগ। এখানে সেখানে ফেলা মানুষের থুথু, উন্মুক্ত টয়লেট থেকে আসছে বিকট দুর্গন্ধ। এরকম পরিবেশে তৈরি হচ্ছে ক্যামিকেল মিশানো ম্যাংগো ফ্লেভারে বিভিন্ন প্রকার নামিদামী জুস। এই কারখানার মালিক পরিচয়ে একজনের গলাবাজি আপনারা কিসের সাংবাদিক, আপনাদের চেয়ে বড় বড় সাংবাদিক আছে। তারা নাম্বার দিয়ে যায়, তাদের সাথে দেখা সাক্ষাৎ হয়।

তাছাড়া স্থানীয় প্রশাসন সহ অনেক সাংবাদিককে আমি পালি। ক্রাভ চকলেট কারখানা, মাষ্টারপাড়া, কলাবাগান, উত্তরখান। শুকরিয়া বেকারী, কুড়িপাড়া বড়বাগ, উত্তরখান, ঢাকা। এই কারখানা ও ফ্যাক্টরী গুলোতে অস্বাস্থ্যকর জুস ও বিভিন্ন বেকারী আইটেমের খাবার তৈরি হয়।

এসব কারখানার অনিয়ম নিয়ে দৈনিক আমার প্রাণের বাংলাদেশে সংবাদ প্রকাশ হলে সংবাদের ভিত্তিতে ২৯/০৮/২০২২ ইং র‌্যাব-১ পূর্বাচল রূপগঞ্জ নারায়ণগঞ্জের সিপিসি-৩ এর একটি চৌকস দল লে. কমান্ডার মির্জা সাহেব মাহতাবের নেতৃত্বে নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মোঃ মাজহারুলকে নিয়ে অভিযান চালিয়ে যথাক্রমে টপ চিপস কারখানাকে ৩ লক্ষ টাকা জরিমানা করে এবং ক্রাপ চকলেট কারখানাকে ৩ লক্ষ টাকা জরিমানা, সেই সাথে শুকরিয়া বেকারীকে ২ লক্ষ টাকা জরিমানা করে এবং বিভিন্ন সরঞ্জামাদি, সিসি ক্যামেরা সহ কাগজপত্র জব্দ করে। র‌্যাবের অভিযানের পর টপ চিপসের ০১৮৭৪-৩৯২২২৪ এই নাম্বার দিয়ে ফোন করে দৈনিক আমার প্রাণের বাংলাদেশের সিনিয়র ফটো সাংবাদিক এ আর মজিদ শরীফকে হুমকির সাথে কথা বলে।

শুধু এই জুস ফ্যাক্টরী নয়, উত্তরখান দক্ষিণখানে অলিতে গলিতে লোক চক্ষুর আড়ালে ঘাপটি মেরে চালাচ্ছে অসাধু ব্যবসায়ীরা অবৈধ কারখানা। মাঝে মাঝে ম্যাজিষ্ট্রেট এবং আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও র‌্যাব এসে এদেরকে আইনের আওতায় আনলেও আবার ফাঁক ফোকড় দিয়ে বেরিয়ে স্থান পরিবর্তন করে চালায় এই অবৈধ ব্যবসা। এসব ভেজালকারীদের বিরুদ্ধে আরো কঠিন আইন করে কঠোরতম ব্যবস্থা নেওয়া এখন সময়ের দাবী।

উত্তরখান থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুল মজিদ ইতিমধ্যে তার থানা এলাকা থেকে মাদক কারবারী ও ভেজালকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কারণে অপরাধীদের অবৈধ কারবার অনেকটাই কমে এসেছে। তারপরেও অপরাধীরা তাদের অবৈধ কাজ গোপনে বিভিন্ন পন্থায় চালালে বিশেষ সংবাদের পরিপ্রেক্ষিতে প্রশাসন অভিযান চালিয়ে এদেরকে আইনের আওতায় এনে বিচারের মুখোমুখি করার কারণে এসব অবৈধ ব্যবসা অনেকটাই মুখ থুবড়ে পড়েছে।