Amar Praner Bangladesh

দ্বিতীয় স্ত্রীকে হত্যার দায়ে স্বামীর যাবজ্জীবন

 

 

হাসনাত রাব্বু, কুষ্টিয়া জেলা প্রতিনিধি :

 

কুষ্টিয়ায় দ্বিতীয় স্ত্রী সাথী খাতুনকে হত্যা পর পানিতে ডুবিয়ে লাশ গুম করার চেষ্টার দায়ে স্বামী জহুরুল ইসলামকে(৫০) যাবজ্জীবন কারাদন্ড দিয়েছে আদালত। একই সাথে ২৫ হাজার টাকা অর্থদন্ড অনাদায়ে আরো ১ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়।

সেই সাথে মৃতদেহ গুম করার চেষ্টার অপরাধে আরো ৭ বছরের কারাদন্ড দেয়া হয়। দণ্ডপ্রাপ্ত জুহুরুল ইসলাম কুষ্টিয়া সদর উপজেলার জুগিয়া ভাটা পাড়া এলাকার আহসান উল্লাহ কারিগরের ছেলে। অপরাধ প্রমানিত না হওয়ায় মামলার অপর এক আসামীকে বেকসুর খালাস করে দেন আদালত।

বৃহস্পতিবার বেলা ২ টার দিকে কুষ্টিয়ার অতিরিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মোঃ তাজুল ইসলাম এই রায় ঘোষনা করেন। রায় ঘোষনার সময় দন্ডপ্রাপ্ত আসামি জহুরুল আদালতে উপস্থিত ছিলেন, পরে তাকে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়। কুষ্টিয়া জজ আদালতের পিপ এ্যাডঃ অনুপ কুমার নন্দী এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।

মামলা নথি এবং আদালত সুত্রে জানাযায়, ২০১২ সালের ১০ আগষ্ট কুষ্টিয়া শহরের পশ্চিম মজমপুর এলাকার একটি পুকুর থেকে একটি অজ্ঞাত নারীর মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। মৃতদেহে গলায় গামছা জড়ানো এবং পায়ে কলস বাধা ছিলো।

আরো জানা যায়, অভাবের তাড়নায় বন্ধুর সাথে কাজের সন্ধানে ঢাকার উদ্দেশ্যে যায় কুষ্টিয়া সদর উপজেলার জুগিয়া ভাটা পাড়া এলাকার আহসান উল্লাহ কারিগরের ছেলে জহুরুল। সেখানে গিয়ে সে একটি ছোট্ট দোকানে কাজ শুরু করেন। সেখানে জুহুরুলের সাথে পরিচয় হয় গার্মেন্টস কর্মী সাথি খাতুনের সাথে। নিজের স্ত্রী-সন্তান থাকার পরও জুহুরুল গোপনে বিয়ে করেন সাথি খাতুনকে।

এই কথা জহুরুলের আগের স্ত্রী জানতে পারলে গোপনে সাথীকে না বলে কুষ্টিয়ায় চলে আসে জহুরুল। সাথিও জুহুরুলের খোঁজে কুষ্টিয়াতে আসে। তারা গোপন পশ্চিম মজমপুরে একটি বাসা ভাড়া করে থাকতে শুরু করে। ঘটনার দিন টাকা নিয়ে সাথির সাথে জহুরুলের ঝগড়া বিবাদ হয়।

এসময় জহুরুল ক্ষিপ্ত হয়ে গামছা দিয়ে সাথির গলায় ফাঁস দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। পরে মৃতদেহ গুমকরার জন্য হাত পা বেঁধে পায়ে কলস বেধে রাতের আধারে সাথীর মৃতদেহ পুকুরে ডুবিয়ে দেয়।

এই ঘটনায় কুষ্টিয়া মডেল থানার উপ-পরিদর্শক আজিজুল ইসলাম বাদী হয়ে অজ্ঞাত ব্যাক্তিদের নামে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার দীর্ঘ তদন্ত শেষে জহুরুলকে অভিযুক্ত করে মামলা চুড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই নাজমুল ইসলাম।

দীর্ঘ শুনানি শেষে এবং স্বাক্ষীদের সাক্ষ্য প্রমাণের ভিত্তিত্বে বৃহস্পতিবার মামলার ওই রায় ঘোষনা করেন আদালত।