Amar Praner Bangladesh

ধনুষ্টংকারের মতো ছড়াচ্ছে সুন্দরী মডেলদের আতঙ্ক

 

শের ই গুল :

 

সম্প্রতি বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ সরকার শুদ্ধি অভিযানে নামলে একের পর এক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে গ্রেফতার হয় বিভিন্ন অপরাধের সাথে জড়িত সুন্দরী মডেলরা। এদের মধ্যে কেউ কেউ রাজনৈতিক অঙ্গনে নিজেদের রাজনৈতিক নেত্রী হিসেবে পরিচয় দিয়ে আবার কোন ভাবে রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রবেশ করে অপরাধের সম্রাজ্য তৈরি করেছে।

পাপিয়া, স্বর্ণা, হেলেনা জাহাঙ্গীর, মরিয়ম আক্তার মৌ, ফারিয়া মাহবুব পিয়াসা সহ অনেক মডেল ও বিভিন্ন সুন্দরী প্রতারক চক্র ইতিমধ্যে র‌্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন টিম এবং ডিবি ও পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়েছে। তাদেরকে বিভিন্ন মেয়াদে রিমান্ডে এনে চাঞ্চল্যকর তথ্য উদঘাটন করেছে প্রশাসন।

এসব অপরাধী সুন্দরী নারীদের নিকট থেকে বিপুল সংখ্যক মাদক ও ক্যাসিনো সরঞ্জাম সহ অনেক কিছু উদ্ধার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। ধনুষ্টংকারের মতো সুন্দরী মডেলদের অপরাধ ছড়িয়ে পড়ছে সারাদেশে। এতো গেল বড় লোক সুন্দরী মডেলদের বিভিন্ন কাহিনী যা বর্তমানে বাংলাদেশে বিভিন্ন মিডিয়ায় নিত্য নতুন ভাবে সংবাদ হয়ে আসছে। অন্যদিকে রাজধানী সহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বায়িং হাউজ সহ এমএলএম কোম্পানী ও বিশেষ কিছু সাংবাদিক অফিসের পাশাপাশি অনলাইন নিউজ পোর্টালের অন্তরালে সুন্দরী মেয়েদেরকে দিয়ে অনেক ব্যবসায়ীদের ফাঁদে ফেলে অভিনব কৌশলে দীর্ঘদিন যাবৎ প্রতারণা করে আসছে একটি চক্র।

এসব সুন্দরী নারী দিয়ে তৈরি করা হয় ফাঁদ। সেই ফাঁদে পড়ে সর্বস্ব হারাতে হয় ভুক্তভোগীদের। নারীরা নিজেদের বড় ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচয় দেয়। আবার কখনো ব্যবসায়ী-শিল্পপতির মেয়ে-ভাগ্নি দাবি করে। চলাফেরাও করে দামি গাড়িতে। পোশাকে, চলনে থাকে আভিজাত্যের ছাপ। তাদের টার্গেট বিত্তশালীরা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সখ্য গড়ে তোলে।

মোবাইল ফোন নম্বর সংগ্রহ করে যৌ’ন উত্তেজক কথা বলে। বশে আনার জন্য নানা কৌশল অবলম্বন করে। লোভ দেখানো হয় একান্ত আপন করে পাবার। আয়োজন করা হয় ঘরোয়া পার্টির। আমন্ত্রণ জানানো হয় টার্গেট করা ব্যক্তিদের। সেখানে ইয়াবা, মদের আসর বসানো হয়। টার্গেট করা ব্যক্তিকে নে’শার জালে ফেলে তারা তাদের প্রকৃত পরিচয় দেয়।মূলত তারা প্র’তারক চক্র।

একজন নয় একাধিক নারী-পুরুষ এসব প্র’তারক চক্রে কাজ করে। নে’শায় মত্ত থাকা পুরুষদের বি’বস্ত্র করে ছবি তুলে।এমনকি চক্রের নারী সদস্যরাও বি’বস্ত্র অবস্থায় ভুক্তভো’গীকে জ’ড়িয়ে ধরে। বিছানায় নিয়ে আপত্তিকর অবস্থায় ভিডিও ধারণ করে। অনেক সময় গোপন ক্যামেরায় দৃশ্য ধারণ করা হয়। ধারণ করা এসব ভিডিও ও ছবি দেখিয়ে পরে ভুক্তভো’গীর সঙ্গে করা হয় নানা প্র’তারণা। এসব দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ করে দেয়ার হু’মকি দিয়ে হাতিয়ে নেয়া হয় বিপুল পরিমাণ অর্থ।

সম্প্রতি মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ অভিযান চালিয়ে এরকম একটি প্র’তারক চক্রকে গ্রে’প্তার করেছে। গোয়েন্দা সূত্র জানিয়েছে, বেশ কয়েক মাস ধরে একটি চক্র সমাজের বিত্তশালী লোকদের টার্গেট করে প্র’তারণা করছিলো।নারী দিয়ে ফাঁ’দ তৈরি করে অনেককে করেছে সর্বস্বান্ত। গোপনে ধারণ করা ভিডিও প্রতারক চক্রের কাছে থাকায় মান সম্মানের ভয়ে মুখ খোলে তারা কাউকে কিছু বলতে পারছিলো না। আবার অন্যদিকে দিনের পর দিন প্রতারক চক্রকে টাকা দিতে হয়েছে। একাধিক ব্যক্তির কাছ থেকে এরকম অ’ভিযোগ আসার পর গোয়েন্দারা এ নিয়ে কাজ শুরু করে।

কিন্তু কিছুতেই এই প্রতারক চক্রকে আ’টক করা যাচ্ছিলো না। কারণ তারা একই ঠিকানায় বেশিদিন থাকে না।আ’ইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের ফাঁ’কি দিতে একটি বাসায় কিছু মানুষের সঙ্গে প্র’তারণা করে অন্যত্র চলে যায়। তাই তাদের অবস্থান শনাক্ত করা বেশ কঠিন হয়ে পড়ে। এরকম নানা অ’ভিযোগ আসার পর গোয়েন্দা পুলিশের কয়েকটি টিম প্র’তারক চক্রকে আ’টকের জন্য কাজ শুরু করেন। কোম্পানির সুযোগ-সুবিধা সংবলিত বিভিন্ন কাগজপত্র দেখার জন্য একজনকে বাসায় আমন্ত্রণ জানায়।

কোম্পানির স্বার্থেই তিনি ওই নারীর আমন্ত্রণে তার টঙ্গীর বাসায় গিয়ে উপস্থিত হোন। বাসায় গিয়ে ওই কর্মকর্তা প্রথমে শুধু একজন নারীকে দেখতে পান।তারপর দরজা বন্ধ করার পর ভেতর থেকে বের হয়ে আসে কয়েকজন পুরুষ। একপর্যায়ে তারা তাকে মা’রধর শুরু করে। বি’বস্ত্র করে ছবি তোলে। নিম্নাঙ্গে ইট বেঁধে নি’র্যাতন করে। এক নারী সদস্য বি’বস্ত্র হয়ে তাকে জ’ড়িয়ে ধরে। এরকম অবস্থায় পুরুষ সহযোগীরা ভিডিও ধারণ করে। তার কাছে থাকা সমস্ত টাকা, এটিএম কার্ড ছিনিয়ে নেয় তারা। ধারণ করা ভিডিও ছড়িয়ে দেয়ার হু’মকি দিয়ে তার স্বজনদের কাছ থেকে বিকাশে আনে আরো টাকা।একপর্যায়ে তাকে ছেড়ে দেয়া হয় এবং মুখ খুললে রেখে দেয়া ভিডিও ও ছবির হু’মকি দেয় তারা।

এরকম প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে টঙ্গীসহ আরো কয়েকটি থা’নায় মা’মলা ছিল।প্র’তারণার শিকার হওয়া ভুক্তভো’গীদের অভিযোগ পাওয়ার পর থেকে আমরা তাদের শনাক্ত করে আটকের চেষ্টা করি। কিন্তু তারা ঘন ঘন ঠিকানা পরিবর্তন করার কারণে আটক করা একটু কঠিন হয়ে পড়ে। তারপরও আমাদের নজরদারি তাদের ওপর অব্যাহত ছিল। গত কিছুদিন পূর্বে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে জানতে পারি তাদের অবস্থান দক্ষিণখান থানাধীন ফায়েদাবাদ ছাপড়া মসজিদের পার্শ্ববর্তী ১৫৮/৫৯ নম্বর বাসার ৬ তলার একটি ফ্ল্যাটে।

ওইদিন বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে আমরা অ’ভিযান চালাই।ওই বাসায় গিয়ে নক করলে ভেতর থেকে কেউ দরজা খুলছিলো না। আমরা অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকার পর হঠাৎ একটি শব্দ পাই। তখন নিচে দাঁড়িয়ে থাকা আমাদের সদস্য জানান যে, তারা ছয়তলা থেকে গ্রিল বেয়ে পালিয়ে যাচ্ছে। তখন আমরা নিচে গিয়ে দেখতে পাই দুজন পালিয়ে গেছে।আর এক নারী উপর থেকে নামতে গিয়ে নিচে পড়ে আহত হন।

এসময় উপরে থাকা আরেকজনকে আমরা গ্রে’প্তার করি। আহত ওই নারীকে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করি। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মা’রা যান। সাকলায়েন বলেন, যে নারী নি’হত হয়েছেন তার নাম রীনা (৩০)। আর যাকে গ্রে’প্তার করেছি তার নাম আরমান (৩৬)। আরমান নি’হত নারী রিনাকে তার স্ত্রী হিসেবে দাবি করছেন। এই প্র’তারক চক্রের বি’রুদ্ধে চক বাজার থা’নায় মা’মলা থাকার কারণে ত’দন্ত গোয়েন্দা পুলিশের লালবাগ জোন করবে বলে জানান তিনি। তাই তাদের কাছে আ’সামিকে হস্তান্তর করা হয়েছে।

এভাবে একেরপর এক অভিনব কায়দায় রাজধানী সহ সারাদেশে চলছে সুন্দরী নারীদের প্রতারণা। অনেক ভুক্তভোগীরা তাদের সম্মানের কথা চিন্তা করে সুন্দরী তরুণীদের দ্বারা প্রতারিত হয়েও মুখ খোলেনা।