Amar Praner Bangladesh

ধর্মপাশায় ১৪৪ ধারা জারী

সেলিম আহম্মেদ, হাওরাঞ্চল প্রতিনিধি:
সুনামগঞ্জের ধর্মপাশায় একই দিনে বিএনপি ও ছাত্রদলের সমাবেশকে ঘিরে এলাকায় দুই গ্রুপের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দিলে সংঘাত এড়াতে সভাস্থল এলাকায় ১৪৪ ধারা জারী করেছেন উপজেলা প্রশাসন।
গতকাল সোমবার ভোর ৬টা থেকে শুরু করে রাত ১২টা পর্যন্ত সভাস্থল উপজেলার গোলকপুর বাজার ও আশ-পাশের এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে মর্মে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকিং করে জানানো হয়েছে।
জানা গেছে, সোমবার সকাল ১১টার দিকে উপজেলার গোলকপুর বাজারে এক ছাত্র গন-সমাবেশের আয়োজন করে উপজেলা ছাত্র দলের নেতা-কর্মীরা। ওই ছাত্র গণ সমাবেশে বাধা দেয়ার লক্ষে একই দিনে একই স্থানে বিএনপির সংস্কারপন্থী নেতা হিসেবে পরিচিত নজীর হোসেনের সমর্থিত কিছু নেতা-কর্মীরাও সদস্য সংগ্রহের নাম করে পাল্টা সমাবেশের আয়োজন করে। পরে এ নিয়ে দুই গ্রুপের নেতা-কর্মীদের মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করলে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ওই সভাস্থলসহ গোলকপুর বাজারের আশপাশ এলাকায় ১৪৪ ধারা জারী করা হয়।
এব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মামুন খন্দকার বলেন, বিএনপির দুই গ্রুপে নেতা-কর্মীদের মধ্যে চলা সংঘাত এড়াতেই গোলকপুর বাজারসহ সভাস্থলে ১৪৪ ধারা জারী করা হয়েছে।
এদিকে সোমবার দুপুরে উপজেলা বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে এ উপলক্ষে অনুষ্টিত এক সংবাদ সম্মেলণে
১/১১ সংস্কারপন্থী নেতা নজীর হোসেনকে দোষারোপ করে বলেন, দলের সাথে যে বেঈমানী করে সে কোনো দিন ভাল হতে পারেনা। নেতারা বলেন, ১/১১ পর থেকেই বিএনপির সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা ডাক্তার রফিকুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে সুনামগঞ্জ-১ আসনে আমরা বিএনপিকে তৃণমূল পর্যায়ে শক্তিশালী করে গড়ে তোলেছি।  এতে করে আমরা তার নেতৃত্বে রাজনীতী করতে গিয়ে এই আওয়ামীলীগ সরকারের নেতা-কর্মীদে দায়েরকৃত একাধিক মিথ্যা মামলায় আসামী হয়ে আমাদেরকে কারাবরণ করতে হয়েছে। কিন্তু যে বিএনপি নেতা ১/১১ সময়ে দলের সাথে বেঈমানী করে সংস্কারপন্থী হিসেবে দেশব্যাপী পরিচিতি পেয়েছে আজ তাকে দলের চেয়ারপার্সন ক্ষমা করে দিলেও তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা তাকে মেনে নিতে পারছেননা। নেতা নজীর হোসেনের নাম উল্লেখ করে আরো বলেন, কয়লা ধূইলে যেমন ময়লা যায না ঠিক তেমনি নজীর হোসেনেরও চরীত্র বদলায়নি। তিনি দলীয় প্রধানের ক্ষমা পাওয়ার পর কোনো দিন এলাকায় আসেননি বা উপজেলা থেকে শুরু করে দলের তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের সাথে কোনো  যোগ না রেখে তিনি এক-এগারোর পর থেকে যাদের সাথে যোগাযোগ করে আসছিলেন এখনো তিনি তাদের সাথেই যোগাযোগ রক্ষা করে যাচ্ছেন। তিনি এখনো বিএনপিকে ধ্বংসের কাজে লিপ্ত রয়েছেন। আর না হয় আমাদের উপজেলা ছাত্রদলের পূর্ব ঘোষিত ছাত্র গণ সমাবেশের স্থলে উপজেলা বিএনপির কোনো নেতার সাথে যোগাযোগ না করেই তিনি তার এক-এগারোর সাথীদের নিয়ে ছাত্রদলের এ কর্মসূচীকে বানচাল করার জন্য একই স্থানে আরেকটি সমাবেশের আহবান করেন।
সংবাদ সম্মেলণে  উপজেলা বিএনপির সাবেক সহ সভাপতি আফসার আলম চন্দন পীর, সাধারণ সম্পাদক ইসতিয়াক হোসেন চৌধুরী স্বপন,উপজেলা ভাইস চেযারম্যান ও বিএনপি নেতা মো. মোসাহিদ তালুকদার, বিএনপি নেতা মজিবুর রহমান মুজুমদার, আব্দুল মতিন মির্জা, আব্দুল লতিফ, এমএ কালাম আজাদ, আওলাদ হোসেন তালুকদার,যুবদর নেতা আব্দুল হেকিম, কামরুল হাসান, ছাত্রদল নেতা ওবায়দুর রহমান মুজুমদারসহ প্রায় শতাধিক নেতা-কর্মী উপস্থিত ছিলেন।