Amar Praner Bangladesh

ধামরাইয়ে বাল্য বিবাহ সংগঠিত করায় বর কনের পরিবারকে জেল জরিমানা

 

 

আাসিফ বাবু :

 

ঢাকার ধামরাইয়ে ঈশিতা আক্তার (১৫) নামে নবম শ্রেণীর এক ছাত্রীর বাল্যবিয়ের ঘটনায় কনের মাকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করার পরও বরের বাড়িতে ফের বিয়ের আয়োজন করায় গত শুক্রবার রাতে বরের বাবা মধু মোল্লাকে আটকের পর ১ মাসের কারাদন্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমান আদালত। একই সঙ্গে দৌড়ে পালিয়ে যাওয়ায় বর সাইফুল ইসলামকে এক বছর ও কনের বাবা মনির হোসেন মনুকে ৬ মাসের কারাদন্ড দেওয়ার আদেশ দিয়েছেন ভ্রাম্যমান আদালতের বিচারক নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফারজানা আক্তার।

ধামরাই উপজেলার সুয়াপুর ইউনিয়নের ভুবননগর গ্রাম ও কুরঙ্গী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ধামরাইয়ের সুয়াপুর ইউনিয়নের ভুবননগর গ্রামের মনির হোসেন মনুর মেয়ে সূয়াপুর দাখিল মাদ্রাসার নবম শ্রেণীর ছাত্রী ঈশিতা আক্তারের সঙ্গে একই ইউনিয়নের কুরুঙ্গী গ্রামের মধু মোল্লার ছেলে সৌদি প্রবাসী সাইফুল ইসলামের সঙ্গে বিয়ের দিন ছিল বৃহস্পতিবার।

বিয়ের সকল আয়োজনও করা হয় এবং বর আসার আগেই কনের বাড়িতে হাজির হন ধামরাই উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ভ্রাম্যমান আদালতের বিচারক ফারজানা আক্তার। ওইসময় কনের বাবা বাড়ি থেকে পালিয়ে যাওয়ায় কনের মা আম্বিয়া খাতুনকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় এবং মেয়ের বাল্যবিয়ে না দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।

এরপরও ভ্রাম্যমান আদালতের নির্দেশ অমান্য করে গত শুক্রবার বরের বাড়িতে ফের বিয়ের অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। পরে সন্ধ্যায় খবর পেয়ে ভ্রাম্যমান আদালতের বিচারকের নির্দেশে থানা পুলিশ ও স্থানীয় গ্রাম পুলিশ কনে ও বরের বাড়িতে অভিযান চালায়।

এ সময় বর ও কনের বাবা পালিয়ে গেলেও বরের বাবা মধু মোল্লাকে আটকের পর ধামরাই উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভুমি) কার্যালয়ে হাজির করা হয়। এসময় ভ্রাম্যমান আদালতের বিচারক ফারজানা আক্তার বরের বাবাকে ১১ মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ড দেন। পরে তাকে রাত আটার দিকে ধামরাই থানায় সোপর্দ করা হয়।

ধামরাই উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভুমি) ভ্রাম্যমান আদালতের বিচারক ফারজানা আক্তার বরের বাবাকে এক মাসের কারাদন্ড এবং পালিয়ে যাওয়া বরকে এক বছর ও কনের বাবাকে ৬ মাসের কারাদন্ডের আদেশ দেন। তাদের গ্রেপ্তারের পর কারাদন্ডের আদেশ কার্যকর করা হবে বলে তিনি সাংবাদিকদের জানান।