Amar Praner Bangladesh

ধামরাইয়ে মাদক ব্যবসায়ী যুবকের লাশ উদ্ধার

 

 

আসিফ বাবু :

 

র‌্যাবের ক্রসফায়ারে নিহত ঢাকার সাভারের কুখ্যাত মাদক সন্ত্রাসী মোন্নার মাদক সাম্রাজ্য আধিপত্য বিস্তার নিয়ে মঙ্গলবার রাতে ধামরাইয়ে খুন হয়েছে আমিনুল ইসলাম নামে এক মাদক ব্যবসায়ী। খুনের পর মরদেহ গুঁম করা হয়। বুধবার বিকালে এক ইউপি চেয়ারম্যানের ইটভাটার পাশে থেকে ওই মাদক ব্যবসায়ীর মরদেহ উদ্ধার করেছে ধামরাই থানার সঙ্গীয় ফোর্সসহ এসআই মোঃ জসীম উদ্দিন ও এসআই মোঃ রাসেল ফকির। এ হত্যাকান্ডের ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার নান্নার এলাকায়।

মঙ্গলবার দুপুরে এসআই কাওছার পরিচয়ে এক ব্যক্তিকে নিয়ে ওই মাদক ব্যবসায়ীর স্ত্রী শিল্পী আক্তার তাকে বাড়ী থেকে ধরে নিয়ে আসে। বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে ধামরাইয়ের নান্নার বাজারের মুসলিম ম্যারেজ রেজিষ্ট্রার ও কাজী মোঃ নুরুল ইসলামের কাছে খোলা তালাক সস্পাদন করা হয়। বুধবার বিকালে মরদেহ উদ্ধারের পর ছুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি শেষে ময়না তদন্তের জন্য রাজধানীর হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। এটনায় হত্যা মামলা দায়ের প্রক্রিয়াধীন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মানিকগঞ্জ জেলার সিঙ্গাইর উপজেলার শাহরাইলের কুখ্যাত মাদক সন্ত্রাসী মোন্না ও তার স্ত্রী শিল্পী আক্তার মিলে ঢাকার সাভারে এসে গড়ে তুলে মাদকের বিশাল সাম্রাজ্য। এলাকাবাসী অতিষ্ঠ হয়ে গেলে বিষয়টি র‌্যাপিড অ্যাকশান ব্যাটালিয়ন আমলে নেয়। এরপর র‌্যাবের ক্রসফায়ারে নিহত হয় মাদক সম্রাট মোন্না।

এরপর তার স্ত্রী শিল্পীকে বিয়ে করে স্থান পরিবর্তন করে ধামরাইয়ের নান্নার এলাকায় এসে মাদকের সাম্রাজ্য গড়ে তুলে মোন্নার সেকেন্ড ইন কমান্ড সাভার পৌরসভার গেন্ডা মহল্লার ইব্রাহিম মিয়া ছেলে মাদক ব্যবসায়ী আমিনুল ইসলাম। শিল্পীর বোনের ছেলে নান্নার গ্রামের বাসিন্দা জাফর ইকবাল ও ভগ্নিপতিকে নিয়ে যুক্তভাবে মাদক ব্যবসা চালায়।

সম্পতি এ মাদক সাম্রাজ্যের আধিপত্যকে কেন্দ্র তাদের মাঝে চরম বিরোধের সৃষ্টি হয়। আমিনুল ইয়াবার বড় একটি চালান নিয়ে সাভার পৌরসভার গেন্ডা মহল্লায় নিজ বাড়ীতে পাড়ি জমায়। এরই জেরে শিল্পীর প্রথম স্বামীর বড় ছেলে জহিরুল ইসলাম আমিনুল ইসলামের মোবাইল ফোনে মঙ্গলবার একটি এসএমএস পাঠিয়ে হত্যার হুমকী দেয়।

এরপর দুপুর ২টার দিকে একটি হাইয়েজ গাড়ীতে করে এসআই কাওছার পরিচয়ে একব্যক্তি,মাদক সম্রাজ্ঞী শিল্পী আক্তার,ছেলে জহিরুল ইসলাম ও শিপলু মিয়া মাদক ব্যবসায়ী আমিনুল ইসলামের বাড়ীতে যায়। এরপর আমিনুল ইসলামকে ওই হাইয়েজ গাড়ীতে তুলে ধামরাইয়ের নান্নার দক্ষিণপাড়া শিল্পীর ভগ্নিপতি মজিবর রহমানের বাড়ীতে নিয়ে আসে। ঘরের ভেতর আটকে রেখে তাকে মারধর করা হয় তালাক প্রদানের জন্য। একপর্যায়ে সে তালাক প্রদানে রাজি হয়।

এররপ নান্নার বাজারের মুসলিম ম্যারেজ রেজিষ্ট্রার ও কাজী মোঃ নুরুল ইসলামকে কমিশন করে ওই বাড়ীতে এসে খোলা তালাক সম্পাদন করে। মাদক ব্যবসায়ী আমিনুল ইসলাম বারি যাওয়ার উদ্দেশ্যে নান্নার বাজার হরিপদ স্টেশনারি দোকানের সামনে। এসময় জাফর ইকবাল ও মজিবর রহমান তাকে মোটরসাইকেলে তুলে নিয়ে যায়।

রাত ৮টা ৩০ মিনিটে তার মায়ের কাছে শেষ ফোন করে। সে জানায়,মা তুই আমার দুধের দাবী ছাইড়া দে। ওরা আমাকে বাঁচতে দেবোনা,আমাকে মেরে ফেলবে। পারলে সাভার থানায় গিয়ে একটি জিডি কর মা।

মাদক ব্যবসায়ী আমিনুলের মা আমেনা বেগম বলেন,আমার বাবাকে এসআই কাওছার পরিচয়ে ধরে নিয়ে আসে। আমি হারালাম আমার বুকের মানিক কে বাচতে দিল না ওরা। এরপর আর কোন কথা হয়নি। আজ আমার বাবার লাশ উদ্ধার হল।

এব্যাপারে এসআই মোঃ রাসেল ফকির বলেন,খবর পেয়ে বুধবার বিকালে আমিনুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এব্যাপারে মামলা প্রক্রিয়াধীন। তদন্ত সাপেক্ষে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। হত্যাকারীরা আত্মগোপন করে শেষ রক্ষা পাবেনা।