Amar Praner Bangladesh

নাজিরপুরে চার গ্রামের ৩০ হাজার মানুষ ঝুঁকি নিয়েই পারাপার করছে চার শত ফুট লম্বা বাঁশের সাঁকো

 

 

আল-আমিন হোসাইন, পিরোজপুর প্রতিনিধিঃ

 

পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার মাটিভাঙ্গা ইউনিয়নের বরইবুনিয়া গ্রামের মরা বলেশ্বর নদের ওপর ৪’শত ফুট লম্বা একটি বাঁশের সাঁকো দিয়ে চার গ্রামের প্রায় ৩০হাজার মানুষ ঝুঁকি নিয়েই সাঁকোটি পারাপার করছে। বিশেষ করে বিদ্যালয়গামী শিক্ষার্থী ও বৃদ্ধরা বাঁশের সাঁকোটি পারাপার করতে গিয়ে সমস্যায় পড়ছেন হরহামেশা। প্রায় ৩৫বছর ধরে একটি ব্রীজের আশায় থাকলেও গ্রামবাসীর কাছে তা অধরাই রয়ে গেছে।

জানা গেছে, গ্রামবাসীরা নিজস্ব উদ্যোগে স্বাধীনতার পর থেকে বাঁশের সাঁকো তৈরি করে গুরুত্বপূর্ণ এই যোগাযোগ ব্যবস্থাকে সচল রেখেছেন। এ ব্যাপারে বরইবুনিয়া এলাকার ডাঃ মো. নুরুল আলম বলেন, আশির দশকের কিছু আগে নদীটির নাব্যতা হারালে তৎকালিন চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ এবিএম রেজাউল করিম এলাকাবাসির সহয়তায় এই সাঁকো তৈরির উদ্যোগ নেন। সেই থেকে এলাকাবাসী এর ধারক ও বাহক। বহু দূর্ঘটনা ঘটেছে। সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। কিন্তু কোন প্রতিকার মিলছে না। সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে প্রায় ৩’শতাধিক বাঁশ দিয়ে তৈরি করা হযেছে এ সাঁকোটি। বর্য়ার ভরা মৌসূমে পানিতে তলিয়ে যায়। বাঁশে পচন ধরে কখনো কখনো দূর্ঘটনার কবলে পড়েন স্থানীয়রা। স্কুলগামী শিক্ষার্থীরা পরেন চরম বিপাকে।

স্থাণীয়রা জানান, প্রায়ই সাঁকোটি ভেঙ্গে তিন-চার দিন থেকে সপ্তাহ খানেক পর্যন্ত পারাপারের অচল হয়ে পরে। জোড়া তালি দিয়ে ঠিক করার আগ পর্যন্ত ভোগান্তির আর শেষ থাকে না। এ ব্যাপারে মাটিভাঙ্গা ইউনিয়নের বরইবুনিয়া গ্রামের বাসিন্দা ও স্থানীয ইউপি সদস্য মো. এনজামুল হক অনিক বলেন, পাকিস্তান আমলে এই মাটিভাঙ্গা ও চরবাণীয়ারী ইউনিয়নের সংযোগ স্থলের এ নদীটি নৌকা যোগে লোকজন পারাপার হতো। এলাকাবাসী চাঁদা তুলে এই সাঁকো নির্মান করেছে। সরকারি কোন অনুদান বা সহযোগীতা আজ পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। বরইবুনিয়া মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়, মাধ্যমিক বিদ্যালয়, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সাঁকো পার না হয়ে যাওয়া যায় না। শিক্ষার্থীরা অনেক সময় দুর্ঘটনার স্বীকার হয়ে থাকে। বরইবুনিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণীর এক ছাত্র জানায়, প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে আমাদের সাঁকো পার হয়ে বিদ্যালয়ে যেতে হচ্ছে। দির্ঘ নয় বছর আমি এই সাঁকোটি পাড় হয়ে স্কুলে যাচ্ছি। ছোট বেলায় আমি সাতার জানতাম না। তখন মা প্রতিদিন এই সাঁকোটি পার করিয়ে দিতো। একদিন আমার মা পা পিচলে পড়ে গিয়েছিলো।

মাটিভাঙ্গা ডিগ্রী কলেজের ছাত্র-ছাত্রী অনেকেই বলে, প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে এই ভোগান্তি দেখে আসছি। এখন স্নাতক শ্রেণীতে পড়ি। কিন্তু ভোগান্তির শেষ হলো না। সরকারের কাছে আমরা চাই এই স্থানে একটা ব্রীজ করে দেয়া হোক। যাতে আগামীর শিশুরা নির্ভিঘ্নে স্কুলে যেতে পারে। একাধীক এলাকাবাসি জানান, দির্ঘ দিন জেলা পরিষদসহ নানা মহলে ধর্না দিয়েছেন তারা। কিন্তু কোন প্রতিকার না পেয়ে তারা হতাশা গ্রস্থ। বরইবুনিয়া গ্রামের শিক্ষক মলয় মালাকার বলেন, বরইবুনিয়া গ্রামের দুইটি মাধ্যমিক ও একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে।

পার্শ্ববর্তী চর ডাকাতিয়া গ্রামের দুই শতাধিক শিক্ষার্থী প্রতিদিন বলেশ্বর নদীর উপর তৈরি বাঁশের সাঁকো পার হয়ে বিদ্যালয় যাওয়া আসা করে। এছাড়া বরইবুনিয়া, চর বরইবুনিয়া, চর মাটিভাংগা ও চর ডাকাতিয়া, পার্শবর্তী বাগেরহাট জেলার চিতলমারি উপজেলা থেকে প্রায় ২০ হাজার মানুষ তাদের নিত্য প্রয়োজনে এ সাঁকো দিয়ে চলাচল করছেন। এক সাথে ২০/২৫ জন পথচারি সাঁকোর এক মাথা থেকে অন্য মাথায় পার হয়। তখন এক প্রান্তের মানুষকে প্রায় ১০-১৫ মিনিট ঠায় দাড়িয়ে অপেক্ষা করতে হয়।

চিতলমারি উপজেলার চর ডাকাতিয়া গ্রামের কৃষক অনিমেষ মন্ডল বলেন, আমাদের কৃষি পণ্য পার্শ্ববর্তী শৈলদাহ, মাটিভাংগা ও তারাবুনিয়া বাজারে বিক্রির জন্য বরইবুনিয়া সাঁকো দিয়ে চলাচল করছি। সাঁকোটি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় আমাদের চলাচল করতে কষ্ট হয়। এ বিষয়ে নাজিরপুর উপজেলা প্রকৌশলী মো. জাকির হোসেন মিয়া জানান, সেখানে একটি ব্রীজের প্রয়োজন রযেছে। কর্তৃপক্ষের কাছে জানানো হয়েছে। হয়তো শীঘ্রই এ বিষয়ে ফলাফল পাওয়া যাবে।