Amar Praner Bangladesh

নান্দাইলে খরচ বাড়ায় আমন ধান উৎপাদনে অনীহা কৃষকদের

 

 

ফজলুল হক ভুইয়া, ময়মনসিংহ :

 

কয়েকদিনের বৃষ্টিতে নান্দাইলে মাঠে মাঠে রোপা আমন ধান রোপনে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে কৃষকরা। ইতিমধ্যে কেউ জমি চাষাবাদে ব্যস্ত, কেউ বীজতলা থেকে চারা উঠাতে ব্যস্ত আবার কেউ চারা রোপনে সময় পার করছে। সব মিলিয়ে আমন মৌসুমে পুরোদমে মাঠে কৃষকরা কৃষি কাজে নিয়োজিত হয়ে পড়েছে। এদিকে আবার অনেকটা নিরুপায় হয়ে কৃষকরা আমন রোপন করছে। জ্বালানি তেল ও সারের মূল্য বৃদ্ধিতে ফসল উৎপাদনে অনীহা দেখা দিয়েছে।

গত সপ্তাহ থেকে বৃষ্টি না হওয়াতে কোথাও কোথাও ক্ষেত শুকিয়ে একাকার হয়ে গেছে । ফলে অনেক কৃষকরা অসহায় হয়ে সেচের পানি দিয়ে জমি প্রস্তুত করা শুরু করেও বিদ্যুৎ লোডশেডিং এর ফলে হিমসিম খাচ্ছে।পুরোদমে আমন ধানের চারা রোপনে ব্যস্ত হয়ে পড়েলেও ধানের পরিচর্যার খরচে মাথায় হাত পড়েছে। বেড়েছে ইউরিয়া সারের দাম ১৪ টাকা কেজি থেকে ৬ টাকা বাড়িয়ে ২২ টাকা নির্ধারণ করেছে সরকার। ইউরিয়া সারের ৫০ কেজি বস্তায় বেড়েছে ৩০০ টাকা।

এদিকে গত সপ্তাহে বেড়েছে জ্বালানি তেলের দাম ৮০ টাকা ডিজেল ৩৪ টাকা বাড়িয়ে ১১৪ টাকা নির্ধারণ করেছে। ফলে ১০ শতাংশ জমি চাষে ২২০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩২০-৩৫০ টাকা। জ্বালানি তেল, সার ও শ্রমিকের মূল্য বৃদ্ধিতে ফসল উৎপাদনে লোকসানের মুখে পড়েছে কৃষক। অনেকেই ফসল উৎপাদনে অনীহা প্রকাশ করেছে।

নান্দাইল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ১৩ টি ইউনিয়ন ও পৌর সভায় এ বছর ২২ হাজার ৩৮০ হেক্টর জমিতে রোপা আমন ধানের চাষে লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে । এতে ৬৩ হাজার ৬২৪ মেট্রিক টন উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এবছর ১ হাজার ২৩০ হেক্টর জমিতে বীজতলা তৈরি করা হয়েছে৷ রোপা আমন মৌসুমে ৫৮০ জন কৃষকে বীজ ও সার প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে৷ বি ও বিনা জাতের ১ হাজার কেজি বীজ সহায়তা দেওয়া হয়েছে৷

উপজেলার মোয়াজ্জেমপুর, বীর বেতাগৈর, শেরপুর, নান্দাইল ইউনিয়ন ও পৌরসভার বেশ কয়েকটি গ্রাম ঘুরে দেখা গেছে- কৃষকরা আমন মৌসুমে বি-৮৭, বিনা ৪৯ ও বি-৪৯ জাতের ধান বেশি রোপন করছে। উপজেলার মোয়াজ্জেমপুর ইউনিয়নের মোয়াজ্জেমপুর গ্রামের কৃষক মাসুদ মিয়া বলেন, অনেক দিন বৃষ্টি না হওয়াতে জমিতে চাষ করা হয়নি। এখন বৃষ্টি হচ্ছে আমরা আর বসে নেই। আমন ধানের চারা রোপনে নেমে পড়েছি। তবে হতাশায় আছি যে হারে সার ও ডিজেলের দাম বেড়েছে ধান উৎপাদনের সাথে খরচের ব্যাপক হারে বেড়ে যাবে তাতে লাভ লোকশান পরে দেখা যাবে ।

নান্দাইল পৌরসভার উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো.মাহমুদুল হাসান সুমন বলেন, আমরা কৃষি অফিস থেকে কৃষকদের সকল রকম সহযোগিতা করে যাচ্ছি। কিভাবে কম খরচে ফসল উৎপাদন করা যায়। সে ব্যাপারে মাঠ পর্যায়ে ঘুরে ঘুরে সকল রকম পরামর্শ কৃষকদের দিয়ে যাচ্ছি।

নান্দাইল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কৃষিবিদ মোহাম্মদ আনিসুজ্জামান এর সাথে কথা বললে তিনি জানান, উপজেলায় এ বছর ২২ হাজার ৩৮০ হেক্টর জমিতে রোপা আমন ধানের চাষ করা হবে। বর্তমানে সার ও জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধিতে প্রান্তিক কৃষকরা একটু সমস্যা হচ্ছে৷ আমরা কৃষি প্রণোদনা সহ সকল রকম সুযোগ সুবিধা কৃষি অফিস থেকে দিচ্ছি৷ খরচ কমাতে সারের যুক্তিগত ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। এ ব্যাপারে ডিওপি সারের ব্যবহার বাড়াতে হবে। তাছাড়া কৃষি অধিদপ্তর থেকে যতো রকম সহযোগিতা আছে সেগুলো আমরা কৃষকদের দিব।