Amar Praner Bangladesh

নিখোঁজ স্বামীর লাশটা হলেও দেখতে চান স্ত্রী

 

 

গাজী আরিফুর রহমান, বরিশাল :

 

নিখোঁজের ১৩ দিন অতিবাহিত হলেও এখনো কোনো খোঁজ পাচ্ছি না। প্রতিবেশী ও আত্মীয়-স্বজন নানাধরণের মন্তব্য করেছেন। কেউ বলছে হয়তো বেঁচে আছে। আবার কেউবা বলছে এতদিনে মারা গিয়েছে। বুঝতেই পারছিনা যে কার কথা বিশ্বাস করবো।

প্রতিদিন অপেক্ষা করছি। হয়তো তিনি ফিরে আসবেন। আর কত অপেক্ষা করতে হবে তা জানি না। প্রতিটি দিন পার হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে শঙ্কাও। যদি জীবিত না থাকেন তাহলে শেষবারের মত লাশটা হলেও অন্তত দেখতে চাই। দাফন করতে চাই পরম যত্নে। তবুও বলতে পারবো স্বামী চিরনিদ্রায় ঘুমিয়ে আছেন আমাদের আঙ্গিনায়।

স্বামীকে খুঁজে না পেয়ে ঠিক এভাবেই বলছিলেন সাগরে মাছ শিকারে গিয়ে নিখোঁজ হওয়া ভোলার লালমোহনের ধলীগৌরনগর ইউনিয়নের চতলা এলাকার আমিন উদ্দিন মিয়া বাড়ির জেলে আবুল কালামের স্ত্রী পারুল বেগম।

নিখোঁজ আবুল কালামের তিন মেয়ে ও দুই ছেলে রয়েছে। তাঁরাও বাবার শোকে পাগলপারা। আবুল কালাম জীবিত না থাকলেও অন্তত তাঁর লাশটা পেতে চান তাঁর স্ত্রী, সন্তান ও স্বজনরা। এজন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করছেন তাঁরা।

নিখোঁজ জেলে আবুল কালামের ছেলে আরজু বলেন, বাবার বয়স প্রায় ৬০ বছর হয়েছে। বৃদ্ধ বয়সে বাবাকে বহুবার মাছ শিকারে যেতে নিষেধ করেছি। এটা তার কাছে যেন নেশা হয়ে গিয়েছিল। আমাদের অগোচরেও সে মাছ শিকারের জন্য চলে যেতেন। এখন হয়তো আর কখনো বাবাকে নিষেধ করতে পারবো না। বাবা হয়তো চিরদিনের জন্য হারিয়ে গেছেন অথৈ জলের তলে।

লালমোহন উপজেলা সামুদ্রিক মৎস্য কর্মকর্তা তানভির আহমেদ বলেন, ঝড়ের কবলে পড়ে নিখোঁজ ৭৫ জেলে জীবিত ফেরার পরেও এখনো খোঁজ মেলেনি আবুল কালাম নামের এক জেলের। তার সন্ধানের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। আবুল কালামের সন্ধানের জন্য তার ছবি বিভিন্ন মৎস্য ঘাটে দেয়া হয়েছে।

প্রসঙ্গত, গত ১৯ আগস্ট গভীর রাতে বঙ্গোপসাগরের কক্সবাজার ফিশিং গ্রাউন্ড এলাকায় মাছ শিকারে গিয়ে ঝড়ের কবলে পড়ে উপজেলার বাতিরখাল মৎস্য ঘাটের হারুন অর রশিদ ফারুকের মাছ ধরা ট্রলার এমভি লামিয়া ১৩ জেলেকে নিয়ে ডুবে যায়। সাগরে এ দুর্ঘটনার পর ওই ট্রলারের ১২ জেলে নিখোঁজের পর জীবিত ফিরলেও এখনো সন্ধান মেলেনি আবুল কালামের। এছাড়াও ওইদিন লালমোহনের আরও ৪টি ট্রলার ঝড়ের কবলে পড়ে ডুবে গিয়ে নিখোঁজ হওয়া আরও ৬৩ জেলে জীবিত অবস্থায় দুইদিন পর বাড়িতে ফিরে আসেন।