Amar Praner Bangladesh

নিলিমা আক্তার মায়া পঙ্গু হাসপাতালের আয়া তার নির্দেশে সন্ত্রাসীরা ভাংচুর করেছে মরহুম কনস্টেবল মুজিবুরের বসতবাড়ী

 

(পঙ্গু হাসপাতালে সরকারী চাকুরিজীবি একজন আয়ার কোটি টাকার সম্পত্তি সহ রয়েছে বিশাল বিত্ত বৈভব, সরকারী কোয়ার্টার ভাড়া দেওয়া সহ তার বিরুদ্ধে রয়েছে হাজারো অভিযোগ। জমি দখলের নামে গোপালগঞ্জে একজন অসহায় নারীর বসতবাড়ী ভেঙ্গে চুড়ে চুরমার করে দিয়েছে তার নির্দেশে সন্ত্রাসী বাহিনী। অসহায় নারীর আর্তনাতে আকাশ বাতাস প্রকম্পিত হলেও প্রশাসনের নিরব ভূমিকায় প্রশ্নবিদ্ধ জাতির বিবেক?)

 

নার্গিস আক্তার :

 

রাজধানীর একটি সরকারী পঙ্গু হাসপাতালে পঞ্চম শ্রেণি পাশ মায়া চাকুরি করে আয়ার পদে। কিন্তু তার ডাটফাট এবং কথাবার্তার ভাব যেন পঙ্গু হাসপাতালের পরিচালকের দায়িত্বে আছেন। তার বিরুদ্ধে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকা সহ রয়েছে ফাঁকি দেওয়ার হাজারো অভিযোগ। সরকারী ভাবে পাওয়া কোয়ার্টারটি নিজে না থেকে বেআইনিভাবে ভাড়া দিয়ে হাতিয়ে নিচ্ছে অর্থ।

হাসপাতালে আয়ার কাজ করার সুবিধায় প্রতিটি ডিপার্টমেন্টে রয়েছে তার অবাধ বিচরণ। সে এই সুবিধাকে কাজে লাগিয়ে ডিপার্টমেন্টের বিভিন্ন অসাধু কর্মকর্তাদের আতাত করে হাসপাতালের দামী ঔষধ পত্র থেকে শুরু করে অনেক কিছু সরিয়ে নিয়ে এগুলো বাহিরের সিন্ডিকেটের কাছে বিক্রি করে রাতারাতি আয়া মায়া হয়ে উঠেছে আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ। গ্রামের বাড়ী থেকে শুরু করে রাজধানী পর্যন্ত তার নামে বেনামে রয়েছে কয়েক কোটি টাকার সম্পত্তি।

বিভিন্ন ব্যাংককেও তার আত্মীয় স্বজনের নামে এ্যাকাউন্ট করে মায়া দুদককে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে রেখেছে অনেক টাকা। এমনটাই তথ্য দিয়েছে মায়ার নিকটতম আত্মীয়রা। মায়ার এক ভাই আব্দুর রহিম মোল্লা চাকুরি করে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে। আব্দুর রহিম চাকুরি করার মতো শিক্ষাগত যোগ্যতা না থাকলেও তার বোন সাহিদা সচিবালয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে চাকুরির সুবাদে বিভিন্ন উপর মহলে সুপারিশ করে মায়া ও রহিমের চাকুরিকে নিশ্চিত করে মিরপুর পাইকপাড়া ষ্টাফ কোয়ার্টারে বসবাসের জন্য সরকারী ফ্ল্যাটের ব্যবস্থা করে দেয়। লোক মুখে শোনা যায়, মায়ার আরেক ভাই পুলিশ কনস্টেবল আলমগীর হোসেন কংনং-২৪৪৭, তিনিও ষ্টাফ কোয়ার্টারে ২৩ নং বিল্ডিংয়ের নিচতলায় থাকার বন্ধবস্ত পেয়েছে বলে জানা যায়।

অন্যদিকে সাহিদা বেগমের কোয়ার্টার নং-২৫/২৮ ৫ম তলা পশ্চিম পার্শ্বে নিজে থাকতেন। বর্তমানে সাহিদার মৃত্যুর পর তার ভাই-বোনেরা সব দখল করে খায় এবং সরকারী এই কোয়ার্টার গুলো আইনের নিয়মকে তোয়াক্কা না করে বহিরাগতদের কাছে ভাড়া দিয়েছে বলে জানা যায়। সম্প্রতি নিলিমা আক্তার মায়ার বড় ভাই পুলিশ কনস্টেবল মুজিবর কংনং- ৩৫৮৩, মারা গেলে তার রেখে যাওয়া সম্পত্তি ১০২ নং কারারগাতি মৌজা বিআরএস ৯০৫, ১ নং ওয়ার্ড গোপালগঞ্জ পৌরসভা ৫ শতাংশ জমিতে দোতলা ফাউন্ডেশন দিয়ে বাড়ী তৈরি শুরু করলে ফাউন্ডেশন দিয়ে লিংটন সম্পূর্ণ হলে মায়ার নির্দেশে সন্ত্রাসীরা ফাউন্ডেশনকৃত নির্মাণাধীন বাড়ী ভেঙ্গে চুরমার করে দেয়।

অন্যদিকে একশত বস্তা সিমেন্ট ৫ টন রড সহ অনেক কিছু লুটতরাজ করে নিয়ে যায় বলে জানা যায়। এ বিষয় নিয়ে গোপালগঞ্জ থানায় ০৬/০৮/২০২২ ইং তারিখে একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়। মরহুম পুলিশ কনস্টেবল মায়ার আপন ভাই হয়েও রক্ষা পায়নি মায়ার সন্ত্রাসী কার্যক্রম থেকে। মজিবুরের মৃত্যুর পর স্ত্রী সোহেলী শারমিন, ছেলে মাশরাফি মোল্লা, মেয়ে মেহেজাবিন মঞ্জুরি মাহি ভুগছে নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে। যেকোন সময় মায়া তাদেরকে সম্পত্তি হাতিয়ে নেওয়ার অপচেষ্টায় হত্যা করতে পারে বলে তারা বিশাল আশঙ্কার মধ্যে রয়েছে বলে জানিয়েছেন বিভিন্ন গণমাধ্যমকে।

এই অপকর্মে মায়াকে সহযোগীতা করে তার আরেক বোন সোনাবান এবং সোনাবানের স্বামী ঝন্টু। এই ঝন্টু এক সময় ছিল পশ্চিম নিজড়ার সুনামধন্য ধনি পরিবার মুজিবর রহমান খানের বাড়ীতে চাকর, গরু ছাগল রাখতো বলে জানায় এলাকার লোকজন। তালতলা বিলে মাছ ধরে বাজারে বিক্রি করে সংসার চালাতো। সন্ত্রাসী মায়ার পৃষ্ঠপোষকতা পেয়ে নিজড়া গ্রামের ঝন্টু এখন সন্ত্রাসী কাজে বিশাল আতঙ্ক হয়ে উঠেছে। উল্লেখিত সম্পত্তিটি মরহুম কনস্টেবল মুজিবুর সাব কবলা রেজিষ্ট্রি করে নিজ নামে খাজনা খারিজ করিয়ে মিউটেশন সম্পূর্ণ করে। তার জীবদ্দশায় কখনো মায়া কিংবা অন্য কেউ কোনদিন এই সম্পত্তির বিষয়ে দাবী দাওয়া করেননি। তার মৃত্যুর পর তার পরিবার অভিভাবক শূন্য হয়ে পড়লে ভূমিদস্যু মায়া সরকারী চাকুরি করার সুবাদে অবৈধ টাকার অহংকারে তার সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে আপন ভাইয়ের ক্রয়কৃত সম্পত্তি হাতিয়ে নেওয়ার পায়তারা করছে বলে অভিযোগ ভুক্তভোগী পরিবারের।

অসহায় পরিবারটি সংবাদের প্রতিবেদককে জানায়, মায়া পূর্ব থেকেই তাদের সাথে শত্রুতা পোষণ করে আসছিলো। আমাদের বসতভিটার পাশে তার জমি থাকার কারণে আমাদের সম্পত্তির উপর তার কুনজর পড়েছে। আমাদেরকে ভয়ভীতি দেখিয়ে কিংবা জানে মেরে ফেলে আমাদের সম্পত্তি হাতিয়ে নেওয়ার জন্য হাজার রকম নোংরামী করছে। তার অবৈধ সম্পদ এবং তার সম্পর্কে খোঁজ নিলে বেরিয়ে আসবে চাঞ্চল্যকর তথ্য।

এ বিষয় নিয়ে থানা কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বললে তারা অভিযোগের বিষয়টি সত্যতা স্বীকার করেন। সম্পূর্ণ বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান।

অন্যদিকে এ বিষয় নিয়ে মায়ার সাথে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি জানান, আমাদের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আপনাদেরকে জানানো হয়েছে তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, মিথ্যা ও বানোয়াট।

এ বিষয় নিয়ে ১ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর জুবায়ের ইসলাম ঝন্টুর সাথে কথা হলে তিনি জানান, বিষয়টি আমি জানি, আমি তাদেরকে ভাংচুর করতে নিষেধ করেছিলাম এবং কাজ করতেও নিষেধ করেছিলাম, বিষয়টি যখন পারিবারিক আমি তাদেরকে পরামর্শ দিয়েছি আপনারা নিজেরাই সবাই বসে পারিবারিকভাবে ফয়সালা করে একটি মিমাংসা করবেন। কিন্তু একটি পক্ষ যিনি সরকারী চাকুরি করেন মায়া যিনি বাড়ী নির্মাণ করছেন তার ননদ।

তিনি গত বৃহস্পতিবার লোকজন নিয়ে স্থাপনা ভেঙ্গে দিলে আমি আমার ঢাকা যাওয়ার টিকিট বাতিল করে সেখানে যাই এবং যারা ভেঙ্গেছে তাদেরকে যথেষ্ট পরিমাণ কথা বলেছি, আপনারা কাজটা ভালো করেন নাই। আমার সাথে মহিলা অর্থাৎ নিলিমা আক্তার মায়া যেখানে স্থাপনা হচ্ছে সেই ভদ্র মহিলার স্বামী যিনি মারা গেছেন তার আপন বোন মায়া আমার সাথে আলাদা কথা বলতে চাইলে আমি স্পষ্ট জানিয়ে দেই আমাকে ম্যানেজ করতে চাইলে হীতে বিপরীত হবে। আমি ন্যায়ের পক্ষে। রাস্তা থেকে ৬ ফিট রাস্তা ছেড়ে আপনারা জমি যার যার ভাগে যা আসে ভাগ করে নিবেন, কোন বিশৃঙ্খলা করতে পারবেন না। আপনারা সবাই ভালো পরিবারের লোক। আপনাদের কাছ থেকে ভালো কিছু আশা করি।