Amar Praner Bangladesh

নীলফামারী জলঢাকায় আওয়ামিলীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত

 

নীলফামারী প্রতিনিধিঃ

 

অনেকটা আনন্দ, উৎসাহ্ ও উদ্দিপনার মধ্যদিয়ে দীর্ঘ প্রতিক্ষীত ১৮ বছর পর অনুষ্ঠিত জলঢাকা উপজেলা আওয়ামিলীগের সম্মেলন শেষ হলো পূর্বের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষনার মধ্য দিয়েই।
নতুন কোন কমিটি ঘোষনা বা কাউন্সিল ছাড়াই সম্মেলনের আনুষ্ঠানিকতা শেষ করেন জেলা ও কেন্দ্রীয় আওয়ামিলীগের নীতিনির্ধারকরা।

অথচ উপজেলা আওয়ামিলীগের এই সম্মেলনকে ঘিরে অনেকটা চাঙ্গা হয়ে উঠেছিল জলঢাকা উপজেলা আওয়ামিলীগ। সম্মেলনে কেন্দ্রীয় ও জেলা নেতাদের আগমন উপলক্ষে ব্যানার, ফ্যাষ্টুন ও বড় বড় প্ল্যাকাডে সাজ সাজ রবে সাজানো হয়েছিল জলঢাকা পৌর শহর সহ গোটা উপজেলা।

আয়োজিত সম্মেলনে কাউন্সিলের মাধ্যমে নতুন কমিটি ঘোষনা না করায় দীর্ঘ প্রতিক্ষীত এ সম্মেলন স্থানীয় আওয়ামিলীগ নেতাকর্মীদের মন ভরায়নি বরং গভির চিন্তায় ফেলেছেন তাদের। এমনটাই দাবী তৃনমুল নেতাকর্মীদের। জলঢাকা উপজেলা সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির সার্বিক আয়োজনে শনিবার দুপুরে জলঢাকা সরকারি ডিগ্রি কলেজ মাঠ প্রাঙ্গনে উপজেলা আওয়ামিলীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন ২০২২ইং অনুষ্ঠিত হয়েছে। জলঢাকা উপজেলা আওয়ামিলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সাবেক সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক গোলাম মোস্তফা এমপি’র সভাপতিত্বে সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় আওয়ামিলীগের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ এমপি।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামিলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক রংপুর বিভাগের দ্বায়িত্ব প্রাপ্ত নেতা সাখাওয়াত হোসেন শফিক, কেন্দ্রীয় কমিটির উপ-প্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন। এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় কমিটির কার্যকারী সদস্য সাবেক এমপি এ্যাডভোকেট হোসনে আরা লুৎফা ডালিয়া, কেন্দ্রীয় কমিটির কার্যকারী সদস্য সাবেক এমপি এ্যাডভোকেট সফুরা বেগম রুমী, কেন্দ্রীয় কমিটির কার্যকারী সদস্য আবদুল আউয়াল শামীম ও কেন্দ্রীয় আওয়ামিলীগ নেতা আব্দুল মতিন প্রমুখ। এর আগে সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন নীলফামারী জেলা আওয়ামিলীগ সভাপতি পৌর মেয়র দেওয়ান কামাল আহমেদ।

উক্ত সম্মেলনে প্রধান বক্তা হিসেবে সাংগঠনিক গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখেন জেলা আওয়ামিলীগ সাধারণ সম্পাদক এ্যাডভোকেট মমতাজুল হক। প্রধান অতিথির বক্তব্যে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী ড.হাছান মাহমুদ এমপি বলেন, দলিয় অভ্যান্তরিন কোন্দল বেগবান না করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করার লক্ষে হাতে হাত রেখে এবং কাঁধে কাঁধ রেখে দলকে সুসংগঠিত করে সুষ্ঠ নেতৃত্বের মাধ্যমে বাংলাদেশের বৃহৎ রাজনৈতিক সংগঠন বাংলাদেশ আওয়ামীলীগকে এগিয়ে নিতে কাজ করতে হবে। দলের বিদ্রোহী ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারী নেতাকর্মীদের হুশিয়ারী দিয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হাছান মাহমুদ বলেন, আওয়ামিলীগে অনুপ্রবেশকারীদের কোন স্থান নেই। এটি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হাতে গড়া একটি সংগঠন। এ দলে পুজিবাদদের কোন ঠাঁই নেই। দলের ভাবমুর্তি এবং দলে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীদের দলিয় নিয়ম তান্ত্রিকতার মাধ্যমে সাংগঠনিক পদক্ষেপ গ্রহন করা হবে।

এরই ধারাবাহিকতায় বলছি জলঢাকায় যেন কোন প্রকার অরাজকতা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে দলের ভাবমূর্তি নষ্ট করা না হয়। সম্মেলনে প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিক, কেন্দ্রীয়, জেলা ও জলঢাকা উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের সভাপতি /সম্পাদক সহ তৃনমুল পর্যায়ের প্রায় ২০ হাজার নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন। সম্মেলনকে ঘিরে নেতাকর্মীদের মধ্যে অনেকটা টানটান উত্তেজনা বিরাজ করলেও কোন প্রকার অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই শুসম্পুর্ন হয় সম্মেলন। অন্যদিকে এ সম্মেলন সুষ্ঠ ভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ৪ স্তরের নিরাপত্তা বলয় রাখে সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটি। উক্ত আওয়ামিলীগের এ সম্মেলন অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির আহবায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল গফফার।