Amar Praner Bangladesh

নড়াইলে আওয়ামীলীগ নেতার দোকানঘর ভেঙ্গে দেয়ার অভিযোগ

নড়াইল প্রতিনিধি: নিজ জমিতে দোকানঘর নির্মাণকালে সেই দোকানঘর প্রভাবখাঁটিয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ভেঙ্গে দিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন নড়াইলের লোহাগড়ার কাশিপুর ইউপি চেয়ারম্যান ও আওয়ামীলীগ নেতা শেখ মতিয়ার রহমান। ঘটনাটি ঘটেছে বুধবার বিকালে।

ভূক্তভোগী ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, কাশিপুর ইউপি চেয়ারম্যান ও লোহাগড়া উপজেলা আওয়ামীলীগের সহসভাপতি শেখ মতিয়ার রহমানের স্ত্রী মোসাঃ নাজমা খানম ০৯/১০/২০১৪ তারিখে লক্ষীপাশা ব্রীজ-লোহাগড়া বাজার সড়কের পার্শ্বে ৬৭নং জয়পুর মৌজার এস,এ ৩০৭, ডিপি-৭৭ খতিয়ানের এস,এ দাগ নং ৩৪৯৩, হাল দাগ নং ৩৯৩৫ এর ২৮ শতক বাস্ত জমির মধ্যে দাতা মোঃ আকরাম হোসেন ভুইয়ার কাছ থেকে আমমোক্তারনামা দলিলমূলে ৬ শতক জমির মালিক হন। এছাড়াও মোসাঃ নাজমা খানম দাতা মোঃ আকরাম হোসেন ভুইয়ার ছেলে দাতা মোঃ করিম ভূইয়ার কাছ থেকে একই মৌজার এস,এ ১৭২৪,ডিপি-১৪৮৫ খতিয়ানের ৩৫৩৭,৩৪৯১ ও ৩৪৪৭ নং হাল দাগের মোট ১১৯ শতক জমির মধ্যে ১৩ শতক জমি আমমোক্তারনামা দলিলমূলে মালিক হন। সর্বমোট ১৯ শতক জমি আমমোক্তারনামা দলিলমূলে মালিক হন মোসাঃ নাজমা খানম । যার দলিল নং- ৩৫৫০, লক্ষীপাশা সাব-রেজিস্ট্রি অফিস।

ওই জমি মোঃ আকরাম হোসেন ভুইয়া লোহাগড়া ২য় মুনসেফি আদালতে ১৯৬০/৬১ সালের ৪১২ নং এল মোকদ্দমায় ডিক্রিপ্রাপ্ত হন এবং মোঃ আকরাম হোসেন ভুইয়া কে লোহাগড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এর কার্যালয় থেকে নামজারী করে দেয়া হয়েছে। যার নং-৩২৯/1x-1/৭৭-৭৮। এছাড়াও মোঃ আকরাম হোসেন ভুইয়ার ছেলে মোঃ করিম ভূইয়া তার নামে প্রাপ্ত অংশের জমি উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এর কার্যালয় থেকে নামজারী করে নেন। যার নং-২৮২/1x-11/৯৭-৯৮। আকরাম হোসেন ভূইয়া ১৯/০৯/২০১৪ সালে ওই ৩৪৯৩ নং দাগের মোট ২৮ শতক জমির ওই খাজনা পরিশোধ করেন।

কাশিপুর ইউপি চেয়ারম্যান ও লোহাগড়া উপজেলা আওয়ামীলীগের সহসভাপতি শেখ মতিয়ার রহমান অভিযোগ করেন, গত ১৪ মার্চ বিকালে তিনি শ্রমিক দিয়ে ওই ৩৪৯৩ নং দাগের নিজ স্ত্রীর নামীয় ৬শতক জমিতে দোকানঘর নির্মাণ করছিলেন। কিন্তু হঠাৎ লোহাগড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে দোকানঘর নির্মাণে বাধা প্রদান করেন এবং নির্মাণ করা ঘর শ্রমিক দিয়ে ভেঙ্গে ফেলেন। ফলে তার (শেখ মতিয়ার রহমান এর) আর্থিক ক্ষতিসহ মানসম্মান ক্ষুন্ন হয়েছে । সহকারী কমিশনার(ভূমি) কে কাগজপত্র দেখাতে চাইলেও তিনি তা দেখেননি বলেও অভিযোগ করেন মতিয়ার রহমান।

এ বিষয়ে লোহাগড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এম,এম, আরাফাত হোসেন বলেন, খাস জমিতে দোকানঘর নির্মাণ করা হচ্ছে এমন খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে সরকারি খাস জমি অবৈধ দখলের চেষ্টাকালে বাধা প্রদান করেছি। উপজেলা রাজস্ব কর্মকর্তা হিসাবে সরকারি সম্মত্তি রক্ষার্থে তাদের শ্রমিক দিয়েই যেটুকু কাজ করেছিল তা ভেঙ্গে ফেলা হয়েছে। সরকারি জলমহালের মধ্যে বাঁশখুঁটি উঠিয়ে দেছে। চেয়ারম্যানের যদি যথাযথ কাগজপত্র থাকে তবে দেখবো না কেন ? ওই একই স্থানে আরো অনেক দোকানঘর নির্মাণ করে ব্যবসা পরিচালনা করা হচ্ছে এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন ইতোমধ্যে উচ্ছেদ মামলা করা শুরু হয়েছে।