Amar Praner Bangladesh

পুতিনের প্রেমিকার ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা

 

 

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ

 

ইউক্রেন যুদ্ধের জন্য এবার রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ‘বিখ্যাত প্রেমিকা’ এলিনা মারাতোভনা কাভায়েভার ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

স্থানীয় সময় মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি ডিপার্টমেন্ট থেকে এই নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয় বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম সিএনএন।

অলিম্পিকে গোল্ড মেডেল জয়ী জিমন্যাস্ট এলিনা কাভায়েভার সঙ্গে রুশ প্রেসিডেন্টের সম্পর্কের কথা বহুদিন ধরেই চর্চিত। তবে রুশ গণমাধ্যমগুলোকে এ সংবাদ বরাবরই এড়িয়ে চলতে দেখা যায়।

যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম সিএনএন এসবের রাখঢাক না করে শিরোনামেই লিখেছে ‘পুতিনের বিখ্যাত প্রেমিকার ওপর নিষেধাজ্ঞা।’

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পুতিনের সঙ্গে রোমান্টিকতার সম্পর্কে জড়িত এলিনাকে একজন নেতা, কর্মকর্তা, সিনিয়র এক্সিকিউটিভ অফিসার, বা রাশিয়ান ফেডারেশন সরকারের পরিচালনা পর্ষদের সদস্য হিসেবে জো বাইডেন প্রশাসনের ট্রেজারি ডিপার্টমেন্ট এই নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে।

ট্রেজারি ডিপার্টমেন্টের বিবৃতিতে পুতিনের সঙ্গে ৩৯ বছর বয়সী এলিনার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক উল্লেখ করে তার পরিচয়ে বলা হয়েছে, রাশিয়ার জাতীয় গণমাধ্যম বিভাগের প্রধান।

যুক্তরাষ্ট্রের আগে অবশ্য একই ইস্যুতে পুতিনের এই প্রেমিকার ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাজ্যও।

গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে সামরিক অভিযান শুরুর ঘোষণা দেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। এর পর থেকেই পশ্চিমাদের বাধা উপেক্ষা করে পূর্ব ইউরোপের দেশটিতে চলছে রুশ সেনাদের সামরিক অভিযান।

ইউক্রেনকে ‘অসামরিকায়ন’ ও ‘নাৎসিমুক্তকরণ’ এবং দোনেৎস্ক ও লুহানস্কের রুশ ভাষাভাষী বাসিন্দাদের রক্ষা করার জন্যই এমন সামরিক পদক্ষেপ বলে দাবি করে আসছে রাশিয়া।

ইউক্রেনের পক্ষ থেকে বলা হয়, সম্পূর্ণ বিনা উসকানিতে রাশিয়া হামলা চালিয়েছে। দেশটি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে সাহায্যের আবেদন জানিয়ে আসছে।

রাশিয়া ইউক্রেনের হামলা শুরুর পর থেকেই একের পর এক নিষেধাজ্ঞা আসছে বিভিন্ন দেশ থেকে। প্রেসিডেন্ট পুতিনসহ দেশটির বহু নেতা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানসহ নানা কিছুর ওপর এসেছে নিষেধাজ্ঞা।

যুদ্ধে বহু মানুষ হয়েছে বাস্তুচ্যুত। হতাহতের সংখ্যাও অনেক। এরই মধ্যে কয়েক দফা যুদ্ধ বন্ধ নিয়ে চুক্তি হলেও কার্যত কোনো সিদ্ধান্ত আসেনি এখনও।

কে এই কাভায়েভা

৬৯ বছর বয়সী ভ্লাদিমির পুতিনের কথিত প্রেমিকা এলিনা কাভায়েভা। গুজব রয়েছে, কাভায়েভা পুতিনের বেশ কয়েক সন্তানের মা।

এক সুইডিশ পত্রিকার দাবি, ২০১৫ সালে লেক লুগানোর একটি ক্লিনিকে তিনি ছেলেসন্তানের জন্ম দেন। এ ছাড়া ২০১৯-এও তিনি সন্তানের জন্ম দেন। ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল বলছে, ২০১৯-এ তিনি মস্কোতে যমজ সন্তানের মা হয়েছেন।

কাভায়েভা একজন সাবেক অলিম্পিক জিমন্যাস্ট, মিডিয়া বস, রাজনীতিবিদ এবং গুজব যদি সত্যি হয়, তিনি পুতিনের একের অধিক সন্তানের মা।

রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বরাবরই নিজের ব্যক্তিগত জীবনকে গণমাধ্যমের বাইরে রাখার চেষ্টা করেছেন। তাকে পারিবারিক বিষয়ে প্রশ্ন করা হলেও তিনি সব সময় তা এড়িয়ে গেছেন। বরাবরই তিনি আলিনা কাভায়েভার সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্কের কথা অস্বীকার করেছেন।

২০০৮ সালে মস্কোভস্কিতে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, তিনি তার তৎকালীন স্ত্রী লিউদমিলাকে তালাক দিয়ে কাভায়েভাকে বিয়ে করার পরিকল্পনা করছেন। সে সময় দুজনই বিষয়টি অস্বীকার করেছিলেন।

এরপরে রুশ কর্তৃপক্ষ পত্রিকাটিই বন্ধ করে দেয়। যদিও এর ঠিক পাঁচ বছর পরে লিউদমিলার সঙ্গে তার বিয়েবিচ্ছেদ হয়। সে সময় কাভায়েভা একজন সফল ক্রীড়াবিদ থেকে রাজনীতিকে পরিণত হচ্ছিলেন। যার ঝুলিতে ছিল এথেন্স অলিম্পিকের স্বর্ণপদকের পাশাপাশি ১৮টি শীর্ষ চ্যাম্পিয়নশিপ পদক ও ২৫টি ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়নশিপ পদক।

বলা হয়ে থাকে, তার সময়ে তিনিই ছিলেন সেরা জিমন্যাস্ট, যা তাকে একজন ধনী নারীতে পরিণত করে। তাকে বলা হতো রাশিয়ার সবচেয়ে নমনীয় নারী।

রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে তার প্রথম কবে সাক্ষাৎ হয়েছিল তা স্পষ্ট জানা না গেলেও দেশের শীর্ষ একজন ক্রীড়াবিদের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সাক্ষাৎ অস্বাভাবিক কিছু না।

কাভায়েভার জন্ম ১৯৮৩ সালে। মাত্র ৪ বছর বয়স থেকে তিনি জিমন্যাস্টিকস শুরু করেন। তার প্রশিক্ষক ইরিনা ভিনার বলেছিলেন, ‘আমি নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে পারছিলাম না, যখন আমি তাকে প্রথম দেখেছিলাম। মেয়েটির ছন্দোবদ্ধ জিমন্যাস্টিকসে গুরুত্বপূর্ণ দুটি গুণের বিরল সমন্বয় ছিল- নমনীয়তা ও তৎপরতা।’

১৯৯৬ সালে আন্তর্জাতিক জিমন্যাস্ট হিসেবে অভিষেক হয়েছিল এবং ১৯৯৮ সালে তিনি ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়নশিপে বিজয়ী হন। এভাবেই তার উত্থান। তবে জিমন্যাস্ট থেকে অবসরের পর তিনি রাজনীতি ও মিডিয়ায় মন দেন। ২০১৪ সালে তিনি রাশিয়ার ন্যাশনাল মিডিয়া গ্রুপের প্রধান হন। এই মিডিয়া গ্রুপের বিরুদ্ধে ইউক্রেন ইস্যুতে অপপ্রচার ও গুজব চালানোর অভিযোগ করে আসছে পশ্চিমারা।

একজন রাজনীতিবিদ, নিম্নকক্ষের সাবেক সদস্য ও মিডিয়ায় তার অবস্থান তাকে একজন ধনী নারীতে পরিণত করেছে। ফাঁস হওয়া এক নথিতে দেখা গেছে, তিনি বছরে প্রায় ১২ মিলিয়ন ডলার আয় করেন।