Amar Praner Bangladesh

পুতিনের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের বিচার চাইলেন বাইডেন

 

 

 

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ

 

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন সোমবার রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের বিচারের আহ্বান জানিয়েছেন। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভের শহরতলি বুকাতে, রাশিয়ার সৈন্যদের দ্বারা অপরাধ সংঘটনের অভিযোগ উঠে এসেছে। রুশ বাহিনীর এমন কর্মকান্ডের জন্য পুতিনের প্রতি নিন্দা জানিয়েছেন বাইডেন।

হোয়াইট হাউজে সাংবাদিকদের বাইডেন বলেন, “আপনাদের হয়ত মনে আছে যে, পুতিনকে যুদ্ধাপরাধী বলার কারণে আমাকে সমালোচনা করা হয়েছিল।” তিনি আরও বলেন, “তবে, ঘটনার সত্যতা হচ্ছে, আপনারা দেখেছেন যে বুকায় কি ঘটেছে। এটার অর্থ – যে তিনি একজন যুদ্ধাপরাধী। কিন্তু আমাদের সেই তথ্য জোগাড় করতে হবে।”

সপ্তাহান্তটি তার নিজ অঙ্গরাজ্য ডেলাওয়্যারে কাটিয়েছেন বাইডেন। সেখান থেকে ওয়াশিংটনে ফিরে পুতিন সম্পর্কে বাইডেন বলেন, “এই মানুষটি নিষ্ঠুর এবং বুকায় যা হচ্ছে সেটা জঘন্য, এবং সবাই সেটা দেখেছে।” তিনি আরও বলেন, “হ্যাঁ, আমি নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা অব্যাহত রাখব।”

ইউক্রেনের প্রসিকিউটর জেনারেল, ইরিনা ভেনেডিকটোভা জানান যে, কিয়েভের কাছের শহরগুলো থেকে ৪১০ জন বেসামরিক মানুষের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এলাকাগুলোকে সাম্প্রতিক সময়ে রুশ বাহিনীর হাত থেকে পুনর্দখল করা হয়।

ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট আরসুলা ভন ডার লেয়েন সোমবার টুইটারে জানান যে, “যুদ্ধাপরাধ লিপিবদ্ধ করতে” তাকে সহায়তা করার জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়ন ইউক্রেনে তদন্তকারী পাঠাবে।

এদিকে, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেন্সকি সোমবার যুদ্ধবিধ্বস্ত বুকা পরিদর্শন করেন। জাতীয় টেলিভিশনে তিনি জাতির উদ্দেশ্যে বলেন যে, মস্কোর সৈন্যদের দ্বারা সংঘটিত অত্যাচারগুলো যখন আরও পরিষ্কার হয়ে এসেছে, তখন রাশিয়ার সাথে যুদ্ধ সমাপ্তির আলোচনা করাটা আরও কঠিন হয়ে গিয়েছে।

এমন প্রমাণ বেরিয়ে আসছে যে, বেসামরিক মানুষজনকে একসাথে বেঁধে কাছ থেকে গুলি করে মেরে ফেলা হয়েছে। এছাড়াও একটি গণকবরের সন্ধান পাওয়া গিয়েছে এবং বুকার রাস্তায় মানুষজনের মৃতদেহ বিক্ষিপ্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা গিয়েছে। জেলেন্সকি ঘোষণা দেন, “এগুলো যুদ্ধাপরাধ এবং বিশ্ব এটিকে গণহত্যা হিসেবে আখ্যায়িত করবে।”

বুকায় বেসামরিক মানুষ হত্যার অভিযোগ নাকচ করেছে রাশিয়া। রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সার্গে ল্যাভরভ কিয়েভের আশপাশের পরিস্থিতিটিকে একটি “রুশ বিরোধী মঞ্চায়িত উস্কানি” হিসেবে বিশেষায়িত করেছেন।