Amar Praner Bangladesh

পুলিশ কর্মকর্তাকে বেধড়ক মারধর করল সন্ত্রাসী শরীফ

 

(৩ দিনেও গ্রেপ্তার হয়নি দক্ষিণখান এলাকার ছাত্রলীগ নেতা মেহেদী হাসান শরীফ ও তার সহযোগীরা)

 

 

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

 

রাজধানীর দক্ষিণখান থানাধীন আশকোনায় পুলিশের এক এএসআইকে বেধড়ক মারধর করেছে ছাত্রলীগ নেতা মেহেদী হাসান শরীফ ও তার সহযোগী দুর্বৃত্তরা। মারধরের ঘটনায় দক্ষিণখান থানায় মামলা করেছেন পুলিশের বিশেষ শাখায় (এসবি) কর্মরত সহকারী-পরিদর্শক (এএসআই) মুঞ্জুরুল হক। বিমানবন্দর থানা ছাত্রলীগ সভাপতি শরীফের দ্বারা এর আগেও অনেকেই হামলার শিকার হয়েছেন। ক্ষমতাসীন দলের নেতার দাপট দেখিয়ে তিনি এলাকায় নানা অপরাধ-অপকর্মসহ সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত বলে এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে।

পরিচয় দেয়ার পরও পুলিশ সদস্যের ওপর অকারণে হামলা ও পুলিশকে গালাগালি করার ঘটনায় শরীফ ও তার সহযোগী আলীম এবং রিপনসহ সকল আসামিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছেন দক্ষিণখান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামুনুর রহমান।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, দক্ষিণখানের আশকোনা এলাকায় সপরিবারে বসবাস করেন এসবিতে কর্মরত পুলিশ সদস্য এএসআই মুঞ্জুরুল হক। গত বুধবার শেষ বিকালে তিনি ইফতার সামগ্রী ক্রয় করার জন্য আশকোনা কমিউনিটি সেন্টারের সামনের পার্কিং বাইক থামান। এ সময় সেখানে চেয়ার পেতে আড্ডা দিচ্ছিলেন স্থানীয় ছাত্রলীগ সভাপতি মেহেদী হাসান শরীফসহ কয়েকজন। মোটরসাইকেল সরিয়ে নিতে মুঞ্জুরুলকে গালাগালি শুরু করেন তারা।

পার্কিংয়ে গাড়ি রাখার পরও কেন গালাগালি-কারণ জানতে চাইলে বিনা কারণে উত্তেজিত হন শরীফ বাহিনী। অবস্থা বুঝতে পেরে সাদা পোশাকে থাকা পুলিশ সদস্য মুঞ্জুরুল তার পরিচয় দেন। তখন তার কাছে গিয়ে শরীরে কয়েকটি ধাক্কা দিয়ে পুলিশকে গালাগাল করা হয়। পরে ছাত্রলীগ নেতা শরীফ, তার সহযোগী আলীম ও রিপনসহ আরো ৭-৮ জন এএসআই মুঞ্জুরুল হককে কিল-ঘুষি মারতে থাকেন। তাদের হামলায় এক পর্যায়ে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে আশপাশের লোকজনের সহায়তায় রক্ষা পান ও হাসপাতালে গিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা নেন ওই পুলিশ সদস্য।

জানা গেছে, স্থানীয় দুর্বৃত্তদের দ্বারা হামলার শিকার হওয়ার বিষয়টি ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের জানান। তাদের পরামর্শে  দক্ষিণখান থানায় হত্যাচেষ্টা মামলা করেন ভিকটিম এসআই মুঞ্জুরুল হক। মামলায় আশকোনার তালুকদার পাড়ার ছামির উদ্দিন মোল্লার ছেলে মেহেদী হাসান শরীফকে (৩২) এক নম্বর আসামি করা হয়। একই এলাকার আব্দুল আলীম ও রিপনসহ অজ্ঞাত আরো ৭-৮ জনকে আসামি করা হয়।

এসআই মো. হাফিজুর রহমানকে মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। ঘটনাস্থলের বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে ওই পুলিশ সদস্যের ওপর শরীফ বাহিনীর হামলার সত্যতা মিলেছে।

স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, ক্ষমতার দাপটে এলাকার বেপরোয়া আচরণ করছে ওই শরীফ বাহিনী। গোটা এলাকায় তারা বিভিন্ন ধরনের অপকর্ম ও অপরাধে জড়িত। কিন্তু সরকারি দলের রাজনীতির সঙ্গে থাকার কারণে কেউ মুখ খোলার সাহস পায়নি।