বৃহস্পতিবার, ২৩ মার্চ ২০২৩, ০৯:০৭ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
গাজীপুরে মেয়র পদপ্রার্থী রাসেল সরকারের উদ্যোগে ইফতার সামগ্রী বিতরণ নড়াইলে চোর চক্রের ৬ সদস্যকে গ্রেফতার, জেলা পুলিশ সুপারের সংবাদ সম্মেলন মানিকগঞ্জে বিশ্ব পানি দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা ইএসডিও-রেসকিউ প্রকল্পের উদ্যোগে উদ্যোক্তা ও স্টেকহোল্ডারদের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত পবিত্র মাহে রমজান ও আসন্ন ঈদ-উল ফিতর উপলক্ষে আইন শৃংঙ্খলা ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত মতবিনিময় সভা সমাজের সকল মতাদর্শের মানুষের কাছে একজন দক্ষ ও পরিশ্রমী চেয়ারম্যান খোকা স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি বাচ্চু মন্ডলের পদত্যাগ দাবীতে শিক্ষার্থীদের মিছিল সাতক্ষীরায় ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারের মাঝে জমির দলিল ও চাবি হস্তান্তর বাগেরহাটের মোংলায় আ’লীগ নেতার বিরুদ্ধে কৃষি জমি দখলের অভিযোগ, প্রতিবাদে এলাকাবাসীর বিক্ষোভ শ্রীবরদীতে ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারের মাঝে জমিসহ গৃহ হস্তান্তর

পুলিশ বিভাগে জবাবদিহিতা স্বচ্ছতার উদ্যোগ : সময়পযোগী

Reporter Name
  • Update Time : রবিবার, ১৭ জানুয়ারী, ২০২১
  • ৩৯ Time View

 

শের ই গুল :

পুলিশ সদস্যরা যাতে ‘জনগণের পুলিশ’ হয়ে উঠতে পারেন, সেজন্য প্রশিক্ষণ পর্ব থেকেই তাদের সেভাবে গড়ে তোলার ওপর জোর দিয়েছেন পুলিশ মহাপরিদর্শক বেনজীর আহমেদ। পুলিশে ‘পরিবর্তনের সূচনা হয়েছে’ মন্তব্য করে তিনি বলেছেন, জনগণের সাথে দুর্ব্যবহারকারী এবং দুর্নীতিবাজকে পুলিশ হিসাবে দেখতে চাই না। আমরা পুলিশে জঞ্জাল পরিষ্কার করতে চাই।

আমরা ভালো পুলিশ চাই। বাংলাদেশ পুলিশকে জনগণের পুলিশ হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। বেনজীর আহমেদ বলেন, “আমরা কোয়ালিটি পুলিশ চাই, কোয়ালিটি সার্ভিস চাই। আমাদেরকে পরিবর্তন হতে হবে। এটা যুগের প্রয়োজন, সময়ের চাহিদা।

বর্তমান জনবান্ধব ও যোগ্য ডিএমপি পুলিশ কমিশনার পুলিশ বিভাগে জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা আনার জন্য বেশ কিছু উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। থানায় সেবাগ্রহীরা যেন হয়রানির শিকার না হয় এবং কোনভাবে কেউ যেন পুলিশী সেবা থেকে বঞ্চিত না হয় এজন্য এসব উদ্যোগ। ভুক্তভোগী কেউ থানায় মামলা করতে গেলে মামলা না নিয়ে হয়রানির শিকার হচ্ছেন কি না, সাধারণ ডাইরি করতে গেলে কালক্ষেপন করা হয় কিনা, জিডির তদন্ত করতে তদন্তকারী কর্মকর্তা গাফিলতি করছেন কিনা তার প্রতিকার করার জন্য পুলিশের উর্ধ্বতন বিভাগ থেকে এসব উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

রাস্তায় পুলিশ কোন ব্যক্তিকে বুট দিয়ে আঘাত করছে কি না এবং অকারণে খারাপ আচরন করেছে কি না তাও উল্লিখিত উদ্যোগের মধ্যে রয়েছে। রাস্তাঘাটে প্রায়ই দেখা যায় পুলিশ রিকশা থামিয়ে যাত্রির পকেটে হাত ঢুকিয়ে মানি ব্যাগ বের করে কী যেন দেখতে চাইছে। আবার দেহ তল্লাশির নামে ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। আইন জানে না এবং অল্প শিক্ষিত লোকদের জন্য পুলিশের এধরনের আচরন ভয়ের কারণ। কেননা, পুলিশ দেহ তল্লাশী ও পকেট তল্লাশীর নামে অনেক লোককে রাস্তায় হয়ারনি করে মর্মে বিস্তর অভিযোগ রয়েছে।

ঢাকার যাত্রাবাড়ী থানা থেকে একটু পশ্চিমে গেল যাত্রাবাড়ী আইডিয়াল স্কুল ও কলেজের সামান্য পূর্ব পাশে প্রধান সড়কে পুলিশের কিছু কন্সটেবল প্রতিদিনই এধরনের পকেট তল্লাশি ও দেহ তল্লাশি করেছে বলে দেখা যায়। সায়দাবাদ রেল ক্রসিং পার হলে একটু পশ্চিমে স্বামীবাগ কবরস্থানের পাশের রাস্তায় ওয়ারী থানা পুলিশের একই তৎপরতা দেখা যায়। জানা যায় এই কর্মটি সারাদেশ ব্যাপী কম বেশি চলছে। রাজধানীর উত্তরায় বসবাস করেন বিগত ২৫ বছর ধরে গোপালগঞ্জ নিজড়ার সাংবাদিক রবিউল আলম রাজু সে একটি সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারের সন্তান।

সাংবাদিকতার পূর্বে তিনি ছিলেন বাংলাদেশ রাইফেলস’র অতন্ত্র প্রহরী। তার জীবনদশায় নেই কোন কালিমা। তার একেরপর এক সংবাদে যখন অপরাধীদের মুখোশ উন্মোচিত হচ্ছিল তখন রাজধানী উত্তরার তুরাগ থানার এ.এস.আই হরিদাস এবং এস.আই শাহীন একটি মাদক সেবনকারী সোর্স জিয়ার নেতৃত্বে একটি কু-চক্রী মহলের সাথে আতাত করে কৌশলে বাসা থেকে সংবাদ সংগ্রহের কথা বলে ডেকে থানায় এনে তাকে অবৈধ ভাবে আটকে রেখে তার পকেট থেকে বাসার চাবি নিয়ে ঘরের মধ্যে ইয়াবা রেখে মিথ্যা নাটক সাজিয়ে তার বিরুদ্ধে মাদক আইনে মামলা করে। আবার তার বাসায় থাকা আলমারী থেকে এই চক্র এবং অসাধু পুলিশরা হাতিয়ে নেয় ২৫ হাজার টাকা। টাকার কথা এস.আই শাহীনকে জিজ্ঞাসা করলে সে জানায় এরকম টাকা গেলে কাউকে বলতে হয়না, বেশি বাড়াবাড়ি করলে আবার মামলা খাবেন।

এই মিথ্যা মাদক মামলা আইন আদালতে ইতিমধ্যে মিথ্যা হিসেবে প্রতিয়মান হচ্ছে। অথচ এ.এস.আই হরিদাস মাদক সংক্রান্ত বিষয়ের সাথে জড়িত আছে মর্মে তাকে দ্রুত অন্যত্র বদলি করা হয় বলে জানা যায়। বাংলাদেশ পুলিশ বাংলাদেশের গর্ব।

সর্বস্তরের জনগণের নিরাপত্তার অতন্ত্র প্রহরী। অথচ নামমাত্র কিছু অসাধু পুলিশের কারণে পুলিশ বাহিনীর বদনাম যেন মুছতেই চায় না। বিভিন্ন স্থানে তল্লাশির পর যাত্রীকে একের পর এক প্রশ্ন করা হয়, কোথায় যাবেন, কী করেন, এখানে কেন ইত্যাদি প্রশ্নবাণে জর্জরিত করে নার্ভাস করার চেষ্টা। কারণ অসহায় যাত্রী নার্ভাস হলেই পুলিশের উদ্দেশ্য সফল হয়। রিকশা বা সিএনজি থামিয়ে এভাবে যাত্রিকে নামিয়ে পকেটে হাত ঢুকানো পুলিশের আইনে কতটুকু অনুমোদিত তার সঠিক চর্চা পুলিশকেই করতে হবে। তবে তল্লাশির নামে পকেটে মাদক ঢুকিয়ে দিয়ে ফাঁসানো ও জুলুম নির্যাতন করা বেশ কিছু পুলিশের দানবীয় কাজে পরিণত হয়েছে বলে গণমাধ্যমে অনেক সংবাদ এসেছে।

বিশেষ করে রাতের বেলায় পুলিশের পাশ দিয়ে অনেকে যেতেই ভয় পায়। কারণ কোন না কোন অজুহাতে ধরে থানায় নিয়ে যেতে পারে। ছিনতাই করার সময় জনতার হাতে ধরা পড়ে অনেক পুলিশ গণধোলাই খেয়েছে এমন ঘটনা অতীতে অনেকবার ঘটেছে। পুলিশ হেফাজতে নির্যাতনে মৃত্যু এখনও কমছে না। চাহিদা মোতাবেক টাকা দিতে না পারার কারণে এধরনের নির্যাতন করা হয় বলে প্রকাশ। এছাড়া পুলিশের একজন পরিদর্শক পদের কর্মকর্তার সম্পদের পাহাড় নিয়ে প্রায়ই গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হচ্ছে। কক্সবাজারের বহুল আলোচিত ওসি প্রদীপ এর অন্যতম উদাহারণ।

ইতোমধ্যে ডিআইজি হাবিবুর রাহমানও অনেক জনবান্ধব ও প্রশংসনীয় উদ্যোগ নিয়েছেন যা পুলিশ ও জনগনের মধ্যে দুরত্ব কমিয়ে আনতে সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করবে বলে আমাদের প্রত্যাশা। পুলিশ বিভাগে অনেক ভাল মানুষ আছেন যাদেরকে সামনে নিয়ে আসতে হবে। অসৎ পুলিশের অপকর্মের কারণে গোটা বাহিনী কলঙ্কিত হবে এটা কাম্য নয়। তবে পুলিশকে দানবীয় না হয়ে মানবিক হওয়ার আহবান জানাই।

 

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

এই সাইটের কোন লেখা কপি পেস্ট করা আইনত দন্ডনীয়