Amar Praner Bangladesh

পুলিশ সদর দপ্তর নানা উদ্যোগ নিয়েও পুলিশ সদস্যদের অপরাধ ঠেকাতে পারছে না

 

(পুলিশের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের তদন্ত করে শাস্তি দেয় পুলিশ। ফলে অধিকাংশ ক্ষেত্রে অপরাধীরা পার পেয়ে যাচ্ছে। উন্নত বিশ্বে পুলিশের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ এলে আলাদা কমিশন করে তার বিচার করা হয়। ওইসব দেশের মতো বাংলাদেশেও এই ধরনের প্রথা চালু করলে পুলিশের অপরাধ অনেকাংশে কমে আসবে।)

 

 

শের ই গুল :

 

ঢাকাসহ সারা দেশের থানা ও ইউনিটগুলোতে কঠোর নজরদারি সত্ত্বেও নিয়ন্ত্রণে আসছে না পুলিশের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড। গত ১২ বছরে প্রায় ১ লক্ষ ৪১ হাজার পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে নানা ধরনের অপকর্মে জড়ানোর অভিযোগ উঠেছে। ঘটনা ঘটলেই তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত প্রতিবেদনের আলোকে অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যদের বদলি, প্রত্যাহার বা সাময়িক বরখাস্তের মতো লঘু ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। কিন্তু ফৌজদারি আইনে তাঁদের সাজা হচ্ছে না। আবার মাঝেমধ্যে তদন্ত কমিটি কিছু সুপারিশ করলেও তা বাস্তবায়িত হচ্ছে না বলেও অভিযোগ আছে। ছিনতাই, হত্যা, অপহরণ, মাদক কেনাবেচা, অপরাধীকে শেল্টার, জমি দখল, ধর্ষণ, প্রতারণাসহ নানা অপরাধে পুলিশ সদস্যদের সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগ পাচ্ছেন পুলিশ কর্মকর্তারা। প্রতিদিনই পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ও পুলিশের সব ইউনিট প্রধানের কাছে অভিযোগ আসছে।

গত সাড়ে ৫ বছরে ৬৬ হাজারের বেশি অভিযোগ এসেছে বলে পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে। ২০১৭ সালের ১৩ নভেম্বর সাবেক আইজিপি এ কে এম শহীদুল হক আইজিপি কমপ্লেইন সেল চালু করার পর থেকে পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ বেশি আসছে বলে পুলিশ কর্মকর্তারা প্রাণের বাংলাদেশকে জানিয়েছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ বেড়ে যাওয়ায় পুলিশ কর্মকর্তারাও বিব্রত। এই নিয়ে পুলিশ সদর দপ্তরে কয়েক দফা বৈঠক করেছেন আইজিপিসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। পুলিশের অপরাধ রুখতে প্রতিটি জেলায় গোয়েন্দাদের নিয়ে বিশেষ টিম গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ইতিমধ্যে জেলা পুলিশ সুপাররা টিম গঠন করার কাজ শুরু করে দিয়েছেন। অপরাধ বিশ্লেষকরা বলছেন, পুলিশের কোনো সদস্য অপরাধ করলে তার বিরুদ্ধে দেশের প্রচলিত আইনে বিচারের বিধান থাকলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তা কার্যকর হচ্ছে না। অনেক ক্ষেত্রে ফৌজদারি অপরাধের বিচারও করা হয় বিভাগীয় আইনে।

এ ক্ষেত্রে অভিযুক্তদের ‘বিভাগীয় শাস্তির আওতায়’ আনার কথা বলে আড়াল করার অভিযোগ রয়েছে। পুলিশের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের তদন্ত করে শাস্তি দেয় পুলিশ। ফলে অধিকাংশ ক্ষেত্রে অপরাধীরা পার পেয়ে যাচ্ছে। উন্নত বিশ্বে পুলিশের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ এলে আলাদা কমিশন করে তার বিচার করা হয়। ওইসব দেশের মতো বাংলাদেশেও এই ধরনের প্রথা চালু করলে পুলিশের অপরাধ অনেকাংশে কমে আসবে। জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান প্রাণের বাংলাদেশকে বলেন, পুলিশের যেসব সদস্য অপকর্ম করছে তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে শাস্তি দেওয়া হচ্ছে। অনেককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কাউকে ছাড় দেওয়া হচ্ছে না।

তিনি আরও বলেন, পুলিশের মতো একটি বিশাল বাহিনীর সদস্যদের ব্যক্তিগত অপকর্ম বা অপরাধের দায় কর্তৃপক্ষ নেবে না। বর্তমান পুলিশ বাহিনী অত্যন্ত সুশৃঙ্খল, সুনিয়ন্ত্রিত ও সংগঠিত। এখানে কেউ অপরাধ করে পার পেয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। বাংলাদেশ পুলিশ বাংলাদেশের গর্ব। দেশ ও বিদেশে রয়েছে তাদের অনেক প্রশংসনীয় কাজ। অনুসন্ধান করে জানা গেছে, অনেক ভালো পুলিশ কর্মকর্তা ও সদস্যদের জন্য এখনো পুলিশ বাহিনীর ভাবমূর্তি রয়েছে উজ্জ্বল।

ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মোহা. শফিকুল ইসলাম বলেছেন, পুলিশের কোনো সদস্য অপরাধ করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ইতিমধ্যে অনেক পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি পুলিশের এক সদস্যকে সোনা লুটের ঘটনায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ রকম আরও অনেকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে পাওয়া তথ্য বলছে, প্রতিবছরই পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে অভিযোগ বাড়ছে। ২০১৮ সালে ১৪ হাজার ৪০২ জনের বিরুদ্ধে পাওয়া গেছে। পরের বছর এই সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১৪ হাজার ৫১২। ২০২০ সালে আরও বেড়ে এই সংখ্যা দাঁড়ায় ১৫ হাজার ২১২। গত বছর ১৬ হাজার ৪১৮ পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ জমা পড়ে। চলতি বছরের জুন পর্যন্ত অভিযোগ জমা পড়েছে ১ হাজারের বেশি পুলিশের বিরুদ্ধে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা প্রাণের বাংলাদেশকে জানান, গত ১৭ জুলাই রাজধানীর গাবতলী বাস টার্মিনালের সামনে একটি সোনার দোকানের কর্মচারীর কাছ থেকে ৩৮ ভরি ১৪ আনা স্বর্ণালংকার ছিনতাই করে পুলিশের এক সহকারী উপপরিদর্শকের (এএসআই) নেতৃত্বে একটি ছিনতাইকারী চক্র।

পুলিশের কাছে অভিযোগ আসার পর চক্রের মূল হোতা রূপনগর থানার এএসআই জাহিদুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে আরও কয়েকটি ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন জাহিদ। এমনকি তিনি কয়েকজন সহকর্মীর নামও বলেছেন। ওই ঘটনায় রূপনগর থানার উপপরির্দশক (এসআই) মাসুদুর রহমানকে থানা থেকে ক্লোজড করে মিরপুর উপ-পুলিশ কমিশনার কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে।

পুলিশ তথ্য পেয়েছ, রূপনগর থানার ‘হোন্ডা টহল টিম’ নামে একাধিক টিমের মধ্যে একটির নেতৃত্ব দিতেন এসআই মাসুদুর রহমান। এই টিমের বিরুদ্ধে নানা ধরনের অনিয়ম, দুর্নীতির ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির অভিযোগ রয়েছে। ওই টিমের সদস্য ছিলেন এএসআই জাহিদুল। রাজধানীর দক্ষিণখান ফায়দাবাদ কোটবাড়ী এলাকায় জ্বীনের বাদশা সেজে সরোয়ার সাধারণ মানুষের সাথে প্রতারণা করে আসছিলো। সম্প্রতি তাকে র‌্যাব গ্রেফতার করে। বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায়, এই প্রতারক সরোয়ারকে সিআইডি অফিসের কন্সটেবল মিজান শেল্টার দিয়ে আসছিলো।

মিজান নিজেকে এস আই বলে পরিচয় দিয়ে কয়েক মাস পর পর প্রতারক সরোয়ারের আস্তানা পরিবর্তন করে থানার সাথে চুক্তির দায়িত্ব পালন করে। মিজানের ব্যাকগ্রাউন্ড চেক করলে বেরিয়ে আসবে থলের বিড়াল। গত ৮ জুলাই চট্টগ্রামে ইয়াবাসহ চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) বিশেষ শাখার কনস্টেবল উপল চাকমা, নান্টু দাশ, কামরুল ইসলাম ও মো. গিয়াসউদ্দিন নামে চারজনকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। তাদের কাছ থেকে ৫ হাজার ২৬০টি ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। ১৪ জুলাই ফরিদপুরের ভাঙ্গা বাজারে এএসআই বাবুলের ভাড়া বাসা থেকে ৪০ ভরি সোনা উদ্ধার করা হয়।

এ সময় বাবুল ও তার সহযোগী পুলিশ সোর্স মেহেদী হাসান মৃদুল মুন্সীকে গ্রেপ্তার করা হয়। অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে সোনা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। একই দিন রাজধানীর ইংলিশ রোডের সামনে থেকে ৪০ শাঁখারীবাজারের মৃত নীলকান্ত দত্তের ছেলে ঝুলন দত্ত মন্টিকে আটক করেন বংশাল থানার এসআই রায়হান। তার পাশে থাকা পুলিশ সোর্স মন্টির পকেটে ২০ পিস ইয়াবা ঢুকিয়ে দিয়ে থানায় ধরে নিয়ে যায়। এ সময় এসআই রায়হান মন্টির মা পঙ্গু ঝর্ণা দত্তের কাছে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করেন। টাকা দিতে না পারায় মাদক মামলায় মন্টিকে ১৫ জুলাই জেলহাজতে পাঠানো হয়। ২০১০ থেকে ২০১৭ এই সাত বছরে নানা অপরাধে জড়িত থাকার দায়ে অন্তত ৭৫ হাজার পুলিশ সদস্যকে অর্থদণ্ড, তিরস্কার, বদলি, বরখাস্ত, বাধ্যতামূলক অবসর ও চাকরিচ্যুত করা হয়েছিলো। বর্তমান ডিএমপির গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) প্রধান ও অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার হারুন অর রশিদ প্রাণের বাংলাদেশকে বলেন, দুই লাখের ওপরে সদস্য আছে পুলিশ বাহিনীতে।

বাংলাদেশ পুলিশের জনবল দ্বিগুণ করার দাবি জানানো হয়েছে। বর্তমানে পুলিশে জনবলের সংখ্যা প্রায় ২ লাখ ১২ হাজার। কিন্তু জাতিসংঘের স্ট্যান্ডার্ড অনুযায়ী সেবা দিতে হলে আরও দুই লাখ ১২ হাজার জনবল প্রয়োজন। কোনো ব্যক্তির অপরাধের দায় পুলিশ বাহিনী নেবে না, আগেও নেয়নি, ভবিষ্যতেও নেবে না। পুলিশ সূত্র জানায়, পুলিশ আইন অনুযায়ী, কোনো পুলিশ সদস্য অপরাধমূলক কাজে জড়ালে তার বিরুদ্ধে দুই ধরনের বিভাগীয় শাস্তির (লঘু ও গুরু) বিধান আছে। গুরুদণ্ডের আওতায় চাকরি থেকে বরখাস্ত, পদাবনতি, পদোন্নতি স্থগিত, বেতন বৃদ্ধি স্থগিত ও চাকরিকালীন সুযোগ-সুবিধা রহিত করা হয়।

অপরাধ প্রমাণ হলে বরখাস্ত করা হয়। গুরুদণ্ডের বিরুদ্ধে আপিলের সুযোগ আছে। ছোট অনিয়ম বা অপরাধের জন্য দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার, পুলিশ লাইনস বা রেঞ্জে সংযুক্ত করে লঘুদণ্ড দেওয়া হয়। বিসিএস ক্যাডারের পুলিশ কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে সরকারি চাকরি আইন-২০১৮ (শৃঙ্খলা ও আপিল) অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়। সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) থেকে তদূর্ধ্ব কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ খতিয়ে দেখতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগে একটি সেল রয়েছে। পুলিশ সদর দপ্তরের ডিআইজি পদমর্যাদার এক কর্মকর্তা প্রাণের বাংলাদেশকে বলেন, পুলিশ সদস্যদের অপরাধ বেড়ে যাওয়ার তথ্য পেয়ে পুলিশ সদর দপ্তরে কয়েক দফা বৈঠক হয়েছে। প্রতিটি জেলা ও মেট্রো এলাকায় বিশেষ টিম গঠন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে করা অভিযোগের নিষ্পত্তি হয় মূলত পুলিশের নিজস্ব আইন অনুযায়ী। অভ্যন্তরীণ বা বাইরের কারও কাছ থেকে অভিযোগ পাওয়ার পর প্রাথমিক তদন্ত শেষে অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট ফরমে বিভাগীয় মামলা করা হয়। তারপর বিভিন্ন পদ্ধতি ও পর্যায় অতিক্রম শেষে শাস্তির আদেশ কিংবা মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি করা হয়। কয়েকজন পুলিশ সুপার বলেছেন, মাসখানেক আগে পুলিশ সদর দপ্তর থেকে একটি নির্দেশনা আসে। ওই নির্দেশনায় পুলিশ সদস্যদের অপরাধ ঠেকাতে জেলায় বিশেষ টিম গঠন করতে বলা হয়েছে। সেই প্রক্রিয়া শুরু করেছেন তারা। ওই টিমের কাজ হবে শুধু অপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্ত পুলিশ সদস্যদের কর্মকান্ড নজরদারি করে আইনের আওতায় আনা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাধ বিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. জিয়া রহমান প্রাণের বাংলাদেশকে বলেন, ‘অপরাধে জড়িত পুলিশ সদস্যদের সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করতে হলে পুলিশকে অবশ্যই ঢেলে সাজাতে হবে। আইজিপির সক্ষমতা বৃদ্ধি করা না হলে পুলিশে শৃঙ্খলা থাকবে না। এখনো শুধু কনস্টেবল থেকে ওসি পর্যন্ত পুলিশ সদস্যরা অপরাধ করলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারেন আইজিপি। কিন্তু ডিসি, এসপি, ডিআইজি পদমর্যাদার কেউ অপরাধের সঙ্গে জড়িয়ে পড়লে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কোনো সুযোগ আইজিপির নেই। তাই আমি মনে করি আইজিপির সক্ষমতা বৃদ্ধি করার কোনো বিকল্প নেই।

সূত্র জানায়, পুলিশের অপরাধপ্রবণতা কমিয়ে আনতে পুলিশ সুপারদের কাছে বিশেষ চিঠি পাঠিয়েছে পুলিশ সদর দপ্তর। তা ছাড়া ডিএমপির অনেক থানায় চলছে গোপন নজরদারি। যেসব থানা পুলিশ সদস্যের অতীত রেকর্ড ভালো নয় সেসব থানায় বেশি নজরদারি চালানো হচ্ছে। যেসব এলাকায় পুলিশের মধ্যে অপরাধপ্রবণতা বেশি তার ভিত্তিতে একটি তালিকা তৈরি করা হয়েছে, এর ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে পুলিশের এক কর্মকর্তা প্রাণের বাংলাদেশকে জানান।