Amar Praner Bangladesh

পুলিৎজার পুরস্কার পেলেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ফাহমিদা

 

 

শাহরিয়ার মামুন :

 

সাংবাদিকতা ও প্রকাশনার বিভিন্ন ক্ষেত্রে সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার পুলিৎজার পেয়েছেন চিত্রশিল্পী ও অলঙ্করণ শিল্পী বাংলাদেশি-আমেরিকান ফাহমিদা আজিম। উইঘুর নির্যাতন নিয়ে ইনসাইডার ওয়েবসাইট প্রকাশিত ‘হাউ আই এসকেপড আ চায়নিজ ইন্টার্নমেন্ট ক্যাম্প’ শিরোনামের ইলাস্ট্রেটেড রিপোর্ট-এ অলঙ্করণের জন্য তিনি এ পুরস্কার জিতে নেন।

ছয় বছর বয়সে মা-বাবার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ায় পাড়ি জমান ফাহমিদা। লেখাপড়া শুরুর প্রথম থেকেই তার স্বপ্ন ছিল খ্যাতনামা একজন চিত্রশিল্পী হওয়ার। সেই লক্ষ্যে ফাহমিদা পড়াশুনা করেন কম্যুনিকেশন্স আর্টে। বর্তমানে তিনি ওয়াশিংটনের সিয়াটলে একটি কোম্পানিতে গ্রাফিক ডিজাইনার হিসেবে কাজ করছেন। এর আগে বাংলাদেশি আলোকচিত্রী পনির হোসেন ২০১৮ সালে রয়টার্সের পাঁচ ফটো-সাংবাদিকদের সঙ্গে পুলিৎজার জেতেন। তবে ফাহমিদা হচ্ছেন প্রথম কোনও বাংলাদেশি-আমেরিকান যিনি পুলিৎজার পুরস্কার পেলেন। ফাহমিদা আজিম এর আগে ‘সামিরা সার্ফ’ বইটিতে অলঙ্করণের জন্যে এ বছরই ‘গোল্ডেন কাইট’ পুরস্কার পান।

চীনে উইঘুর নির্যাতন নিয়ে ইলাস্ট্রেটেড প্রতিবেদন তৈরি করে চলতি বছরের পুলিৎজার পুরস্কার বিজয়ী দলের একজন ফাহমিদা আজিম। ২০০১ সালের ২৮ ডিসেম্বর নিউইয়র্কের সংবাদমাধ্যম ‘ইনসাইডার’-এ ওই প্রতিবেদন প্রকাশ হয়।

‘ইলাস্ট্রেটেড রিপোর্টিং অ্যান্ড কমেন্টারি ক্যাটাগরিতে’ ফাহমিদা ছাড়াও পুরস্কার বিজয়ী দলে রয়েছেন অ্যান্থনি ডেল কোল, জোশ অ্যাডামস ও ইনসাইডারের ওয়াল্ট হিকি। পুলিৎজার কর্তৃপক্ষ বলেছে, তারা উইঘুরদের ওপর চীনা নিপীড়নের একটি শক্তিশালী ও অন্তরঙ্গ কাহিনী বলার জন্য গ্রাফিক রিপোর্ট ও কমিক্স মাধ্যম ব্যবহার করে সমস্যাটিকে সাধারণ মানুষের কাছে নিয়ে গেছেন।

ফাহমিদা সম্পর্কে পুলিৎজার কর্তৃপক্ষ বলেছে, ফাহমিদা একজন ইলাস্ট্রেটর ও স্টোরিটেলার যিনি কাজ করেন মানুষের পরিচয়, সংস্কৃতি ও স্বাধীনতা নিয়ে।

পুলিৎজার পুরস্কার ওয়েবসাইটে ফাহমিদাকে নিয়ে এক সংক্ষিপ্ত বিবরণে বলা হয়েছে, তিনি দ্য নিউইয়র্ক টাইমস, এনপিআর, গ্ল্যামার, সায়েন্টিফিক আমেরিকান, দ্য ইন্টারসেপ্ট, ভাইস ও আরও অনেক গণমাধ্যমে তার শিল্পকর্ম প্রকাশিত হয়েছে।