Amar Praner Bangladesh

পূর্বাচলে প্রদর্শনী কেন্দ্র’ উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী

 

 

লিখন রাজ,রূপগঞ্জ থেকেঃ

 

ব্যবসায়ীদের নতুন নতুন বাজার খোঁজার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে যেন আমরা বিনিয়োগ করতে পারি সে বিষয়ে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমাদের ব্যবসায়ীরা যেন বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ করতে পারেন ভবিষ্যতে সেই সুযোগটা সৃষ্টি করব। আমাদের দেশে যেমন বিনিয়োগ হবে তেমনি আমরা অন্য দেশেও যেন বিনিয়োগ করতে পারি সেজন্য প্রস্তুতি নিচ্ছি। কারণ আমরা উন্নয়নশীল দেশ হয়ে গিয়েছি। কাজেই আমাদের শিল্প উদ্যোক্তারা বিদেশে বিনিয়োগ করবে, সেই সুযোগটাও আমরা সৃষ্টি করতে চাই। বৃহস্পতিবার (২১ অক্টোবর) প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে আধুনিক স্থাপত্যের প্রদর্শনী কেন্দ্র উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন ।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় আয়োজিত অনুষ্ঠানে ‘বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টার’ পূর্বাচল প্রান্তে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি ও চীনের রাষ্ট্রদূত লি জিমিংসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে বলেন, আমাদের রফতানি আয় বাড়ানর জন্য যেটা সবচেয়ে বড় প্রয়োজন সেটা হলো আমাদের পণ্য বহুমুখীকরণ করা। আমরা এখন একমুখী, একটা কিছুর উপরেই বেশি গুরুত্ব দিয়েছি। যেমন আমাদের পোশাকশিল্প।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের রফতানি টিকে রাখতে হলে নিজস্ব প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়াতে হবে। আমি আমাদের ব্যবসায়ীদের বলব, যখন আপনারা পণ্য উৎপাদন করবেন সেটা সময়ের চাহিদার সঙ্গে মিলিয়ে উন্নত মানের পণ্য উৎপাদন করতে হবে। সেখানে কিন্তু কৃপণতা করলে চলবে না। সেটা যদি আপনারা করতে পারেন তাহলে বাজারে টিকে থাকতে পারবেন। আর আমাদের যত শিল্পখাত আছে তাদের এখন থেকেই প্রস্তুতি নিতে হবে, সেই বিষয়ে আমি আপনাদের বলতে পারি, আমাদের সরকারের পক্ষ থেকে যত ধরনের সহযোগিতা প্রয়োজন সেই সহযোগিতাটা আপনারা পাবেন। সেটা আমরা আপনাদেরকে দেব। কিন্তু আপনাদের নিজস্ব উদ্যোগটাও থাকতে হবে। আর আমাদের দেশের পণ্যের বৈচিত্র্যকরণটাও সম্ভব। যেমন এখন আমরা আইসিটি অর্থাৎ ডিজিটাল ডিভাইস প্রস্তুত করছি এবং এই ক্ষেত্রে বিনিয়োগও আসছে। আমি মনে করি এই ডিজিটাল ডিভাইসগুলি হবে একসময় সবচেয়ে বড় রফতানি পণ্য। কাজেই সেখানে আমাদের একটা বড় সুযোগ রয়েছে।

এসময় অন্যান্য পণ্যের পাশাপাশি পাট ও পাটজাত পণ্য, চামড়া শিল্পসহ অন্যান্য রফতানিমুখী পণ্যগুলোর উপরেও জোর দিতে ব্যবসায়ীদের প্রতি আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী ব্যবসায়ীদের নতুন নতুন বাজার খোঁজার আহ্বান জানিয়ে বলেন, আমাদের শুধু একমুখী হলে হবে না। কোন দেশে কোন পণ্যের চাহিদা বেশি সেটাও ঠিক করতে হবে। প্রধানমন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, ব্যবসা-বাণিজ্য দিয়েই কিন্তু উন্নতি হয়। কাজেই সেই ব্যবসা-বাণিজ্যের সুযোগটা সৃষ্টি করার জন্য আমরা এই সেন্টারটি তৈরি করেছি। বাংলাদেশের পণ্য নিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশের জন্য রফতানি মেলার আয়োজন, সোর্সিং ফেয়ার আয়োজন এবং বাংলাদেশি পণ্যের ক্রেতা আকর্ষণের জন্য বছরব্যাপী বাণিজ্য প্রতিনিধি দলের সম্মেলন আয়োজনসহ দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসারে বাণিজ্য মেলার আয়োজন করতে পারবেন, সেই সুযোগটাও সকলের ক্ষেত্রে সৃষ্টি হবে। ‘বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টার’ উদ্বোধনের মাধ্যমে একটা স্থায়ী জায়গা আপনাদের হল। কাজেই সংশ্লিষ্ট সকলকে আহ্বান জানাবো, এই জায়গাটি যেন সুরক্ষিত থাকে এবং ভালো থাকে সেই দিকে সবাই দৃষ্টি দেবেন।এটা এখন আমাদের নিজস্ব সম্পদ হল। স্থায়ী সম্পদ হল। কাজেই আপনারা সেই যথাযথভাবে ব্যবহার করবেন এবং রক্ষা করবেন।

চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের প্রসঙ্গ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ১৯৫২ সালে জাতির পিতা প্রথম চীন ভ্রমণ করেন। তার নয়া চীন ভ্রমণ বইটা যদি আপনারা পড়েন তাহলে জানতে পারবেন চীন সম্পর্কে। তখনকার সদ্য স্বাধীনতাপ্রাপ্ত দেশটি কিভাবে উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাচ্ছিল সেই বিষয়গুলো চমৎকারভাবে তিনি লিখে গেছেন। এরপর তিনি যখন মন্ত্রী ছিলেন ১৯৫৭ সালে আবার চীন ভ্রমণ করেন। কাজেই চীনের সঙ্গে আমাদের সব সময় একটা ভালো সম্পর্ক রয়েছে। আর আমাদের উন্নয়নের ক্ষেত্রে যারা সহযোগিতা করেন তাদের সঙ্গে অবশ্যই আমাদের একটা ভালো সম্পর্ক গড়ে উঠবে এটা খুবই স্বাভাবিক।