প্রতারক নারী পাচারকারী মাদক ব্যবসায়ী জাল টাকার কারবারী সহ একাধিক মামলার আসামী মিজানুর রহমান (রুবেল)’র গ্রেফতার দাবী

 

 

ষ্টাফ রিপোর্টারঃ

 

বর্তমান সরকারের দূর্নীতির বিরুদ্ধে চলমান অভিযানে একের পর এক গ্রেফতার হচ্ছে প্রতারণা, জালিয়াতী, মাদক, ক্যাসিনো সহ বিভিন্ন অপরাধে অপরাধীরা। কিন্তু খিলক্ষেত থানা মধ্যপাড়া এলাকার মাদক ব্যবসায়ী নারী প্রাচারকারী, নারী ব্যবসায়ী জাল টাকার কারবারী সহ খিলক্ষেত থানা একাধিক মামলার আসামী মিজানুর রহমান রুবেল।

সরেজমিনে অনুসন্ধানে জানা যায়, কাওলার ষ্টাফ কোয়ার্টার সংলগ্ন মক্ষীরাণী শেফালীর মাধ্যমে বিভিন্ন এলাকা থেকে সহজ সরল নারীদেরকে সংগ্রহ করে রুবেল তাদেরকে দিয়ে জোরপূর্বক দেহ ব্যবসা সহ নানা ধরনের অসামাজিক কাজ করাতে বাধ্য করছে। খিলক্ষেত মধ্যপাড়া জাহানারার মাধ্যমে, খিলক্ষেত বটতলা হাসিনার মাধ্যমে, মধ্যপাড়া পতির মা, খাঁপাড়ায় জ্যোৎস্নার মাধ্যমে নারী ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে রুবেল। জাল টাকার ব্যবসা করে সাংবাদিক পরিচয়দানকারী খুলনা আলাউদ্দিনের মাধ্যমে জাল টাকা আদান-প্রদান করে।

এই জাল টাকা মাত্র ২৫% এ লেনদেন করে ও ইয়াবা সহ সকল মাদক বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণ করে আরিফের মাধ্যমে। সে কুড়িল বিশ্বরোড, খিলক্ষেত সহ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় মাদক পৌঁছে দেয়। নারী পাচারকারী দলে মূলহোতা রুবেল নার্গিসের মাধ্যমে নারী পাচার করেন। নার্গিস একজন গার্মেন্টস্ শ্রমিক। এই নার্গিসের সাথে বেশ কয়েক বছর রুবেলের অবৈধ সম্পর্ক ছিল।

গ্রামের সহজ সরল নারীদেরকে নার্গিস চাকুরীর প্রলোবণ দেখিয়ে ঢাকায় এনে দালালদের মাধ্যমে বিভিন্ন দেশে পাচার করে।রুবেলের মা খুলনা থেকে বাসা বাড়ীতে ভাল বেতনে কাজ দেওয়ার কথা বলে অসহায়, বিধবা, স্বামীর তালাক প্রাপ্ত মহিলাদের ঢাকায় এনে দালালদের হাতে তুলে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে।

পরবর্তীতে তাদেরকে নাম স্বর্বস্ব কিছু রিক্রুটিং রিজেন্টদের হাতে জনপ্রতি ৫০ হাজার টাকার বিনিময়ে তুলে দেয়। রুবেলের স্ত্রী রেখা রহমান ওরফে রেখা বর্তমানে একটি বেসরকারী হাসপাতালে নার্সের চাকুরী করে উত্তরায়। সে একজন সিনিয়র নার্স হিসেবে পরিচিত। উক্ত হাসপাতালে নবনিযুক্ত নার্সদেরকে বিভিন্ন ব্যবসায়ীদের নিকট পরিচয় করিয়ে দেয়। পরবর্তীতে পতিতা বানিয়ে ব্ল্যাক মেইলের চেষ্টা করে। সুদেরকারবারী রুবেলের খপ্পরে পড়ে অনেক নিরীহ মানুষ নানা ভাবে হয়রানির স্বীকার হয়েছে। মোটা অংকের বিনিময়ে সুদের কারবার করে থাকে রুবেল।

এছাড়া বিভিন্ন ব্যবসায়ীদেরকে টাকা দিয়ে চেক নিয়ে পরবর্তীতে নগদ টাকা নিয়ে চেক ফেরৎ না দিয়ে প্রতারণার মাধ্যমে নানা ভাবে হয়রানি করে এবং রুবেল সঙ্গবদ্ধ প্রতারক চক্রের মাধ্যমে বিভিন্ন সময় উক্ত ব্যক্তিদেরকে নানা ভাবে অপমান অপদস্থ করে এমনকি জীবনাসের হুমকি সহ মামলার ভয় দেখায়।

স্বপ্না গ্রামের বাড়ী টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে একটি সহজ সরল মেয়ে। যার একটি সুন্দর সাজানো সংসার ছিল। রুবেলে খপ্পরে পড়ে তার সোনার সংসার খারখার করে দিয়েছে রুবেল। স্বপ্নার স্বামী প্রবাসে থাকে এবং স্বপ্নাকে দেখতে সুন্দরী হওয়ায় রুবেল তাকে বিভিন্ন ব্যবসা বাণিজ্য প্রলোবণ দেখিয়ে স্বপ্নার নিকট থেকে মোটা টাকা হাতিয়ে নেয় রুবেল। এক পর্যায়ে স্বপ্নাকে ট্যাপে ফেলে বিভিন্ন ভয়ভীতি দেখিয়ে তার প্রথম স্বামীকে ডিভর্স দিয়ে রুবেলকে বিবাহ করতে বাধ্য করে।

বর্তমানে স্বপ্নাকে দিয়ে রুবেল তার মূল ব্যবসা পতিতা বিত্তি করানোর চেষ্টা করছে। বিভিন্ন সহজ সরল ব্যবসায়ীদেরকে স্বপ্নাকে দিয়ে ব্ল্যাক মেইলের চেষ্টা করছে। কিন্তু স্বপ্না রাজি না হওয়ায় তাকে শারিরীক মানষিক নির্যাতন করে রুবেল। এ পর্যায়ে রুবেল তাকে হত্যা সহ নানা ধরনের হুমকি মুখে রেখেছে। খিলক্ষেত থানা এলাকায় পুলিশের সোর্স হিসেবে বিভিন্ন অনৈতিক কাজকর্ম নির্দিধায় করে চলেছে রুবেল।

খিলক্ষেত থানায় কয়েক ডজন মামলা ও জিডি থাকলেও পুলিশ রুবেলের বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা গ্রহণ করেন নি। খিলক্ষেত থানায় এত মামলা থাকার পরেও কেন ধরা ছোয়ার বাহিরে থেকে যাচ্ছে রুবেল। এই ব্যাপারে রুবেলের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

মিজানুর রহমান রুবেলের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া খিলক্ষেত থানার কয়েকটি মামলার নাম্বার দেওয়া হলো- নারী নির্যাতন মামলা ধারা- ৯ (১), সি আর মামলা নং- ১৩২/২০১৭ (খিলক্ষেত)। এফআইআর নং- ১৪, তাং- ০৬/০৩/২০১৬ ইং, এফআইআর নং- ০২, তাং- ০৩/১১/২০১৫, এফআইআর নং- ৩২, তাং- ০৩/০৮/২০১৫ ইং, ধারা- ১১ (গ)/৩০/২০০০ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, এফআইআর নং- ১৩/২৯৯, তাং- ০৯/১২/২০১৮, জিডি নং- ৭২৯, তাং- ১৩/০৮/২০১৯ ইং, জিডি নং- ১২২৬, তাং- ০৫/১০/২০১৯। অনুসন্ধান চলছে।