Amar Praner Bangladesh

প্রতি বছরই আশার বাণী শোনায় পাউবো, মধ্য রাতে কীর্তনখোলার গর্ভে চলে গেল সহায় সম্বল

তারেক আহমেদ, বরিশাল :

মধ্য রাতে কীর্তনখোলা নদীর আকস্মিক ভাঙ্গনে বরিশাল সদর উপজেলার চড়কাউয়া বাজারের ছোট-বড় কমপকেষ ২৫টি ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানসহ হামিদিয়া ফাজিল মাদ্রাসার চারটি ভবন নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। রোববার মধ্যরাত থেকে শুরু হওয়া অব্যাহত ভাঙ্গনে বর্তমানে ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে মাদ্রাসা, ইউনিয়ন পরিষদ ভবনসহ আরও প্রায় শতাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। প্রতি বছরই কীর্তনখোলা নদী এমনভাবে কেড়ে নেয় বহু মানুষের উপার্জনের সহায় সম্বল। কিন্তু সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে স্থায়ী কোন উদ্যোগ না নেওয়ায় বিপাকে পড়তে হয় সাধারণ মানুষকে। এদিকে গতকাল সন্ধ্যা ৬টায় বরিশালের জেলা প্রশাসক মোঃ হাবিবুর রহমান ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কথা শোনেন এবং পানি উন্নয়ন বোর্ড, জনপ্রতিনিধিসহ সংশ্লিষ্ট সকলের সাথে আলোচনা করে কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে আশ্বস্ত করেন।
সোমবার সকালে সরেজমিনে স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল আজিজ জানান, রাত সাড়ে এগারোটার দিকে হঠাৎ ভাঙ্গন শুরু হয়। এসময় ব্যবসায়ীরা আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পরেন। নদীতে বিলীন হওয়া দোকানী রনজিত সরকার জানান, কীর্তনখোলার আকস্মিক ভাঙ্গনে তার মিষ্টির দোকান মুহূর্তের মধ্যে বিলিন হয়ে গেছে। চরকাউয়া ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান এনামুল হক সাগর বলেন, ভাঙ্গনে ২৫টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নদী গর্ভে বিলীন হয়ে কমপক্ষে তিন কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এর আগে চরকাউয়া বাজার ভাঙ্গন রোধে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ১২ লাখ টাকার কাজ করা হয়েছে। তবে ভাঙ্গন রোধে পানি উন্নয়ন বোর্ড থেকে বড় ধরণের কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছে, ভাঙন শুরুর আধা ঘণ্টার মাথায় অন্তত ৩০ ফুট এলাকা নদীগর্ভে চলে যায়। ওই জমিতে থাকা জৈনপুরী পীর সাহেবের খানকা ও আহম্মদিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসার দক্ষিণ পাশের ভবন সম্পূর্ণ নদীগর্ভে বিলীন হয়। সেই সাথে নদীর পাড়ে থাকা দুলালের দুটি মুরগীর দোকান, হায়দারের মাংসের দোকান, হীরা হাওদারের দোকান, আবু মিয়ার মুদী দোকান এবং সোহেলের কনফেকশনারীসহ অন্তত ২৫টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নদীতে হারিয়ে গেছে। পার্শ্ববর্তী ব্যবসায়ী ও বাসিন্দারা আতঙ্কিত হয়ে তাদের স্থাপনা অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার সময় নদীতে পড়ে জাহাঙ্গীর ব্যাপারী, সাজ্জাদ, কামরুল এবং ওহি নামের চারজন আহত হয়েছেন।
মাদ্রাসার আরবি বিভাগের প্রভাষক মোঃ নুরুল হুদা বলেন, কীর্তনখোলার ভাঙ্গনে হামিদিয়া ফাজিল ডিগ্রী মাদ্রাসার শ্রেণী কক্ষসহ চারটি ভবন বিলীন হয়েছে। অন্য ভবন ঝুঁকির মধ্যে থাকায় সাত শতাধিক শিক্ষার্থীর এই মাদ্রাসার ক্লাশ আগামী বৃহস্পতিবার পর্যন্ত বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। সাহেবের হাট বন্দর থানার ওসি ফয়সাল আহমেদ জানান, জনতার নিরাপত্তার কথা ভেবে রবিবার রাত থেকেই ঘটনাস্থলে পুলিশ সদস্যরা কাজ করছে।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোঃ জাকির হোসেন বলেন, ভাঙ্গন কবলিত ঘটনাস্থলে সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও ত্রাণ পুণঃবাসন কর্মকর্তা গিয়ে নদী ভাঙ্গনে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের তালিকা করে সরকারি সহায়তা দেয়া হবে। তিনি আরও বলেন, ওই এলাকাটি এর আগেও ভাঙ্গনের কবলে পড়লে ভাঙ্গনরোধ করা হয়। তবে সেখানে প্রকট স্রোতের কারণে আবারও ভাঙ্গনের মুখে পড়েছে।
এদিকে ভাঙন রোধে বরিশাল পানি উন্নয়ন বোর্ড কোন রকমের ভূমিকা না রাখায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের অভিযোগ, প্রতি বছর ভাঙনের কারণে ইউনিয়নটির একটি অংশ নদীতে বিলীন হলেও সংশ্লিষ্ট বিভাগের মাথা ব্যথা নেই। এমনকি রোববার রাতের ভয়াবহ ভাঙনের খবর পেয়ে কেউ খোঁজ খবর নিতেও আসেনি। এ বিষয়ে জানতে বরিশাল পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু সাঈদকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।