প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহারের টাকা বিতরণ শিগগিরই : অর্থমন্ত্রী

 

 

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

 

করোনা মহামারির দ্বিতীয় প্রবাহে চলমান লকডাউনে গত বছরের মতো এ বছরেও প্রধানমন্ত্রীর ‘ঈদ উপহার’ পাবে ৩৫ লাখ দরিদ্র পরিবার। ঈদ উপহারের টাকা বিতরণের কাজ শিগগিরই শুরু হবে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।

বুধবার (২১ এপ্রিল) দুপুরে অর্থমন্ত্রীর সভাপতিত্বে ভার্চ্যুয়ালি অর্থনৈতিক বিষয়ক সংক্রান্ত ও সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান।

গত বছর দরিদ্রদের অর্থ বিতরণে মিসম্যাচ হয়েছে, এ বছর ৩৫ লাখ মানুষকে আড়াই হাজার টাকা করে দেওয়ার বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত নিয়েছেন জানতে চাইলে অর্থমন্ত্রী বলেন, আমাদের মিসম্যাচটা হওয়ার কারণ হলো আমাদের যেসব প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর বা পিছিয়ে পড়া জনগণের কথা বলছেন, তাদের যে আইডিটা কার্ড বা মাধ্যম রয়েছে সেখানে সরাসরি ট্রান্সফার করে দেই। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে সেই ট্রান্সফারের উপযুক্ত থাকে না। সেজন্য একটু বিলম্ব হয়, মিসম্যাচ হয় না। কিন্তু আমরা কাজগুলো করছি।

অর্থমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী ইতিবাচক সাড়া দিয়েছেন। সুতরাং এই আড়াই হাজার টাকা বিতরণের কাজ শিগগিরই শুরু হবে। যাদের আমরা আড়াই হাজার টাকা করে দেবো, সরকারের সিদ্ধান্ত হচ্ছে এই টাকা সরাসরি ট্রান্সফার করা। সরাসরি ট্রান্সফার করতে গেলে সিস্টেম ডেভলপ করতে হবে। আর একবার যদি সিস্টেমে চলে আসে তাহলে ভবিষ্যতে এর চেয়ে সহজ কাজ আর হবে না। তখন আমরা কম সময়ে অনেক বেশি কাজ করতে পারব।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, চলমান দ্বিতীয় দফা লকডাউনে আরও অনেক দরিদ্র পরিবার হয়তো নতুন করে সংকটে পড়বে। কিন্তু এ তালিকায় অনেক দরিদ্র ও কর্মহীন নেই। এ ধরনের পরিবারের তালিকা করে প্রতিটি জেলা প্রশাসনের অনুকূলে বাজেটে থোক বরাদ্দ থেকে তাদের সহায়তা করতে জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সেই থোক বরাদ্দ থেকে নতুন করে তালিকাভুক্ত দরিদ্রদের সহায়তা দিতে বলা হয়েছে।

জানা গেছে, গত বছর করোনা শুরুর পর প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত অথচ অন্য কোনো সরকারি সহায়তা পায়নি এমন ৫০ লাখ দরিদ্র পরিবারকে আড়াই হাজার করে টাকা দেওয়া শুরু হয়। এর আওতায় এ পর্যন্ত ৩৬ লাখ ৭ হাজার ৮৭২ পরিবারের কাছে টাকা পৌঁছানো হয়েছে। এমএফএস সেবাদাতাদের মাধ্যমে উপকারভোগীদের মোবাইল নম্বরে টাকা দেওয়া হয়েছে। এভাবে শেষ পর্যন্ত ৮১১ কোটি টাকা বিতরণ করা সম্ভব হয়েছে। তালিকায ক্রটি ও মোবাইল নম্বর অকার্যকর থাকায় ৪৪৭ কোটি টাকা দিতে পারেনি সরকার।

এর আগে দেশের বিভিন্ন জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবদানে স্থানীয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও মেম্বাররা মিলে ক্ষতিগ্রস্ত ৫০ লাখ পরিবারের তালিকা তৈরি করেন। অর্থ বিতরণ শুরুর পর দেখা যায়, তালিকায় অনেক ত্রুটি রয়েছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে অবস্থাপন্ন ও স্বচ্ছল পরিবারকে এ তালিকার অন্তর্ভুক্ত করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এরপর ৫০ লাখের তালিকা থেকে ১৪ লাখ ৩৩ হাজার পরিবারকে বাদ দেয় সরকার। এর মধ্যে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি থেকে সুবিধা নেওয়া পরিবার রয়েছে এক লাখের বেশি।

একাধিকবার তালিকাভুক্ত হয়েছে প্রায় তিন লাখ পরিবার। আবার ৬ লাখ ৯০ হাজার ৪৬৪ পরিবারের অর্থগ্রহীতার জাতীয় পরিচয়পত্র বিপরীতে নিবন্ধিত মোবাইল সিম ছিল না। এছাড়া সরকারের পেনশনভোগী, সরকারি কর্মচারী ও ৫ লাখ টাকার বেশি মূল্যের সঞ্চয়পত্রের মালিকরাও ছিলো।

অর্থ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, বিকাশ, নগদ, রকেট ও শিউরক্যাশ প্রধানত এ চার এমএফএস সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে উপকারভোগীদের মধ্যে প্রণোদনার অর্থ বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়া ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে পৌঁছেছে প্রায় ৯০ হাজার পরিবারের কাছে। এ প্যাকেজ থেকে অর্থসহায়তা পাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছে দিনমজুর, কৃষক, শ্রমিক, গৃহকর্মী, মুটে শ্রমিক। একই সঙ্গে আশি-ঊর্ধ্ব ২৪ হাজার দরিদ্র বয়স্কও এ প্যাকেজের আওতায় টাকা পেয়েছেন। অন্যান্য পেশার মানুষও ছিল প্রায় সোয়া পাঁচ লাখ।