Amar Praner Bangladesh

প্রশাসনের নিরব ভূমিকায় উত্তরার ফুটপাত দখল করে চলছে ব্যবসা

 

(উপ-পুলিশ কমিশনার ঘোষণা দিয়েছিলেন উত্তরার ফুটপাত থাকবে হকার মুক্ত। অথচ খোত পুলিশ কোয়ার্টারের সামনে চলছে ফুটপাত দখল করে রমরমা ব্যবসা। অন্যদিকে উত্তরা পশ্চিম থানার অফিসার ইনচার্জ বৈঠক করে ফুটপাত দখল মুক্ত করার ভিডিও ফুটেজ বানালেও সরেজমিনে দেখা যায় ভিন্ন চিত্র।)

 

রবিউল আলম রাজু :

 

কিছু কিছু দায়িত্বশীলরা কথার রাজা হলেও কাজের রাজা নয়। রাজধানীর উত্তরা একটি আবাসিক এলাকা। এখানে অনেক গুরুত্বপূর্ণ মানুষের বসবাস রয়েছে। যত্রতত্র ফুটপাতে অবৈধ দোকান থাকলে অপরাধীদের বিচরণ ক্ষেত্র তৈরির সুযোগ বেড়ে গেলে নিরাপত্তা পড়বে হুমকির মুখে। পুলিশ উত্তরার হাউজ বিল্ডিং আজমপুর ও উত্তরা পশ্চিম থানার কিছু গুরুত্বপূর্ণ এলাকার ফুটপাতের দোকানপাট বন্ধ করতে পারলেও। শাহমুখদুম এভিনিউ রোডের পশ্চিম পার্শ্বের ফুটপাত দখল করে এখনো চলছে চটপটি-ফুচকা ও অন্যান্য খাবারের দোকান সহ বেশ কিছু অন্যান্য দোকান। জিজ্ঞেস করলে দোকানীরা জানায় টহল পুলিশকে টাকা দিলে সবই চলে। উত্তরার প্রত্যেক থানায় এমন ভিন্ন ভিন্ন চিত্র দেখা যায়।

নাম না জানাতে অনিচ্ছুক একজন হকার সংবাদের প্রতিবেদককে জানায়, পুলিশ সবাইকে ওয়ার্নিং দিয়েছে ফুটপাতে দোকান রাখা যাবেনা। যারা গোপনে কিছু অসাধু পুলিশের সাথে সমঝোতা করতে পেরেছে আবার ক্ষমতাসীনদের দ্বারা সুপারিশ করাতে পেরেছে তারা নিয়মিত ফুটপাতে দোকান চালাচ্ছে। ঐ হকার আরো জানায়, ফুটপাতে দোকান চললে সব জায়গায় চলুক, কেউ চালাবে কেউ বন্ধ করবে এমনটাতো ঠিক নয়, সবার তো পেট আছে। আর বন্ধ করলে সব জায়গায় বন্ধ হোক। আমাদেরকে প্রয়োজনে একটি নির্দিষ্ট স্থানে বসার সুযোগ করে দিলে আমরা সবাই বাঁচি। সরেজমিনে গেলে দেখা যায়, মানুষের হাঁটার জায়গা দখল করে এমনকি শাহমুখদুম রোডের ৬৩-৭৯ নং প্লট পর্যন্ত ফুটপাত দখল করে চালাচ্ছে ব্যবসা। শাহমুখদুম দি ইউনাইটেড ডেন্টালের সামনে ঐ বিল্ডিংয়ের সিকিউরিটিদের তত্ত্বাবধানে খোত বিল্ডিংয়ের সামনে সারিবদ্ধ ভাবে চেয়ার বসিয়ে মানুষের হাঁটা চলার জায়গায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে চালাচ্ছে ব্যবসা।

এসব জায়গায় বেশির ভাগ সময় কিশোর গ্যাং সদস্যরা আড্ডা দেয় বলে জানা যায়। উত্তরা ৭ নং ব্রীজের পশ্চিম পার্শ্বে কিশোর গ্যাংয়ের পৃষ্ঠপোষকতায় চলছে ফুটপাত দখল করে চটপটির দোকান সহ অন্যান্য দোকান। এখান থেকে কিশোর গ্যাং লিডাররা মাসিক মাসোয়ারা পায় বলে জানা যায়। ইতিমধ্যে উত্তরার পশ্চিম থানার অফিসার ইনচার্জ মহসিন পিপিএম নিজে সরেজমিনে থেকে ফুটপাত উচ্ছেদ করলেও কোন এক অজানা ইশারায় আবার ফুটপাত দখল করে পূর্বের মতোই চলছে ব্যবসা। গত কয়েক মাসের মধ্যে রাজধানীতে বেড়ে গেছে চুরি, ডাকাতি ও ছিনতাই। আবাসিক এলাকাগুলোতে অপরিকল্পিতভাবে ফুটপাত দখল করে ব্যবসা চালালে এসব অপরাধীরা সক্রিয় হয়ে চালাতে পারে নাশকতা, এমনটাই দাবী উত্তরার সুশীল সমাজের।

তাছাড়া রাজধানীর উত্তরা রাজউক নিয়ন্ত্রিত একটি আবাসিক এলাকা। এখানে নির্দিষ্ট করে দেওয়া আছে কোথায় বাজার থাকবে, কোন কোন জায়গায় মসজিদ থাকবে, কয়টি পার্ক থাকবে, সবকিছু চলবে একটি নিয়মের মধ্যে। এখানে নিয়ম ভেঙ্গে সেক্টর কল্যাণ সমিতি হোক আর যত বড় ক্ষমতাসীন ব্যক্তি হোকনা কেন নিয়মের বাহিরে কেউ নয়। কোন প্রতিষ্ঠান কিংবা প্রশাসনের কোন অসাধু কর্মকর্তারা নিয়ম ভেঙ্গে নিজেদের স্বার্থ চরিতার্থ করার উদ্দেশ্যে আবাসিক ও বাণিজ্যিক এলাকার নিরাপত্তা নষ্ট করলে প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বিষয়টি খতিয়ে দেখা উচিৎ বলে মনে করেন হিউম্যান রাইটস অর্গানাইজেশনের চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক রাজ।

বর্তমান উপ পুলিশ কমিশনার এবং উত্তরার পশ্চিম থানা ও পূর্ব থানার অফিসার ইনচার্জগণ ফুটপাত দখল মুক্ত করার জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছেন। তাদের সাথে সাথে উত্তরায় বসবাসকারী সকলের এ বিষয়ে সচেতন হওয়া অনেক জরুরী।