Amar Praner Bangladesh

বগুড়ার শেরপুরে ৪০ টন ইউরিয়া সার সহ ট্রাক আটক

 

শেরপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি :

বগুড়ার শেরপুরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত রোববার রাতে স্থানীয় বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ট্রাস্কফোর্স অভিযান চালিয়ে পাচারের সময় ৪০ মেট্রিকটন ইউরিয়া সার সহ ট্রাক আটক করা হয়েছে। এসময় সার পাচারকাজে ব্যবহৃত দুইটি ট্রাক ও ট্রাকের দুই চালক ও দুই সহকারীকে আটক করে পুলিশ হেফাজতে নেয়া হয়।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা শারমিন আক্তার বলেন, বগুড়ার বাফার গুদাম থেকে একটি কাভার্ড ভ্যান ও আরেকটি ট্রাকে করে ৪০ টন সার যাচ্ছিল ঝিনাইদহের কালীগঞ্জের দিকে। বগুড়া থেকে ইউরিয়া সার পাচার হচ্ছে এমন সংবাদ পেয়ে স্থানীয় বাসস্ট্যান্ড এলাকায় গোয়েন্দা সংস্থা (এন এস আই), র‌্যাব-১২ ও হাইওয়ে পুলিশের সহায়তায় ট্রাক দুটি আটক করা হয়। এসময় আটককৃত ট্রাকের ভিতর ৫০ কেজি ওজনের ৮ শ বস্তায় এই ৪০ টন সার পাওয়া যায়।

আটককৃত সার বহনকারী একটি ট্রাকের চালক চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার পশ্চিম চন্ডিপুর গ্রামের মোহাম্মদ জামাল বলেন, রোববার সন্ধ্যা ছয়টায় বগুড়ার বাফার গুদাম থেকে তাঁর গাড়িতে ২০ টন এবং আরেকটি কাভার্ড ভ্যানে আরও ২০ টন ইউরিয়া সার নিয়ে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে যাচ্ছিলেন।

এসব সারের মালিক কে, তাও তাঁরা জানেন না। মোবাইল ফোনে যোগাযোগের মাধ্যমে তাঁরা এ সার তুলে নিয়ে যাচ্ছিলেন।

কাভার্ড ভ্যানের চালক ইব্রাহিম হোসেন বলেন, সারগুলো বৈধভাবে না অবৈধভাবে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, তাঁরা তা জানেন না। বাফার গুদাম থেকে সারের বস্তাগুলো বের করার পর তাঁদের যে চালান হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে, সেই চালানে কোনো সিল ও স্বাক্ষর নেই।
উপজেলার উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা মাসুদ আলম বলেন, ঝিনাইদহ জেলায় এই ইউরিয়া সারসংকট দেখা দিলে বিধি অনুযায়ী বগুড়া থেকে সার গ্রহণ করার নিয়ম রয়েছে। কিন্তু এ ক্ষেত্রে এমন কোনো আদেশ নেই। পাচারের উদ্দেশ্যে সারগুলো বগুড়া জেলা থেকে ঝিনাইদহ নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল বলে তিনি ধারণা করছেন।

শেরপুর হাইওয়ে পুলিশের উপপরিদর্শক আশরাফ আলী বলেন, ট্রাক দুটি আটক করার সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উপস্থিত ছিলেন। ট্রাক দুটি আটকের পর দুই গাড়ির চালককে তাঁরা হেফাজতে নিয়েছেন।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লিয়াকত আলী সেখ বলেন, বগুড়া থেকে এই ইউরিয়া সার পাচার করার উদ্দেশ্যেই ট্রাকে বহন করে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। সার কোথায় পাচার করা হচ্ছিল, তা অনুসন্ধানের প্রয়োজন রয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

এ ব্যাপারে শেরপুর থানা অফিসার ইনচার্জ মো. শহিদুল ইসলাম শহিদ বলেন, এ বিষয়ে থানায় কোন মামলা হয়নি।