বগুড়ায় চলতি মৌসুমে ধান-চাল সংগ্রহে লক্ষ্যমাত্রার অর্জন অর্ধেকে

 

এজেড হীরা, বগুড়া থেকে:

বৈশি^ক করোনা মহামারিতে ধান-চালের বাজারমূল্য কিছুটা বেশি হওয়ায় বগুড়ায় চলতি মৌসুমে অভ্যন্তরীণ বোরো ধান-চাল সংগ্রহ নেমে এসেছে অর্ধেকে। আর ৪ মাসে বগুড়া জেলায় মোট লক্ষ্যমাত্রার ৪০ ভাগ চাল, ৪৭ ভাগ ধান এবং ১৫ ভাগ আতপ চাল সংগ্রহ করেছে খাদ্য বিভাগ। এ বোরো সংগ্রহ অভিযানের শেষ তারিখ ৩১ আগস্ট। চলতি বোরো মৌসুমে জেলায় ৭১ হাজার ৮৪৮ মেট্রিক টন সেদ্ধ চাল, ৩ হাজার ৬৩০ মেট্রিক টন আতপ চাল এবং ৩৪ হাজার ৮৬৬ মেট্রিক টন ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয় । সেক্ষেত্রে গত ৩০ আগস্ট পর্যন্ত বগুড়া জেলায় মোট লক্ষ্যমাত্রার অনুকুলে অর্জন হয়েছে সেদ্ধ চাল ৩৬ হাজার ৪২ মেট্রিক টন, আতপ চাল ৭৪৯ মেট্রিক টন ও বোরো ধান ২১ হাজার ৭৬৬ মেট্্িরক টন বলে বগুড়া খাদ্য বিভাগ সূত্রে জানা যায়।

এ বছর ৩৬ টাকা কেজি দরে সিদ্ধ চাল, ৩৫ টাকা কেজি দরে আতপ চাল ও ২৬ টাকা কেজি দরে ধান সংগ্রহের এই কার্যক্রম গত মে মাসে উদ্বোধন করা হয় বিভিন্ন এলএসডি খাদ্য গুদামে। জেলার ১২ উপজেলার মধ্যে সব থেকে বেশি শেরপুরে ১৫ হাজার ৪৪৯ মেট্রিক টন ও দুপচাঁচিয়ায় ১৪ হাজার ৫৯৬ মেট্রিক টন সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা দেওয়া হয়।

বগুড়া জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ের সূত্র জানায়, এ কার্যক্রম শুরু হলে জেলার এক হাজার ৯৬৫ জন মিলার (চালকল মালিক) নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার সমপরিমাণ চাল খাদ্য বিভাগে নির্ধারিত মূল্যে সরবরাহ করতে চুক্তিবদ্ধ হন। শুরুর দিকে সবকিছু স্বাভাবিক থাকায় নিয়মিতভাবেই খাদ্য গুদামে চাল দিয়েছেন মিলাররা। সরকার নির্ধারিত বোরো সংগ্রহ মূল্যের চেয়ে বাজারে প্রতি কেজি মোট চাল ও ধানে ২-৩ টাকা বেড়ে যাওয়ায় বর্তমানে গুদামে চাল সরবরাহে ধীরগতি ছিল মিলারদের। তাছাড়া করোনার কারণে মিলে শ্রমিক সংকট থাকায় লক্ষ্যমাত্রা পুরণ করা সম্ভবপর হয়নি।

শেরপুর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক সেকেন্দার রবিউল ইসলাম জানান, চলতি মৌসুমে ধানের লক্ষ্যমাত্রায় ৩৭৯৯ মেট্রিক টন, চাল ১৫ হাজার ৪৪৯ মেট্রিক টন। গত ৩০ আগস্ট পর্যন্ত লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে শেরপুর দুটি গুদামে ধান সংগ্রহ হয়েছে ১০৩ মেট্রিক টন, ৪’শ কেজি । আর চালের লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে কেনা হয়েছে সেদ্ধ চাল ৬ হাজার ৩৫৯ মেট্রিক টন ২৫০ কেজি, আতপ চাল ৫২ মেট্রিক টন ৮’শ কেজি। তাছাড়া চলতি মৌসুমে চাল সংগ্রহের অভিযানে উপজেলার ৪৫৩ জন চুক্তিবদ্ধ হয়েছে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ অটো মেজর অ্যান্ড হাসকিং মিল মালিক সমিতি বগুড়া জেলা শাখার সভাপতি এ টি এম আমিনুল হক বলেন, জেলায় মোট দুই হাজার ৩৫টি মিল(মিলার)রয়েছে। এরমধ্যে বেশিরভাগ মিলারই গুদামে চাল সরবরাহে চুক্তি করেছেন। এবার চারিদিক থেকে আসা প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে আমরা সময়মত ধান- চাল সরকারকে সরবরাহ করতে পারিনি। করোনাভাইরাসের মহামারি শুরুর পর থেকে হাটে বাজারে ধান সংকট ছিল। কারণ দুর্ভিক্ষের শঙ্কা করে কৃষকেরাই মজুত করেছে। অন্যদিকে ঘূর্ণিঝড় আম্পান শেষ না হতেই দফায় দফায় বন্যা, বৃষ্টি জলোচ্ছাস। আমদানি বাজারে ধানের কম ওঠার কারণে বাজারে ধান চালের দাম বাড়তি রয়েছে। যা সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে প্রতিকেজি ৪ টাকা লোকসান দিতে হবে। এসব কারণে আমরা আমরা নির্ধারিত সময়ে এবার আমরা ধান চাল সরবরাহ করতে পারিনি। তবে আরেক মাস অর্থাৎ সেপ্টেমর মাস সময় পেলে কাঙ্খিত লক্ষ্য অর্জন করতে পারব।

এ প্রসঙ্গে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক এস এম সাইফুল ইসলাম জানান, বোরো সংগ্রহের চাল সরবরাহের জন্য বগুড়া খাদ্য বিভাগের সঙ্গে যেসব মিলার চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন তাদের চুক্তির পরিমাণ অনুযায়ী চাল সরবরাহ করছে। তবে চালের বাজার রেট বৃদ্ধি পাওয়ায় লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করা অনেকাংশেই সম্ভবপর হয়নি। ৩১ আগস্ট পর্যন্ত সংগ্রহের অভিযান শেষ। চলতি মৌসুমে ধান-চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা পুরণে আরো ১৫/২০দিন সময়বৃদ্ধি চেয়ে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন পাঠানো হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কোন নির্দেশনা আসেনি বলে জানিয়েছেন ওই খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা।