Amar Praner Bangladesh

বরগুনার কবির সরদারের বিরুদ্ধে বিদেশে পাঠানোর নামে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ, ছেলে বেপরোয়া 

 

(বরগুনা এখন আদম পাচারকারীর রুটে পরিণত হয়েছে। এখানে একটি সক্রিয় চক্র দীর্ঘদিন যাবৎ নিরিহ মানুষদের বিদেশে পাঠানোর নাম করে হাতিয়ে নিচ্ছে অর্থ। স্থানীয় প্রশাসনের সাথে আতাত করে এসব অপরাধীরা আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে রয়েছে সক্রিয় রয়েছে বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।)

 

 

শাকিল আহমেদ :

 

বরগুনার পাথরঘাটায় একাধিক লোককে বিদেশে পাঠানোর কথা বলে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে কবির সরদারের নামে। বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার কালমেঘা ইউনিয়নের, হাকিম সরদারের ছেলে কবির সরদার বিদেশ পাঠানোর নামে হাতিয়ে নিয়েছেন লাখ লাখ টাকা। এলাকার নিরীহ জনগণ এই কবির আদম ব্যবসায়ীর খপ্পরে পড়ে হয়েছে স্বর্বহারা।

পাথরঘাটা সহ আশপাশের কয়েকটি উপজেলার লোকজনের কাছ থেকে বিদেশ পাঠানোর কথা বলে এবং বিভিন্ন রাষ্ট্রে টুরিস্ট ভিসা দেবার কথা বলে অভিনব কৌশলে হাতিয়ে নিচ্ছে টাকা। কবির সরদার সিন্ডিকেটে প্রতারণার শিকার হয়েছেন নিরীহ একাধিক মানুষ। তারা জায়গা জমি বিক্রি, ধার-দেনা করে এই কবিরের কাছে টাকা জমা দিয়েছেন বিদেশে যাওয়ার জন্য। অভিযুক্ত আদম ব্যবসায়ী কবির সরদার একাধিক লোকের কাছ থেকে টুরেস্ট ভিসা এবং মালিকানা ভিসা দেবার কথা বলে লাখ, লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে নিজেই দুবাই চলে গেছেন বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।

এই ঘটনায় বিদেশ প্রত্যাশী যুবকের পরিবারের লোকজন দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, অভিযুক্ত আদম ব্যবসায়ী কবির সরদার দীর্ঘ ১১ বছর দুবাই রয়েছেন। তিনি যে কোম্পানিতে কাজ করে সেখানে ১৫-১৬ জন লোক লাগবে বলে প্রচার করতে থাকে এবং তার কাছে কিছু বাহিরেরে রাষ্ট্রের টুরিস্ট ভিসা সহ্ কম খরচে মহিলাদের বিভিন্ন রাষ্ট্রের ভিসা তার কাছে রয়েছে। তার কম্পানিতে ১৫-১৬ জন শ্রমিক লাগবে তিনি এসে এসব শ্রমিককে সঙ্গে করে নিয়ে যাবেন বলে জানান।

গ্রামবাসী আরও অভিযোগ করে বলেন, আদম ব্যবসায়ী কবির সরদারের কথায় প্রলুব্ধ হয়ে মোছাঃ আয়শা (৪৫), বরগুনা খারাকান্দা গ্রামের বামনা উপজেলা রামনা ইউনিয়েেনর গোলাঘাটা গ্রামের মোঃ ফারুক(৩০), মঠবাড়িয়া, টিয়ারখালি ইউনিয়নের রাহাত (২৭), এছাড়া বাজার বরিশাল ভাটিখান কাউনিয়া সিমুবেগম (৩৬) কাছ থেকে, বেতাগি শরিশা মুড়ি গ্রামের জসিম উদ্দিন (৩২), কাকুলি ইসলাম, কদম তলি থানা (৩৫) দুবাই যাওয়ার জন্য কবির সরদারকে টাকা দেন। এদের কাছ থেকে মোট ১৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেন কবির সরদার। কবির সরদার দুবাই থেকে ছুটিতে এসে ভিসা দেবার কথা সবার কাছ থেকে টাকা পয়সা নিয়ে নেন। মাস দুই পরে কবির সরদার কাউকে কোন প্রকার ভিসা না-দিয়েই কারো কাছে কিছু না বলেই ডুবাইতে চলে যান।

কবির সরদার দুবাই গিয়ে গত ২৩ নভেম্বরে বিদেশ প্রত্যাশীদের ফোন করে কবির সরদার বলেন দুবাই যে কম্পানিতে শ্রমিক নিতে চাইছিলেন সেখানে অন্য কোথাও থেকে শ্রমিক নেয়া হয়ে গেছে সবাইকে নুতন কোন কোম্পানিতে নেবার জন্য আশ্বস্ত করেন। কবির সরদার আরো বলেন যে আমার ছুটি শেষ হয়ে গেছে তাই আমি তারা হুরা করে চলে আসছি তাই কারো কাছে বলে আসতে পাড়িনাই আপনারা বাড়িতে আমার ছেলের সাথে যোগাযোগ রাখেন ও সবকিছু ঠিক করে দেবে। আমি অন্য কম্পানিতে কথা বলে অতিদ্রুত ফ্লাইটের ব্যবস্থা করছি। এমন কথা শুনে বিদেশ প্রত্যাশিত লোকজনের পরিবার দিশেহারা হয়ে পড়েন এবং হতাশামূলক জীবনযাপন করছেন ।

প্রতারণার শিকার মোসাঃ আয়শা বেগম বলেন, আমি তার কথা মতে তাকে দুবাইয়ের ভিসার জন্য ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা জমা দিয়েছি এবং বাকি টাকা ফ্লাইটের তারিখ দিতে হবে আমি নিজের জমিবন্ধক রেখে লোন নিয়ে তাকে দিয়েছি। যা কিস্তিতে পরিশোধ করতে হবে। আমি কবির সরদারের সাথে একাধিক বার যোগাযোগ করাররচেষ্টা করেও তার সাথে যোগাযোগ করতে না পারায় আমি তার পাথরঘাটা বাড়িতে গেলে, কবির সরদারের ছেলে সহ্ তার ফ্যমিলির লোকজন বেপরোয়া হয়ে আমাকে যা- তা ব্যবহার করে।আমি নিরুপায় হয়ে বরগুনা এসপি মহদয় বরাবর, একটি লিখিত অভিযোগ দিলে অভিযোগটি, ডিবি পুলিশ তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলে জানান।

ভুক্তভোগী মোঃ ফারুক খান বলে আমার কাছ থেকে ধার বাবদ ৩ লক্ষ টাকা নেয় এবং আমাকে দুবাইয়ের দুইটা বিসা দেবার কথা বলে আমার কাছ থেকে পাসপোর্ট সহ্ আর ২ লাখ টাকা নিয়ে নেয় বাকি টাকা ফ্লাইটের ডেট পরলে দিতে হবে এই চুক্তিতে আমি তাকে টাকা দেই, কিন্তু সে কারো কাছে কিছু নাবলে আমার ধার টাকা, এবং ভিসা বাবদের কোন টাকা না দিয়েই কবির সরদার ডুবাইতে চলে যায় , তার সাথে একাধিক বার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও কোন ভাবে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি, তিনা তার ব্যবহৃত ফোন নাম্বার ইমু হোয়াটসঅ্যাপ সবকিছু চেঞ্জ করে ফেলেন। আমরা তার বাড়ীতে টাকার জন্য গেলে তার ছেলে বেপড়ওয়া হয়ে আমাদেরকে আরো বিভিন্ন প্রকার হুমকি-ধামকি ও ভয়-ভীতি দেখায়।

ভুক্তভোগী একজন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তিনি বলেন কবির সরদারের বাড়িতে টাকা চাইতে গেলে কিছু ছেলে পেলে তাদের সাথে খারাপ ব্যবহার করেন আমারা জানতে পাড়ি ঐ সকল ছেলে পেলে গুলা স্থানীয় নাসির চেয়ারম্যানের লালিত বাহিনী যা তার ইন্দ্রনে হয়তো আমাদের সাথে এ খারাপ ব্যবহার করে আসছে আমাধের দারনা। স্থানীয় নাসির চেয়ারম্যান কে বিষয়টি জানালে তিনি তার কোন প্রতিবাধ করেনি আরো নিরব ভুমিকা পালন করে আসছেন।

স্থানীয় এক ইউপি মেম্বারের সাথে কথা বলে জানা যায়, যারা কিছু না জেনে শুনে তাকে টাকা দিয়েছে। তারা বোকামি করেছে। অন্ধ বিশ্বাসে তারা প্রতারণার শিকার হয়েছে। তিনি আরো বলে, ঘটনাটি লোকজনের মুখে শুনে প্রতারক ও প্রতারণার শিকার কয়েকজনের পরিবারের সঙ্গে কথা বলেছি। প্রতারণার শিকার লোকজন টাকা ফেরত পেতে পারে, সে মর্মে কবির সরদারের পরিবারকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থার গ্রহণের জন্য বলেছি আর না হলে আপনারা আইনের সহায়তা নিবেন।

এভাবে দেশজুড়ে আদম পাচারকারী প্রতারক চক্র রয়েছে সক্রিয়। এদের বিরুদ্ধে কঠিন থেকে কঠিনতম আইন প্রণয়ন করে শাস্তির ব্যবস্থা না করলে নিরিহ মানুষরা প্রতারিত হতে থাকবে।