বসত ঘর নির্মাণ না করে বৃক্ষরোপণ করলেন ভূমিহীন দেলোয়ার 

 

মোঃ রিপন হাওলাদারঃ

 

বিশ্ব মানচিত্রে স্বাধীন বাংলাদেশের রূপদানকারী সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষ্যে সারা দেশে এক কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি উদ্বোধন করেছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনা। প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা,বনায়ন সৃষ্টি এবং বাসযোগ্য সুন্দর আবাসভূমি গড়ে তুলতে বৃক্ষ রোপনের গূরুত্ব অপরিসীম।

প্রধানমন্ত্রীর বৃক্ষরোপন কর্মসূচিতে উদ্ভুত হয়ে পটুয়াখালী জেলার কলাপাড়া উপজেলার ধুলাসার ইউনিয়নের আশাখালীতে ভূমিহীন দিন মজুর দেলোয়ার হোসেন প্রায় অর্ধশত গাছের চারা রোপণ করেন।

এলাকা সূত্রে জানা যায় সদ্য তান্ডব চালানো ঘূর্ণিঝড় আম্পানে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে মোটামুটি ক্ষয়ক্ষতি ও পানির উচ্চতা বৃদ্ধিতে উপকূলীয় অঞ্চলের অনেক জায়গা প্লাবিত হওয়ায় অসংখ্য পরিবার ভোগান্তির শিকার হন। তেমনি আশাখালীতে বসবাসরত ভূমিহীন দেলোয়ারের বসতবাড়ি প্লাবিত হয়ে দূর্ভোগ পোহাতে হয়।

ভবিষ্যতে এধরনের জলোচ্ছ্বাস বা ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে যাতে নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বসত ঘর তলিয়ে না যায়। সেজন্য কিছু দিন আগে ক্ষতিগ্রস্ত পূরনো ঘর পূর্ণ নির্মানের উদ্দেশ্যে ঘরের ভিটাটা একটু উঁচু করে। বর্তমানে চলমান বৈশ্বিক দূর্যোগ মহামারী করোনার ছোবলে আর্থিক সংকটসহ ঋনগ্রস্ত হয়ে পড়ায় এ বছর বসতঘর নির্মাণ না করে কিছু টাকা দিয়ে নিজ উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ করেন।

বৃক্ষরোপণে উদ্ভূত হওয়ার কথা জানতে চাইলে তিনি বলেন আমরা অসচ্ছল ভূমিহীন এখানে প্রায় ১৪-১৬ বছর যাবৎ সরকারী খাস জমিতে বসবাসের উপযোগী করে বসতবাড়ি তৈরি করেছি। বাড়ির চারপাশে অসংখ্য গাছপালা লাগিয়েছি এগুলো এখন অনেক বড় হয়েছে যা দেখে মনে তৃপ্তি পাই। যেহেতু আর্থিক সংকটের কারণে এ বছর ঘর তুলতে পারছি না তাই কিছু টাকা ব্যয় করে ভবিষ্যতের সঞ্চয় বিনিয়োগ করলাম ‌।এই রোপিত চারা সঠিক পরিচর্যা করে পরিপূর্ণ ভাবে বৃদ্ধি করতে পারলে একসময়ে এই গাছ আমার পরিবারকে আর্থিক ভাবে স্বাবলম্বী করবে।যেটা কোন ব্যাংকে রাখলে এই ভাবে লাভবান হওয়া সম্ভব নয়।