সোমবার, ০৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৩, ০২:৪২ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
তিন দিনের সফরে ঢাকায় বেলজিয়ামের রানি ভূমিকম্প: তুরস্কে ও সিরিয়ায় নিহত ৫ শতাধিক উত্তরা বিজিবি মার্কেট এখন আর ডালভাত কর্মসূচিতে নেই মন্দিরে মূর্তির পায়ে এ্যাড. রফিকুল ইসলাম ও তার স্ত্রী’র সেজদা প্রতিবাদে নির্যাতন ও মামলার শিকার মোঃ জলিল রৌমারীতে অটোবাইক শ্রমিক কল্যাণ সোসাইটির অফিস উদ্বোধন যুবলীগ নেতাদের ছত্রছায়ায় কল্যাণপুরে আবাসিক হোটেলে রমরমা দেহব্যবসা তিতাসের অসাধু কর্মকর্তাদের আতাতে লাইন কাটার নামে প্রতিনিয়ত গ্রাহকদের সাথে ব্ল্যাকমেইলিং করছে প্রতারক চক্র রাজধানীর উত্তরখান থেকে ড্যান্ডি পার্টির ১৬ সদস্য গ্রেপ্তার দেশে গুপ্ত লিখন বিদ্যাকে ব্যবহার করে জঙ্গী ও মাদক কার্যক্রম প্রসারিত হচ্ছে দক্ষিণখানে নির্মাণাধীন ৯ তলা ভবন থেকে পড়ে রাজমিস্ত্রি নিহত : আহত-১

বসত ভিটা ও আবাদী জমি বিলীনের আশংকায় বালু উত্তোলন বন্ধে পাঁচ গ্রাম বাসী’র প্রধান মন্ত্রীর নিকট স্মারকলিপি পেশ

Reporter Name
  • Update Time : শনিবার, ২৮ এপ্রিল, ২০১৮
  • ৪২ Time View

তৌকির আহাম্মেদ হাসু, সরিষাবাড়ী (জামালপুর) প্রতিনিধি ঃ জামালপুরে প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক অঞ্চলে মাটি ভরাটের জন্য স্থানীয় বামুনজি বিল হতে ১০ কোটি ঘন ফুট বালু উত্তোলনের জন্য দিনরাত প্রস্তুতি নিয়েছে প্রকল্পের এক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এম এম বিল্ডার্স। এ বিল থেকে বালু উত্তোলনকে অবৈধ উল্লেখ করে এবং বিল তীরবর্তী বসবাসকারীদের বসত ভিটা ও আবাদী জমি বিলীনের আশংকায় বালু উত্তোলন বন্ধে পাচ গ্রাম বাসী’র প্রধান মন্ত্রীর নিকট স্মারকলিপি পেশ দিয়েছেন।
এক কিলোমিটার এলাকার কৃষকের কাঁচা-পাকা ধান ক্ষেতের উপর দিয়ে টানা হচ্ছে বড় বড় পাইপ। বসানো হচেছ বালু উত্তোলনের ড্রেজারসহ বিভিন্ন যন্ত্রপাতি।এতে ক্ষতি হচ্ছে কৃষকের ক্ষেতের আধাপাকা ধান। স্থানীয়দের অভিযোগ, এ বিল থেকে বালু উত্তোলন করা হলে বিল তীরবর্তী ৫টি গ্রামের নানা হুমকিতে পড়বে। আসন্ন বর্ষা মৌসুমে খাল-বিলে পরিণত হবে ওইসব গ্রামের বেশিরভাগ এলাকা। এতে বিল তীরবর্তী গ্রামগুলোর বাড়ি-ঘর ও অনেক ফসলী জমি বিলীন হওয়ার আশংকা করছে এলাকাবাসী। ফলে সরকারি বিল থেকে অবৈধভাবে এ বালু উত্তোলন বন্ধের দাবিতে এলাকাবাসী স্বাক্ষরিত একটি স্মারকলিপি মাননীয় প্রধান মন্ত্রী,জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট উর্ধতন কর্তৃপক্ষের বরাবর প্রেরণ করেছে বলে জানা গেছে।

স্থানীয় এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, জামালপুর সদর উপজেলার তিতপল্যা ইউনিয়নের সুলতান নগর মৌজায় কয়েক’শ বছরের পুরোনো বামুনজি বিলটি অবস্থিত। এ বিলের চার পাশে রয়েছে ঘনবসতিপূর্ণ সুলতান নগর, পিন্ডারহাটি, পশ্চিমপাড় দিঘলী, কাষ্টশিঙ্গা ও শিলকুড়া গ্রাম। বিশাল এ বিলটিতে খাস জমির পরিমাণ ২২৭ একর। এ বিলের জমিতে স্থানীয় মৎস্যজীবী মানুষ যুগযুগ ধরে মাছ চাষ ও এলাকার প্রান্তিক কৃষকরা ধানসহ বিভিন্ন ফসল চাষাবাদ করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছে। এ বিল সংলগ্ন আদর্শ বটতলা এলাকায় একটি অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনের কাজ শুরু হয়েছে। এ জন্য আশপাশের জমি ছাড়াও বামুনজি বিলের দক্ষিণ পাশের ৯০ একর জমি ইতোমধ্যে সরকারিভাবে অধিগ্রহণ করা হয়েছে। ওই বিলে জমি অবশিষ্ট রয়েছে ১৩৭ একর।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, অর্থনৈতিক অঞ্চলে মাটি কাটার কাজের ঠিাকাদারি প্রতিষ্ঠান এমএম বিল্ডার্স কর্তৃপক্ষ সম্প্রতি প্রকল্প এলাকায় ১০ কোটি ঘন ফুট বালু ভরাটের লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করে। এ বিপুল পরিমাণ বালু প্রকল্প এলাকার বাইরে থেকে পরিবহন ও ভরাটের জন্য ওই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দও দেওয়া হয়। কিন্তু ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ অধিক মুনাফার লোভে প্রশাসনের এক শ্রেণীর দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা ও স্থানীয় কতিপয় টাউটদের যোগসাজসে প্রকল্প সংলগ্ন বামুনজি বিলের পশ্চিম-উত্তর পাশ থেকে বালু উত্তোলনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এ জন্য দিনরাত চলছে পাইপ ও ড্রেজার বসানোসহ নানা কাজ। এক কিলোমিটার এলাকার কৃষকের কাঁচা-পাকা ধান ক্ষেতের উপর দিয়ে টানা হচ্ছে বড় বড় পাইপ। বসানো হচেছ বালু উত্তোলনের ড্রেজারসহ বিভিন্ন যন্ত্রপাতি। এতে ধংস হচ্ছে কৃষকের ক্ষেতের আধাপাকা ধান। স্থানীয়দের অভিযোগ, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এমএম বিল্ডার্স এর দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলী আওয়ামীলীগের স্থানীয় এক প্রভাবশালী নেতার সঙ্গে আঁতাত করে এলাকার কিছু নেতা নামধারী মাস্তান টাইপের লোক নিয়ে তাদের কাঁচা-পাকা ধানের উপর দিয়ে পাইপ নিচ্ছে। তারা জানান,এ বিল থেকে বিপুল পরিমাণ বালু উত্তোলন করা হলে আগামী বর্ষা মৌসুমে তাদের শেষ সম্বল জমি-জমা ও বাড়িঘর সবই দেবে ও ধসে যাবে। সরকারি কোন ধরণের অনুমতি ছাড়াই সরকারি বিল থেকে অবৈধভাবে ১০ কোটি ঘন ফুট বালু উত্তোলনের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করলেও জেলা প্রশাসনের রহস্যজনক ভ’মিকা দেখে প্রতিবাদ করার সাহস পাচ্ছেনা কেউ।
স্থানীয় ওয়ার্ড মেম্বার আমানুল্øাহ আকাশ, আলহাজ আঃ বারেক ও সবুর মাস্টারসহ এলাকার অনেকেই জানান, ঐতিহ্যবাহী বামুনজি বিল থেকে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের প্রতিবাদ করতে এলাকাবাসী জেলা প্রশাসকের কাছে গিয়েছিল। জেলা প্রশাসক তাদেরকে আশ^াসও দিয়েছিলেন। কিন্তু ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি কোন কিছুর তোয়াক্তা না করে অদৃশ্য শক্তির জোরে তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। তাই পাঁচটি গ্রাম ভাঙ্গণের মুখ থেকে রক্ষার সার্থে ও বামুমজি বিল থেকে বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে ওই এলাকার পাঁচ শতাধিক মানুষ মাননীয় প্রধান মন্ত্রী, জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট উর্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছেন। এ ব্যাপারে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে প্রকল্পের দায়িত্ব প্রাপ্ত প্রকৌশলী মনির হোসেন কোন সদুউত্তর দিতে না পেরে এ ব্যাপারে কোন মন্তব্য করতে রাজী হননি। জামালপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক রাজস্ব মোঃ লোকমান হোসেন খোলা কাগজকে বলেন, বিষয়টি নিয়ে তিনি জেলা প্রশাসকের কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category