Amar Praner Bangladesh

বাগেরহাটে হামলার ঘটনা আড়াল করতে প্রতিপক্ষের নামে মিথ্যা অভিযোগ

 

বাগেরহাট প্রতিনিধি :

বাগেরহাটের চিতলমারী সদর উপজেলার খিলগাতী গ্রামে হামলা ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ইসরাফিল শেখ (৩২) এর ভাই মোঃ রফিকুল ইসলাম (৩০) বাদী হয়ে চিতলমারী থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। প্রতিপক্ষের হামলায় ইসরাফিল শেখসহ তার স্ত্রী সুরমা আক্তার (২২) গুরুত্বর আহত হয়। এ ঘটনা আড়াল করতেই প্রতিপক্ষরা মাফুজা বেগমকে দিয়ে জেলা লিগাল এইডে নারী ও ধর্ষন চেষ্টার মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করেছে বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেন।

হামলার ঘটনায় মোঃ রফিকুল ইসলাম অভিযোগে জানান, চিতলমারী উপজেলার শিলিগাতী গ্রামের হোসেন শেখ, হাসান শেখ, আলাল শেখগং দের সাথে আমাদের দীর্ঘদিন ধরে জমি-জমা সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে। গত সেপ্টেম্বর সকাল ১০টার দিকে হোসেন শেখ, হাসান শেখ, আলাল শেখসহ স্থানীয় ১০/১২ জন সন্ত্রাসী কুড়াল, শাবল, হাতুড়ী, লোহার রড ও বাঁশের লাঠি নিয়ে সম্পূর্ন বেআইনীভাবে আমাদের বাড়িতে প্রবেশ করে। তারা আমাদেরকে অশ্রীল ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকে। আমার ভাই ইসরাফিল শেখ ও ভাবি সুরমা আক্তার ঘর থেকে বাইরে এসে আসামীদেরকে গালিগালাজ করতে নিষেধ করে। এতে সকল আসামীরা আরো ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে। একপর্যায়ে তারা শাবল দিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে আমার ভাইয়ের মাথা লক্ষ্য করে আঘাত করে ও এলোপাতাড়ি মারধর করে। আমার ভাবী ঠেকাতে আসলে তাকে চুলের মুঠি ধরে টেনে হিচড়ে মাটিতে ফেলে দেয়। ভাবীকে বাঁশের লাঠি দিয়ে সারা শরীরে এলোপাথাড়ী ভাবে মারপিট করে নীলাফোলা জখম করে। আসামীরা ঘরে ঢুকে সকল আসবাবপত্র ভাংচুর করে ও ঘরের বাক্সের মধ্যে থাকা নগদ ৫ লক্ষ ৬৫ হাজার টাকা চুরি করে নিয়ে যায়।

ঐ সময় আমার ভাই ও ভাবির ডাকচিৎকারে আমিসহ আশ পাশের লোকজন এগিয়ে আসলে আসামীরা খুন জখমের হুমকি দিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। আমার ভাই ও ভাবিকে উদ্ধার করে চিতলমারী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করি। পরবর্তীতে এ ঘটনা স্থানীয় প্রশাসনকে জানালে তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। তিনি আরো বলেন, এ ঘটনা আড়াল করতেই আলাল আমাদের বিরুদ্ধে স্থানীয় মাফুজা বেগমকে দিয়ে সম্পূর্ন মিথ্যা অভিযোগ করেছে। এ ঘটনার সাথে আমাদের কারো কোন সম্পৃক্ততা নাই। তিনি বলেন, সঠিক ঘটনা যাচাই করে দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

এ ঘটনায় স্থানীয় মোল্লা বলেন, রফিকুল ইসলাম ও আলালের সাথে দীর্ঘ দিন জমি-জমা বিরোধ চলে আসছিল। বিরোধ নিয়ে একাধিকবার বিভিন্ন স্থানে সালিশী হয়। সর্বশেষ সালিশীর মাধ্যমে ৫ সেপ্টেম্বর জায়গার মাপের নির্ধারিত দিন ধার্য হয়। আলাল ক্ষমতার দাপোট দেখিয়ে বেশি জমি ভোগদখল করে আসছে। আলাল জানে জমি পরিমাপ করা হলে তার অনেক জমি ছাড়তে হবে। এতেই সে তার লোকজন নিয়ে রফিকুলের পরিবারের উপর হামলা করে। হামলার ঘটনায় রফিকুল থানায় অভিযোগ দিলে আলাল ক্ষিপ্ত হয় ও স্থানীয় এক মহিলাকে দিয়ে মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করে। তিনি বলেন, মহিলার যে ধর্ষন চেষ্টার অভিযোগ দিয়েছে তা সম্পূর্ন ষড়যন্ত্রমূলক, উদ্দেশ্যে প্রনোদিত ও বানোয়ট। তিনি এঘটনার সঠিক তদন্ত করে দোষীদের বিভিন্ন আইনগত ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

এ বিষয়ে চিতলমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুজ্জামান খান বলেন, হামলার ঘটনার পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ বিষয়ে থানায় অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।