Amar Praner Bangladesh

বারৈয়ারহাটে ঝুকিপূর্ণ ভাবে রাস্তা পারাপার কেন তবে কোটি টাকা খরচ করে ফুটওভার ব্রীজ

এস এম জাকারিয়া (মীরসরাই, চট্টগ্রাম) সহযোগীতায়- নুরুন নবী রাসেল:
সারাদেশের মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানের গুরুত্বপূর্ণ বাজার এলাকাগুলোতে বাংলাদেশ সরকার জনগনের রাস্তা পারাপারের সুবিধার্থে ফুটওভার ব্রীজ নির্মাণ করে আসছে। এমন একটি ফুটওভার ব্রীজ আছে চট্টগ্রামের মীরসরাই উপজেলার জোরারগঞ্জ থানাধীন বারৈয়ারহাট পৌরসভাস্থ ঢাকা – চট্টগ্রাম মহাসড়কের উপর নির্মিত ফুটওভার ব্রীজ। যা রাস্তা চলাচলকারী পথচারীদের রাস্তা পারাপারের সময় ব্যবহার করতে দেখা যাচ্ছেনা। বরং ফুটওভার ব্রীজ ব্যবহার না করে ঝুঁকিপূর্ণভাবে রাস্তা পারাপার হচ্ছে শিশু কিশোর হতে শুরু করে সব বয়সী পথচারী, ফুট ওভার ব্রীজ থাকার পরও কোন কাজে আসছেনা। জীবনের ঝুকি নিয়ে রাস্তা পারাপার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। যেন এই বিষয়ে দেখভাল করার মত কেউই নেই। অন্যদিকে দায়িত্বরত ট্রাফিক পুলিশ থাকলেও তাদের যেন মাথা ব্যাথা নেই। তারা যেন ধরি মাছ না ছুঁই পানি। তার ফলে দিনের পর দিন কোন নিয়ম না মেনে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অনায়াশে সড়ক পার হচ্ছেন সাধারণ পথচারী।
এই রাস্তা য় চলাচলকারী গাড়ির চালকদের কাছে জানতে চাইলে তারা কয়েকজন এক সাথে কথা বলে উঠে। তারা এই প্রতিবেদককে বলে, ফুট ওভার ব্রীজ থাকার পরও লোকজনেরা ফুট ওভার ব্রীজ ব্যবহার না করে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রাস্তা পার হয়, এতে অনেক সময় দেখা যায় সামনের গাড়ি দাড়ালে পিছনের গাড়িগুলো ধাক্কা দেয়, তাতে দূর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা থাকে। লোকজন এভাবে রাস্তা পার হওয়ার সময় যানজটে পড়তে হয় আমাদেরকে, তাতে এই পথে (ঢাকা – চট্টগ্রাম – ঢাকা) যাওয়া আসা করা যাত্রীদের ভোগান্তী আরো বেড়ে যায়। তারা আরো বলে ট্রাফিক পুলিশ ও ফুট ওভার ব্রীজ থাকার পরও মানুষেরা জীবনের ঝুকি নিয়ে রাস্তা পার হয় যা অত্যান্ত ঝুঁকিপূর্ণ বলে আমরা মনে করি এবং এতে অনেক ভোগান্তি পোহাতে হয় সকলকে।
এভাবে রাস্তা পারাপার হওয়ার সময় কথা হয় কয়েকজনের সাথে। তারা বলে, ফুট ওভার ব্রীজ দূরে হওয়ায় আমাদেরকে রাস্তা পার হতে হয় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে। আমাদের জীবনের নিরাপত্তা নেই কিন্তু আমরা নিরুপায়, বাধ্য হয়ে আমাদেরকে এভাবে রাস্তা দিয়ে পারাপার হতে হচ্ছে। ফুট ওভার ব্রীজ দূরে হওয়ায় আমাদেরকে ফুট ওভার ব্রীজ ব্যবহার করতে সময়েক্ষপনের কারণে ইচ্ছে করেনা।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বলেন, সরকারের কোটি কোটি টাকা কোন উপকারে আসছেনা ব্রীজ থাকার পরও মানুষেরা জীবনের ঝুকি নিয়ে রাস্তা পারাপার হচ্ছেন, তাতে যে কোন সময়ে দূর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে, এমনকি ঘটতে পারে ট্র্যাজেডি। তারা আরো বলেন অনেক অনেক সময় মানুষেরা এভাবে রাস্তা পার হতে গিয়ে সড়কের দু’পাশে যানজট লেগে যায় তাতে আমাদের ব্যবসা করতে চরম সমস্যায় পড়তে হয়। সাধারণ মানুষের কথা চিন্তা করে সরকার যেন এই ব্যাপারে কঠোর পদক্ষেপ নেয় এবং যে স্থান দিয়ে রাস্তা পার হচ্ছে সেই স্থান বন্ধ করে দেয় প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের কাছে এই জোর দাবী করে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ট্রাফিক পুলিশের কর্মরত একজন কর্মকর্তা (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) এই প্রতিবেদককে বলেন, আমাদের চোখ থেকেও নেই আমরা সব কিছু দেখেও দেখিনা, কারণ আমরা ছোট খাটো চাকরি করি, পাবলিক তো আমাদের কথা শুনেনা। তারপরও আমরা আইনি পক্রিয়ায় ফুট ওভার ব্রীজ ব্যবহার করার জন্য যে স্থান দিয়ে রাস্তা পার হয় সেই স্থান বন্ধ করে দিতে চেয়েছিলাম, কিন্তু জনতা তা করতে দেয়নি। মানুষের কারণেই আমরা তা বন্ধ করতে পারিনি। এই স্থান আগে অনেক ছোট ছিল কিন্তু মানুষেরা তা ভেঙ্গে বড় করে দিয়েছে। এখানে পৌরসভার আওতাধীন স্থানীয় প্রশাসন, সরকারী লোকজন আছে, আমরা কি করতে পারি ? তবে স্থানীয় প্রশাসনসহ উর্ধ্বতন কৃর্তপক্ষ এগিয়ে এলে ঝুঁকি নিয়ে রাস্তা পারাপার বন্ধ হয়ে যেত বলে জানান এই ট্রাফিক পুলিশের কর্মকর্তা। তিনি আরো বলেন, মীরসরাইয়ে ফুট ওভার ব্রীজ দেওয়ার পরও মানুষেরা রাস্তা পার হইতো কিন্তু প্রশাসন তা ব্যবস্থা নেওয়ার পর মানুষেরা এখন ফুট ওভার ব্রীজ ব্যবহার করছেন। এছাড়াও ফুট ওভার ব্রীজ দূরে সেই কারণে পারাপার হতে পাচ্ছেনা এই বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি এটি সঠিক নই বলে জানান তিনি।
বারইয়ারহাট পৌরসভার মেয়র ভিপি নিজাম উদ্দিন এই বিষয়ে দৈনিক আমার প্রাণের বাংলাদেশকে বলেন, আমার পৌরসভা প্রশাসন, স্থানীয় প্রশাসন ও আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সহ আমরা বিভিন্নভাবে এভাবে রাস্তা পারাপার হওয়া পথচারীদেকে সচেতনতা তৈরী সহ ঐ স্থানটা বন্ধ করে দেওয়ার চেষ্টা করেছি। কিন্তু সাধারণ পথচারীরা আমাদের কোন ব্যবস্থাই গ্রহন করেনি বরং তাদের সম্মিলিত তোপের মুখে সড়ক ও জনপথ বিভাগ শেষ পর্যন্ত ঐ পথ বন্ধ থেকে বিরত থাকতে বাধ্য হয়েছে। তিনি সাংবাদিকদের আহবান করে বলেন, যদি মীরসরাইয়ের সাংবাদিকরা জনগনের মাঝে এভাবে পার হওয়ার ক্ষতিকর দিক ও ফুটওভার ব্রীজ ব্যবহারের উপকারীতার বিষয়ে সচেতনতা তৈরীতে এগিয়ে আসে তাহলে আমরা আবার প্রশাসনিক পদক্ষেপ নিয়ে এই কাজটি করার চেষ্টা করবো।