Amar Praner Bangladesh

বালিয়াডাঙ্গীতে মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাইকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ : আহত ২

এন এম নুরুল ইসলাম. বালিয়াডাঙ্গী (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধি :
ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গীতে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাইকে কেন্দ্র করে মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযোদ্ধা সন্তানদের মুখোমুখি সংঘর্ষে মুক্তিযোদ্ধার সন্তান ও তার স্ত্রী গুরুতর আহত হয়েছে।
শনিবার সকাল ১১টায় বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা পুরাতন মুক্তিযোদ্ধা অফিসের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলেন বড়পলাশবাড়ী ইউনিয়ন কমান্ডার ফারুক মিয়ার পুত্র আব্দুর রব ও পুত্রবধু আছিয়া বেগম।  আহতরা বর্তমানে বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছে। মারপিটের পর রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত আছিয়া বেগমের জ্ঞান ফিরেনি। তাদের উপর মুক্তিযোদ্ধা নাজমুল ও তার সন্তানেরা অতর্কিত হামলা করেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়।
জানা গেছে, ২০১৬ সালের ২ মে চাড়োল গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা নাজিমউদ্দিন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রীকে উপজেলার ৩১জন ভুয়া মুক্তিযোদ্ধার তালিকা দিয়ে তদন্তের জন্য লিখিত অভিযোগ জমা দেন। এরই প্রেক্ষিতে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আ.ক.ম মোজাম্মেল হক এমপি অভিযোগ পত্রটি গ্রহণ করেন। পরে ৪ জন যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধার তদন্ত নিজেই করবেন বলে জানান তিনি। নুন্যতম এডিসি ও জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার এবং উপজেলা কমান্ডারকে নিয়ে ফজলে আলমসহ ২৭ জনের বিরুদ্ধে তদন্ত করতে নির্দেশ দেয়া হয়। পরে জেলা প্রশাসক অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) শফিকুল ইসলামকে আহ্বায়ক করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন।
সেই কমিটি আজ শনিবার (১৬ সেপ্টম্বর)  বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে অভিযোগের তদন্ত চলাকালীন সময়ে লাহিড়ী-বালিয়াডাঙ্গী সড়কে পুরাতন মুক্তিযোদ্ধা অফিসে এ সংঘর্ষ ঘটে।
অভিযোগে বলা আছে, বালিয়াডাঙ্গী উপজেলায় অর্থের বিনিময়ে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের নাম তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। তারা ইতিমধ্যে কল্যাণ ও মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাষ্ট হতে ভাতা ও অন্যান্য সুবিধা ভোগ করে আসছে। অভিযুক্তরা ভুয়া মুক্তিযোদ্ধার সনদ দিয়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকরিও করছে। ইতিমধ্যে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা ২৭ জনকে তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক নোটিশ পাঠিয়েছেন।
তবে সংঘর্ষের ঘটনার পর কোন মুক্তিযোদ্ধাই ঘটনার কথা প্রকাশ রাজি হয়নি। তাদের আশংকা আমি মুখ-খুললে যদি আমিও ভুয়া মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় পড়ি।
জরুরী বিভাগে দায়িত্বরত ডাক্তার মাহাবুবর রহমান বলেন, শরীরে গুরুতর আঘাত পাওয়া আছিয়া বেগম অজ্ঞান হয়ে গেছে। তাকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। খুব শ্রীঘ্রই জ্ঞান ফিরবে। অন্যদিকে আব্দুর রবের মাথা প্রচন্ড আঘাত এবং শরীরে মারপিট করা হয়েছে।
যাচাই বাছাই কাজে ব্যস্ত থাকার কারণে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আব্দুস সোবহান, উপজেলা নির্বাহী অফিসার আ: মান্নানের সাথে এখন পর্যন্ত যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।