Amar Praner Bangladesh

বিআরটিএ’র ডাক্তারি সেবা নিয়ে বিভ্রান্ত ছড়িয়ে সঠিক প্রক্রিয়াকে বাঁধাগ্রস্থ করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে কু-চক্রী মহল

 

(ফেসবুকে মিথ্যা পোস্ট ও শেয়ারিং করে মানুষকে হয়রানি : আইনী জটিলতা)

 

প্রাণের বাংলাদেশ ডেস্ক :

 

সামাজিক যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম হলো ফেসবুক। কিন্তু ফেসবুক ব্যবহারে উপকারিতার পাশাপাশি ক্ষতির সম্মুখীনও হচ্ছে অনেকে। কেউ আবার না বুঝে অথবা বুঝে অপব্যবহার করছে ফেসবুককে, প্রচলিত আইনে ফেঁসে যাচ্ছে তারা। মত প্রকাশের অধিকার আছে সবার। কিন্তু মতপ্রকাশের স্বাধীনতা মানে ফেসবুকে বা ফেসবুক গ্রুপে যা খুশি তা লিখে ফেলা নয়। কোন ব্যক্তিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী গ্রেফতার করলেও সে যতক্ষণ পর্যন্ত দোষী প্রমাণ না হবে তাকে দোষী বলা যাবেনা। এমনটাই আদেশ দিয়েছে হাইকোর্ট।

সম্প্রতি উত্তরা বিআরটিএ ড্রাইভিং লাইসেন্স সংক্রান্ত বিআরটিএ’র অনুমোদিত আদেশ অনুযায়ী একজন রেজিষ্ট্রেট ডাক্তার বসিয়ে লাইসেন্সদারীদের মেডিকেল সেবা দেওয়ার এখতিয়ার থাকা সত্ত্বেও মিথ্যা তথ্য দিয়ে র‌্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়নকে ভুল বুঝিয়ে বেশ কিছু নিরহ মানুষকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য র‌্যাব অফিসে নিয়ে যাওয়া হয়। আবার বিজ্ঞ র‌্যাব তাদেরকে স্বসম্মানে ছেড়ে দেয়, যখন বুঝতে পারে তারা একটি সরকারী আদেশকে ফলো করে জনগণের সেবা করছে।

কিন্তু ইতিমধ্যে এই নিরহ লোকদের বিরুদ্ধে এবং একজন সরকারী রেজিষ্ট্রেট ডাক্তারের বিরুদ্ধে একটি শ্রেণি তাদের ব্যক্তিগত এবং গ্রুপ ফেসবুকে ভুয়া ডাক্তার এবং ভুয়া সার্টিফিকেট সহ স্ট্যাটাস দিয়েছে, যা মানহানিকর। অনুসন্ধানে জানা যায়, দীর্ঘদিন যাবৎ একটি কু-চক্রী মহল ডাক্তারের সীল জাল করে সার্টিফিকেট দিয়ে আসিছল। বিষয়টি বিআরটিএ’র নজরে আসলে ভুয়া সার্টিফিকেট নেওয়া বন্ধ করে দিলে সঠিক ডাক্তারের দ্বারা কার্যক্রমটি পুনরায় চালু হয়।

এই ঘটনার পর বিআরটিএ ভবনের কাছে কোন ডাক্তার বসে চেম্বার করতে রাজি হচ্ছেনা। কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিপক্ষে অভিযোগ করে সামাজিক মাধ্যমে কোনো পোস্ট দিলে, সেই ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান আপনার বিরুদ্ধে মামলা করার অধিকার রাখে। যদি যথেষ্ট তথ্য-প্রমাণ আপনার হাতে না থাকে, আপনি পড়ে যেতে পারেন আইনী ঝামেলায়। ফেসবুকে এ ধরনের পোস্ট দেওয়া বা শেয়ার করার আগে আমাদের কী কী বিষয় খেয়াল রাখা উচিত, তা জেনে রাখা ভালো। শুধু নিজে সতর্ক থাকতে নয়; প্রতিকার পেতেও। কারণ, সামাজিক মাধ্যমে ঘৃণা ছড়ানো বা অপমানের শিকার হতে হচ্ছে অনেককে।

সামাজিক মাধ্যমে মানহানির শিকার হলে এ থেকে প্রতিকারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। আইন করা হয়েছে। আবার সেসব আইনের অপপ্রয়োগও হচ্ছে। ফেসবুকে যা অপরাধ হিসেবে গণ্য। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন অনুযায়ী ফেসবুকে যেসব কাজ দণ্ডনীয়- ১. ফেসবুকে মিথ্যা ও অশ্লীল এমন কোনো কিছু ব্যবহার করা, যা কোনো ব্যক্তি পড়ে, দেখে ও শুনে নীতিভ্রষ্ট হতে পারে। ২. কোনো স্ট্যাট্যাস বা ট্যাগের কারণে কারো মানহানি ঘটানো। ৩. এমন কোনো কিছু লেখা যার মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটে। ৪. এমন কিছু লেখা ও ট্যাগ করা যার মাধ্যমে রাষ্ট্র ও ব্যক্তির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয়। ৫. এমন কোনো কিছু লেখা, যার মাধ্যমে কারো জাত, বর্ণ ও ধর্মীয় অনূভূতিতে আঘাত লাগতে পারে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে এসব করলে ডিজিটাল সিকিউরিটি আইন অনুযায়ী শাস্তির আওতায় আনা সম্ভব।

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন: ডিজিটাল নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং ডিজিটাল মাধ্যমে সংঘটিত অপরাধ শনাক্তকরণ, প্রতিরোধ, দমন, বিচার ও আনুষঙ্গিক বিষয়াদি সম্পর্কে বিধান প্রণয়নকল্পে প্রণীত আইন হলো ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন।

তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৫৪, ৫৫, ৫৬, ৫৭ ও ৬৬ সহ মোট ৫টি ধারা বিলুপ্ত করে,সেপ্টেম্বর ২০১৮ ইং বাংলাদেশের সংসদে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ২০১৮ পাস হয়। ১ অক্টোবর ২০১৮ ইং আইনটি কার্যকর হয়। কিছু অপ্রচারকারী ও ভুইফোঁড় সাংবাদিক না জেনে শুনে সঠিক তথ্য তদন্ত না করে, ফেসবুক ও ফেসবুক গ্রুপে মিথ্যাচার ছড়িয়ে বেড়ায় তাদের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করা যেতে পারে।

এ বিষয়ে তথ্যমন্ত্রী ডা. হাসান মাহমুদের সাথে কথা হলে তিনি জানান, সরকার ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন করেছে শুধুমাত্র সাংবাদিকদের জন্য নয়, যারা সোশ্যাল মিডিয়ায় কাউকে মিথ্যা ভাবে হেয় প্রতিপন্ন করবে, রাষ্ট্র বিরোধী স্ট্যাটাস দিবে, মিথ্যা গুজব দাঙ্গা বাঁধিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করবে, এসব কারণে মূলত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন করা হয়েছে।