বিদেশী ফল ড্রাগন চাষ করে সফল ডাঃমোঃ ফেরদৌস

 

এস এম ফোরকান মাহামুদ,বরগুনা জেলা প্রতনিধিঃ

 

বরগুনা জেলার বামনা উপজেলার রামনা ইউনিয়নে ডাঃ মোঃফেরদৌস ড্রাগন ফলের চাষ করে সফল হয়েছেন।
দক্ষিণ আমেরিকার গভীর অরণ্যে এই ফলের জন্ম হলেও বর্তমানে থাইল্যান্ড, ফিলিপাইন, মালয়েশিয়া, ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া, চীন ও ভারতসহ দিন দিন পৃথিবীজুড়ে এই ফলের জনপ্রিয়তা বেড়েই চলছে। বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানেও এই পুষ্টিকর ফল ড্রাগনের চাষ দিন দিন বেড়েই চলছে। এবং সফলতাও পেয়েছে বিভিন্ন এলাকার ড্রাগন চাষিরা। ইউটিউবে ড্রাগন চাষে বিভিন্ন এলাকার চাষিদের সফলতার ভিডিও দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে ড্রাগন চাষ করেছেন বামনা উপজেলার ডাঃ মোঃফেরদৌস । আর এই ড্রাগন চাষেই নিজে অর্থনৈতিক দিক দিয়ে স্বাবলম্বী হওয়ার পাশাপাশি নিজের উপজেলায় ড্রাগন চাষের বৈপ্লবিক পরিবর্তনের মাধ্যমে কৃষিক্ষেত্রে অনন্য অবদান রাখার স্বপ্ন দেখছেন।

জানা যায়, বামনা উপজেলা রামনা ইউনিয়নের খৌলপটুয়া গ্রামের মধ্যবিত্ত ফ্যমিলির মাওলানা মোঃ ইউসুফ এর ছেলে ডাঃ মোঃফেরদৌস ।

দারুননাজাত সিদ্দিকিয়া কামিল মাদ্রাসা (ঢাকা) থেকে এসএসসি এবং এইচএসসি পাস করেন তার পরে তিনি ডাক্তারি লেখাপড়া করেন এবং ডাক্তারি লেখাপড়া শেস করে স্থানিয় খৌলপটুয়া বাজারে মানুষের সেবার লক্ষ্য একটি চেম্বারদেন এবং নিয়মিত রুগি দেখা শুনা করেন।

ডাঃ মোঃ ফেরদৌস তিনি জানান চিকিৎসার পাশাপাশি আমি এই ড্রাগন ফলের চাষ করেছি।
আমি প্রথমত ইউটিউবে দেখে বাসার ছাদে ড্রাগন ফলের চারা রোপন করি এবং একবছরেই বেশ ভলো ফলোন দেখে লাভ জনক মনে করি।

আমি প্রায় ৪৫ শতাংশ জায়গায় ড্রাগন চাষ করি এবং প্রতিটা গাছেই ফল দরেছে।

বাগানের বয়স প্রায় আট মাস- এ পর্যন্ত প্রায় তিন লাখ টাকা খরচ হয়েছে বলে জানান ডাঃ মোঃ ফেরদৌস ।
সরেজমিন বাগানটি পরিদর্শন করে দেখা যায়, ক্যাকটাস গাছের মতো দেখতে ড্রাগনের সবুজ গাছগুলো বেড়ে ইতোমধ্যে ফল দরার উপযুক্ত হয়ে গেছে।

ড্রাগন চাষের জন্য আবহাওয়া অনুকূলে থাকার কারণে ইতোমধ্যে ড্রাগনের চারাগুলো বেশ পরিপক্বও হয়ে উঠেছে।
ডাঃ মোঃ ফেরদৌস আরও জানান, ড্রাগন চারা রোপণের এক থেকে দেড় বছরের মধ্য গাছ ফুল আসে। ফুল আসার পর বিশ-পঁচিশ দিনের মধ্যে ফল হয়। ইংরেজি এপ্রিল থেকে মে মাসে ফুল আসার সময় হলেও অক্টোবর থেকে নভেম্বর মাসেও ফুল ধরে এবং এ সময় ফল উঠানো যায়। বারো থেকে আঠারো মাস বয়সী গাছ হতে পাঁচ-বিশটি ফল উঠানো যায়। তবে প্রাপ্তবয়স্ক একটি গাছ থেকে ১০০টি পর্যন্ত ফল পাওয়া যায়। প্রতিটি ড্রাগন গাছ মোট বিশ বছর পর্যন্ত ফল দিয়ে থাকে। প্রতিটি ফলের ওজন হয় ২০০ গ্রাম থেকে শুরু করে এক কেজি পর্যন্ত হয়।

বর্তমান বাজারের আলোকে প্রতি কেজি ড্রাগন ফল ৫০০ টাকা থেকে শুরু করে ৭০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি কারা যায়। সেই পরিসংখ্যানের আলোকে ফলন ধরলেই এই বাগান থেকে প্রথমবার তিনি তিন থেকে পাচঁ লাখ টাকার ড্রাগন বিক্রি করতে পারবেন বলে আশা প্রকাশ করেন। ড্রাগন গাছে তেমন রোগবালাই না থাকার কারণে বাগানে খরচও কম। অল্প কিছু দিনের ভেতরে এই ৪৫ শতাশং জমির সাথে আরও ৪০ শতাশং জমি সংযুক্ত করে বাগান বৃদ্ধি করা হবে বলে জানান মোঃ ডাঃ ফেরদৌস ।

তিনি আরো জানান, বর্তমান প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশে বেকারত্বের হার অনেক বেশি এর ভিতরে রয়েছে শিক্ষিত বেকারত্ব এদের ইচ্ছা থাকলেও কাজ পায় না। তাদের উদ্দেশ্যে একটা কথাই হল আপনারা অল্প পুঁজিতে অধিক লাভবান হতে পারেন ড্রাগন ফলের বাগন করে এবং এতে দেশের বেকারত্ব অনেকাংশে লাঘব হবে।

আমার দাবি, বামনা উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসের পক্ষ থেকে আমাকে সর্বদা সহযগীতা ও পরামর্শ দিলে বাগানটি আরো সুন্দার করে গরে তুলতে পারবো এমনটাই আসা করছেন ডাঃ মোঃফেরদৌস।

ডাঃ মোঃ ফেরদৌসের ড্রাগন চাষের এমন মহৎ উদ্দেশ্য প্রশংসা করার দাবীদার এমনটি মনে করছেন এলাকার সচেতনমহল। আমরা আশা করি, ডাঃ মোঃ ফেরদৌস এর মাধ্যমে বামনা উপজেলার কৃষিতে ড্রাগন দিয়ে নতুন সম্ভাবনার সূর্য উদয় হবে ইনশাআল্লাহ।