Amar Praner Bangladesh

বৃদ্ধকে নির্মমভাবে হত্যার দায়ে স্বামী স্ত্রীর যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড

 

 

হাসনাত রাব্বু, কুষ্টিয়া জেলা প্রতিনিধি :

 

কুষ্টিয়ার সদর উপজেলায় জালাল উদ্দিন (৭০) নামে এক বৃদ্ধকে গলা কেটে নির্মমভাবে হত্যার দায়ে সাহাবুল ও তার স্ত্রী মারিয়া আহমেদকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত এবং ২০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৪ জুন) দুপুরে কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. তাজুল ইসলাম এ রায় দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) অনুপ কুমার নন্দী।

যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- কুষ্টিয়া মিরপুর উপজেলার পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের নওয়াপাড়া এলাকার মৃত মুনতাজ মন্ডলের ছেলে সাহাবুল ইসলাম এবং তার স্ত্রী মারিয়া আহমেদ।

রায় ঘোষণার সময় আসামি সাহাবুল আদালতে উপস্থিত ছিলেন। রায় ঘোষণার পরপরই তাকে পুলিশ পাহারায় জেলা কারাগারে পাঠানো হয়। তবে দণ্ডপ্রাপ্ত অপর আসামি মারিয়া পলাতক রয়েছেন।

আদালতের মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০২০ সালের ২৫ জানুয়ারি সকালে কুষ্টিয়া সদর উপজেলার বারখাদা মধ্যপাড়ার জালাল উদ্দিনের স্ত্রী রিনা খাতুন তার স্বামীকে বাসায় রেখে শাড়ি ও কাপড় বিক্রি করতে বাইরে যান। পরে দুপুর ১২টার দিকে বাড়িতে এসে দেখেন বাড়ির প্রধান ফটকের দরজা ভিতর থেকে আটকানো। পরে তাদের নতুন ভাড়াটিয়া সাহাবুলের বাসার গেট দিয়ে ঘরে প্রবেশ করে দেখে লেপ দিয়ে তার স্বামী জালাল উদ্দিনের গলা কাটা লাশ পড়ে আছে। এ ঘটনায় সেদিনই জালালের স্ত্রী ও শাড়ি-কাপড় ব্যবসায়ী রিনা খাতুন বাদী হয়ে কুষ্টিয়া মডেল থানায় হত্যা মামলা করেন।

আসামি সাহাবুল ইসলাম ও তার স্ত্রী মারিয়া আহমেদের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় চুরি করতে ব্যর্থ হওয়ায় এবং ভিকটিম জালাল দেখে ফেলায় তাকে বটি, ব্লেড ও কাচ দিয়ে জবাই করে নির্মমভাবে হত্যা করে আসামিরা।

মামলার তদন্ত শেষে তদন্তকারী কর্মকর্তা আসামিদের বিরুদ্ধে ২০২১ সালের ৩১ জানুয়ারি আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। এরপর আদালত এ মামলায় ১১ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য প্রমাণ শেষে ১৪ জুন রায় ঘোষণার দিন ধার্য করেন। নির্ধারিত ধার্য তারিখে আদালতের বিচারক মামলার আসামিদের শাস্তির আদেশ দেন।

আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) অনুপ কুমার নন্দী বলেন, হত্যা মামলায় দোষী প্রমাণিত হওয়ায় স্বামী ও স্ত্রীকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। রায় ঘোষণার সময় স্বামী উপস্থিত ছিলেন কিন্তু তার স্ত্রী পলাতক রয়েছে।