বেতন-ভাতা প্রদানে রাজশাহী শিক্ষাবোর্ডের চিঠি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দপ্তরে

শেরপুর পাইলট উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির মেয়াদ উত্তীর্ণ

 

এজেড হীরা, শেরপুর(বগুড়া) প্রতিনিধি:

উচ্চ আদালতে মামলায় বিজ্ঞ বিচারকের আদেশে বর্ধিত ১ বছরের মেয়াদ অনুযায়ী বগুড়ার শেরপুরের পাইলট উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির মেয়াদ গত ৭ এপ্রিল উত্তীর্ণ হয়। মেয়াদ উত্তীর্ণ হলেও বেতন-ভাতা প্রাক্তন কমিটির সভাপতির স্বাক্ষরে উত্তোলন করে আসছিল।

এদিকে ওই বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ায় গত ২১ জুলাই ওই বিদ্যালয়ের বরখাস্তকৃত শিক্ষক মোজাফফর আলী সহ সকল শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা প্রদানে শেরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অনুরোধ জানিয়ে চিঠি দিয়েছেন রাজশাহী শিক্ষাবোর্ড। আদালতের আদেশ ও শিক্ষা বোর্ডের চিঠি অনুযায়ী ওই বিদ্যালয়ের বেতন-ভাতাসহ বিভিন্ন কাজে প্রাক্তন ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি তার স্বাক্ষর কার্যক্ষমতা হারায়।

জানা যায়, শেরপুর পাইলট উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি কোরামশূন্য হয়ে পড়ায় শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের নির্দেশে বরখাস্তকৃত প্রধান শিক্ষক আবু সাঈদ সেখ ও কমিটির সভাপতি রেজাউল করিম মজনু ভূল তথ্য উপস্থাপন করে মহামান্য হাইকোর্ট থেকে ম্যানেজিং কমিটির মেয়াদ ২০১৯ সালে ৬ মাসের জন্য বর্ধিত করেন। এরপর পুনরায় একই সালে ৮ এপ্রিল থেকে ৭/৪/২০২০ পর্যন্ত ১ বছরের মেয়াদ বর্ধিত করে নেন। এরপর থেকে অদ্যবধি ওই কমিটির মেয়াদ বৃদ্ধি করতে পারেনি সংশ্লিষ্ট ম্যানেজিং কমিটি। এদিকে একই বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোজাফ্ফর আলী ১৩/০৮/২০১৮ সালে বরখাস্ত হয়ে তার সমদূয় বেতন-ভাতা উত্তোলনের জন্য সম্প্রতি রাজশাহী শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যানের কাছে আবেদন করেন।

এরপ্রেক্ষিতে শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের ০৬/০৮/২০১৭ সালের ৩৭.০০.০০০.০৭২. ৩১.০০৭.১৫.৬৯৪ স্মারকে প্রকাশিত পত্রানুযায়ি এবং বরখাস্তকৃত শিক্ষক মোজাফ্ফর আলীর মহামান্য হাইকোর্টে দায়েরকৃত রীট পিটিশন নং ১৪৬৫৯/২০১৮ এর আদেশ মোতাবেক বেতনভাতা প্রদানের নিদের্শনা দেয়। এরফলে উচ্চ আদালতের নির্দেশনা মোতাবেক রাজশাহী শিক্ষাবোর্ড চেয়ারম্যানের আদেশক্রমে বিদ্যালয় পরিদর্শক গত ২১ জুলাই স্মারক নং ৩/এস/১৩/৫৪৬ এ শেরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে একটি চিঠি প্রদান করেন। চিঠিতে একই বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ায় এবং পরবর্তী কমিটি গঠন না হওয়া পর্যন্ত ওই বরখাস্ত শিক্ষককে বকেয়াসহ বেতন-ভাতা প্রদানের জন্য উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে অনুরোধ জানানো হয়।

এদিকে ওই কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ায় এবং পরবর্তী কমিটি গঠন না হওয়া পর্যন্ত উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিদ্যালয়ের সকল শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা প্রদান করতে পারবেন বলে শিক্ষাবোর্ডের চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে শেরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. লিয়াকত আলী সেখ বলেন, ওই বিদ্যালয়ের কমিটির মেয়াদ ও বেতন-ভাতা প্রদান সংক্রান্ত রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের একটি চিঠি অবগত হয়েছি। তবে কাগজপত্র পর্যালোচনাপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।