Amar Praner Bangladesh

বেহেশতে জনগণ নয়, সরকারের বংশধররা আছেন: রিজভী

 

 

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

 

দেশের জনগণ নয়, সরকারের বংশধররা বেহেশতে আছেন বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগের ওয়ার্ডের নেতারাও এখন কোটিপতি। লুটপাট করে যারা বিদেশে টাকা পাচার করছেন, তারা সরকারের বংশধর। তারা বিদেশে অট্টালিকা গড়েছেন। তাই দেশের জনগণ নয়, অর্থপাচার করা সরকারের বংশধররাই বেহেশতে আছেন। তবে এই বেহেশত শাদ্দাদের বেহেশত। অচিরেই সেই বেহেশত ভেঙে খান খান হয়ে যাবে।’

শনিবার (১২ আগস্ট) রাজধানীর নয়াপল্টনে আরাফাত রহমান কোকোর ৫৩তম জন্মদিন উপলক্ষে জিয়া মঞ্চ আয়োজিত আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে তিনি এসব কথা বলেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন দেশবাসীর কাছে কৌতুক অভিনেতায় পরিণত হয়েছেন উল্লেখ করে বিএনপির সিনিয়র এ যুগ্ম মহাসচিব বলেন, ‘মোমেন সাহেব, আপনি তো বাজারে যান না। রিকশাওয়ালা, গরিব মানুষের কথাও শোনেন না। একটা ডিমের দাম এখন সাড়ে ১২ টাকা, এক হালি ডিম ৫০ টাকা। এক কেজি ইলিশ কিনতে দুই হাজার টাকা লাগে। সবজির বাজারে আগুন, মানুষ চাল-ডাল-সবজি কিনতে পারছেন না। অভাবের তাড়নায় সন্তান বিক্রি করছেন। জনগণ আপনাদের সৃষ্ট আগুনে জ্বলে-পুড়ে মরছে।’

তিনি বলেন, ‘মধ্যবিত্ত, নিম্ন-মধ্যবিত্তরা এখন হাহাকার করছে। দেশে এখন দুর্ভিক্ষের ছায়া বিস্তারলাভ করেছে। আপনারা বেহেশতের কথা বলে অহংকার করেন, জনগণের টাকা হরিলুট করে বেহেশতে থাকতে পারেন। কিন্তু জনগণ আপনাদের দুঃশাসনে নরকে আছে। মোমেন সাহেবের বক্তব্য দেশের ক্ষুধার্ত জনগণের সঙ্গে চরম রসিকতা।’

ওবায়দুল কাদেরের উদ্দেশে রিজভী বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে দিয়ে রাজপথ দখলের হমকি দেন। যদি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী না থাকে, তাহলে আপনারা রাজপথ থেকে ভীতু শিয়ালের মতো পালিয়ে যাবেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ছাড়া মাঠে নামলে আপনারা তুলার মতো উড়ে যাবেন। তখন যারা জনগণের অধিকার নিয়ে কথা বলেন, তাদের দখলে থাকবে রাজপথ।’

তিনি আরও বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সরকার জনগণের অধিকার ডাকাতি করেছে। ওবায়দুল কাদের সাহেব, এত বড় বড় কথা বলেন, আপনার নেত্রীকে এক/এগারোতে যখন গ্রেফতার করা হয়েছিল, কই তখন তো রাজপথে একটি মিছিলও করতে পারেননি। ১৫ আগস্টের সময় তো আপনি ছাত্রনেতা, কই তখন তো আপনি রাস্তায় নামেননি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দিয়ে গুলি করে রাজপথ দখলে রাখবেন। গুলি করে নুরে আলমকে হত্যা করা হয়েছে, আব্দুর রহিমকে হত্যা করা হয়েছে। হত্যা-নির্যাতন চালিয়ে জনগণকে দমিয়ে রাখা যাবে না। পতন ঠেকানো যাবে না।’

জিয়া মঞ্চের সভাপতি আব্দুস সালামের সভাপতিত্বে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ, স্বেচ্ছাসেবকবিষয়ক সম্পাদক মীর সরফত আলী সপু, অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম, ফয়েজ উল্লাহ ইকবাল প্রমুখ।