Amar Praner Bangladesh

ব্রাক্ষনবাড়িয়ার আখাউড়ায় ধর্মপ্রচারক কল্লা শাহ মাজার

 

 

মোঃ আবদুল আউয়াল সরকার :

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আসা ধর্ম প্রচারকদের মধ্যে হজরত সৈয়দ আহমদ গেছুদারাজ কেল্লা শহীদ (রহ.) ছিলেন অন্যতম। তিনি হজরত শাহজালাল ইয়ামেনী (রহ.) এর ৩৬০ মুরিদের মধ্যে একজন। তার নামেই আখাউড়া পৌর শহরের খড়মপুরে স্থাপন করা হয়েছে সৈয়দ আহমদ গেছুদারাজ কেল্লা শহীদ (রহ.) এর মাজার।

মাজার সংলগ্ন জমিতে নির্মাণ করা হয়েছে দৃষ্টিনন্দন মসজিদ, মুসাফির খানা, চুলাঘর, এতিমখানা, বিশ্রামাগার, কবরস্থান, মার্কেট কাম কমপ্লেক্স, মাদরাসা, বিদ্যালয় ও বিশাল পুকুর।

যুগে যুগে আওলিয়া পীর দরবেশ সুফী সাধকের পবিত্র সংস্পর্শে আমাদের এই মাতৃভূমি ধণ্য হয়েছে। ইসলাম প্রচারের জন্য পারস্য ইয়ামেন ও আরবের বিভিন্ন এলাকা থেকে ওইসব লোকজন ভারতবর্ষের বিভিন্নস্থানে এসেছেন। ওইসব ইসলাম প্রচারক ব্যক্তিদের মধ্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়া আখাউড়া পৌর শহরের খড়মপুরের হযরত সৈয়দ আহমদ গেছুদারাজ কল্লা শহীদ (র:) ছিলেন অন্যতম। তার সমাধীকে ঘিরে গড়ে উঠেছে খড়মপুর কল্লা শাহ্ মাজার শরীফ।

এই মাজারের মধ্যে রয়েছে দৃষ্টিনন্দন বিশাল আকৃতির একটি ডেকচি। ওই ডেকচিটি মাজারে আগত ভক্ত-আশেকানদের নজর কাড়ছে। তারা উৎসাহ নিয়ে ডেকচি দেখছেন এবং মনের ভাসনা পূরণে সাধ্যনুযায়ী টাকা পয়সা দান করছেন। তবে এই ডেকচির মধ্যে কোন প্রকার খাবার রান্না করা হয় না। উরশ উপলক্ষ্যে প্রথমে রাখা হতো রান্না করা তাবারক। এই ডেকচিটিতে ৫০-৫৫ মন তাবারক বা খিচুরি রাখা যায়। ডেকের মধ্যে তারারক তৈরী ও বিতরণ করা সহজ হওয়ায় এক পর্যায়ে ওই ডেকচিটি আর কোন প্রকার তাবারক রাখেনি মাজার পরিচালনা কমিটি। বর্তমানে খাদেম পরিবারেরর লোকজন মাজারে আগত ভক্ত আশেকানদের দান করার কাজে এই ডেকচিটি ব্যবহার করছেন। এই ডেকচিটি সৌন্দর্যের প্রতীক মনে হলে ও অর্থ উপার্যনের প্রধান কৌশল বলে অনেকে মনে করছেন।

খাদেমদের সাথে কথা বলে জানা গেছে , বার্ষিক ওরশ ছাড়া ও মাজার জিয়ারত করতে প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে শত শত ভক্ত আশেকান এখানে আসছেন। তাছাড়া প্রতি বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার তুলনামূলক ভাবে ভক্ত আশেকানদের ভিড় থাকে।
ভক্ত গোলাম সারওয়ার মুকুল ভূইয়া বলেন,সময় সুযোগ হলে মাজার জিয়ারত করতে তিনি এখানে আসেন বলে জানায়।

প্রতি বছর ১০ আগস্ট শাহপীর কল্লা শহীদ (র:) সপ্তাহব্যাপী বার্ষিক ওরশ মোবারক অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। ওরশ মোবারকে সড়ক, রেল ও নৌপথে দেশের বিভিন্ন প্রান্তর থেকে অসংখ্য ভক্ত আশেকানরা আসেন। ওরশকে কেন্দ্র করে মাসব্যাপী মেলা বসে।
ওরশ চলাকালিন সময় মাজার জিয়ারত,কোরআন খানি, হালকায়ে জিকির, বয়ান হয়ে থাকে । বয়ানে দেশের প্রখ্যাত আলেমরা অংশ নেয়। আখেরী মোনাজাতে অংশ নিতে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ভক্ত আশেকানদের এক মিলনমেলায় পরিণত হয়ে উঠে খড়মপুরসহ আশ পাশের এলাকা।