Amar Praner Bangladesh

ভাই বোনের মামলায় ছোট ভাই গ্রেফতার

 

 

এ আর মজিদ শরীফঃ

 

এলাকাবাসীর আনন্দ প্রকাশ সুনামগঞ্জ জেলা জগন্নাথপুর থানা কেশবপুর গ্রামের বড় ভাই লায়েক আলী ও বোন পারভিন বেগমের পৃথক দুটি দায়ের করা মামলায় ছোট ভাই আনহার আলীকে (৩৫) গ্রেফতার করেছে জগন্নাথপুর থানা পুলিশ। আনহার আলী গ্রেফতারের খবরে এলাকাবাসী আনন্দ প্রকাশ করেন।

গ্রেফতারকৃত আসামী কেশবপুর গ্রামের মৃত তবারক আলীর ৮ ছেলে মেয়েদের মধ্যে সবার ছোট ছেলে।

এলাকাবাসী জানান, এই গ্রামের স্বচ্ছল ও শিক্ষিত পরিবারের সন্তান গ্রেফতারকৃত আনহার আলী। তার প্রবাসী ও দেশের ভাই-বোন আত্মীয়-স্বজন অত্যান্ত ভালো মানুষ। প্রবাসে থাকা স্বজনেরা এলাকার বিভিন্ন উন্নয়নে অবদান রেখে চলেছেন। শুধু আনহার আলীর কারণে তার পরিবারের লোকজন এবং এলাকাবাসী অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন।

স্থানীয়রা আরো জানান, আনহার আলীর পরিবারের ছোট ছেলে হওয়ায় তাকে সব ভাই বোনেরা বেশি আদর ভালোবাসায় সে বখাটে হয়ে গেছে এবং গ্রামের মান্যগণ্য ব্যক্তি ও এলাকার দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের নিকট থেকে আরো জানা যায় কেশবপুর গ্রামের পশ্চিম পাড়া নিবাসী শাহিন মিয়া (৩৫)পিতা মৃত লেকই মিয়া, উত্তর পাড়া নিবাসী তৈয়ব আলী (৫৬) পিতা মৃত জুনাব আলী এর প্ররোচনায় ও সলাপরামর্শে দীর্ঘদিন যাবৎ বিভিন্ন নেশা বা মাদক জাতীয় দ্রব্যাদি পানসহ নানাবিধ অনৈতিক কাজ, রাষ্ট্রদ্রোহী অপপ্রচারের মতো স্পর্শ কাতর কাজে লিপ্ত থেকে নিজের পরিবারের সুনাম ও ধন সম্পদ ক্ষতি সাধন করছে। এবং আসামি আনহার আলীর মদদাতা তিনজন সরকার বিরোধী রাজনৈতিক সন্ত্রাসের সাথে জড়িত বলে জানা যায়। ছোট ভাইয়ের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে বড় ভাই লায়েক আলী বাদী হয়ে ছোট ভাইয়ের বিরুদ্ধে পর পর ২টি মামলা ও তার বড় বোন স্কুল শিক্ষিকা পারভিন বেগম বাদী হয়ে আরেকটি মামলা আদালতে দায়ের করেন। এর মধ্যে একটি মামলায় মঙ্গলবার রাতে জগন্নাথপুর থানার এসআই আবদুস ছত্তারের নেতৃত্বে থানা পুলিশ আনহার আলীকে গ্রেফতার করেন।

গ্রেফতারকৃত আসামীকে সুনামগঞ্জ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। জগন্নাথপুর থানার এসআই জিন্নাতুল ইসলাম তালুকদার তা নিশ্চিত করেছেন।

গ্রেফতার হওয়া আনহার আলীর বড় ভাই লায়েক আলী, বড় বোন পারভিন বেগম ও প্রবাসে থাকা আরেক বড় ভাই জানান, আনহার আলী আমাদের অতি আদরের ছোট ভাই তাকে আমরা আমাদের সন্তানের মত মানুষ করতে চেয়েছিলাম সে যখন যা চেয়েছে, আমরা দিয়েছি। তার সকল চাওয়া পূরণ করার চেষ্টা করেছি। আমরা কেউ বুঝতে পারিনি এত আদর ভালোবাসার পরিনাম এমন হবে।

গত কয়েক বছর সে বিভিন্ন নেশায় আসক্ত হয়ে পড়েছে। এলাকার কিছু দুষ্টু লোকের কু-পরামর্শে নষ্ট হয়ে গেছে। সে প্রায় অর্ধকোটি টাকার সম্পত্তি নষ্ট করেছে। তাতেও সে ক্ষান্ত হয়নি। পরিবার ও প্রতিবেশী সবাইকে নানান ভাবে অত্যাচার ও নির্যাতন করে আসছে। তার যন্ত্রনায় এলাকাবাসী ও পরিবার অতিষ্ঠ হয়ে আইনের আশ্রয় নিতে হয়েছে। তার দুলাভাই শিক্ষক জানান, একটি পরিবারকে ধ্বংস করার জন্য বিপথগামী একটি সন্তানই যতেষ্ট। যা আমরা হাড়ে হাড়ে বুঝতে পারছি। এ রকম যেন আর কোন সংসারে না হয়।