Amar Praner Bangladesh

ভাণ্ডারিয়ায় পিতার অযত্ন-অবহেলায় শিশুর মৃত্যুর অভিযোগ : ৯৯৯ এ কল পেয়ে তদন্তে পুলিশ

 

ভান্ডারিয়া প্রতিনিধিঃ

পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়ায় সায়মা নামে চার বছর বয়সী এক শিশু কন্যার অস্বাভাবিক মৃত্যুও অভিযোগ উঠেছে। শিশুটির পিতা অটোচালক আবদুস সালাম বেপারীকে শিশুটির মৃত্যুর জন্য দায়ি করা হচ্ছে।

পুলিশ ৯৯৯ এ কল পেয়ে অভিযোগের সত্যতা উদঘাটনে তদন্তে নেমেছে। এ ঘটনার পর মৃত শিশুটির অভিযুক্ত পিতা গা ঢাকা দিয়েছে। আজ বুধবার সকাল সাড়ে দশটার দিকে ভাণ্ডারিয়া শহরের দক্ষিণ ভাণ্ডারিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

আবদুস সালাম বেপারী তার ৪ বছরের শিশু কন্যা সায়মাকে অযত্ন অবহেলায় প্রতীবন্ধী করে শিশুটিকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয় বলে তার স্বামী পরিত্যাক্তা সুমী আক্তার ও স্থানীয়রা অভিযোগ করেন।

স্থানীয়দের সূত্রে জানাগেছে, উপজেলার দক্ষিন শিয়ালকাঠী গ্রামের সোহরাব হোসেনের মেয়ে সুমি আক্তার এর সাথে ৫ বছর পূর্বে স্থানীয় দক্ষিণ গাজীপুর গ্রামের মো. বাদল বেপারীর ছেলে অটোচালক আবদুস সালাম বেপারী সাথে পারিবারিক সম্মতিতে বিয়ে হয়। এরপর তারা ভাণ্ডারিয়া পৌরশহরের দক্ষিণ ভাণ্ডারিয়া মহল্লায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। পরে যৌতুকের জন্য দাম্পত্য কলহ সৃষ্টি হয়। সুমির পরিবারের প্রতি চাপ প্রয়োগ করে স্বামী সালাম রিক্সা ক্রায় করার জন্য ২০ হাজার টাকা যৌতুক নেয়। এর পরেও দুই সন্তানের গৃহবধূ সুমীর ওপর যৌতুক লোভি স্বামীর নির্যাতন শেষ হয়না। এক পর্যায় স্ত্রী সুমীকে স্বামী সালাম গত চারমাস আগে বাড়ি থেকে দুই সন্তান সহ তাড়িয়ে দেয়। চার বছরের মেয়ে সায়মা ও দুই বছরের শিশু সন্তান রামজানকে নিয়ে স্বামী পরিত্যাক্তা সুমী বাবার বাড়ীতে চলে আসে। এরপর স্থানীয় ইউপি সদস্য ও গণ্যমান্য ব্যাক্তিবর্গের সালিশে আবদুস সালাম চার বছরের কন্যা শিশু সায়মাকে নিয়ে যান। কিন্তু শিশুটির ওপর চরম অবহেলা শুরু করে বাবা সালাম। ফলে শিশুটি পুষ্টিহীনতাসহ নানা রোহব্যাধিতে ভূগে প্রতিবন্ধী হয়ে পড়ে।

শিশু সায়মার মা সুমি আক্তার দাবি করেন তার স্বামী তার অবুঝ কন্যা সন্তানের ওপর চরম অবহেলা ও ঠিকমত খাবার না দেওয়া সায়মা অসুস্থ হয়ে মারা যায়। তিনি তার স্বামীকে দায়ি করে বলেন, গরীব বিধায় মামলাও করতে পারছিনা ।
গৃহবধূ সুমী আরো অভিযোগ করেন, তার অবুঝ শিশুটিকে ঠিকমত খাবার না দেওয়ায় সে পুষ্টিহীনতায় প্রতিবন্ধি হয়ে পড়ে। এ কারনে সায়মার মৃত্যু ঘটেছে।

এ ব্যাপারে ভাণ্ডারিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মাসুমুর রহমান বিশ্বাস বলেন, শিশুটির মৃত্যুর পর ৯৯৯ এ এলাকাবাসি খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পাঠানো। শিশুটি জন্ম থেকে অসুস্থ ছিলো বলে প্রাথমিক তদন্তে জানাগেছে । পরিবারের স্বজনরা লিখিত অভিযোগ দেয়নি।