Amar Praner Bangladesh

ভাণ্ডারিয়ায় সরকারি অ্যাম্বুলেন্স সেবার নামে ইচ্ছেমতো ভাড়া আদায়ের অভিযোগ

 

 

ভান্ডারিয়া প্রতিনিধি :

পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অ্যাম্বুলেন্স সরকার নির্ধারিত ভাড়া না মেনে রোগি পরবিহনে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ উঠেছে।

অ্যাম্বুলেন্স চালক মনিরুল ইসলাম ইচ্ছেমতো নির্ধারিত ভাড়ার কয়েকগুণ বেশি টাকা রোগীর স্বজনদের কাছ থেকে আদায় করছেন।

এছাড়াও তার বিরুদ্ধে প্রাইভেট অ্যাম্বুলেন্স ব্যবসার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।

এ বিষয়ে ভুক্তভোগী উপজেলার ১৪৭নং নয়খালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক শহিদুল ইসলাম ৫ জন ভুক্তভোগীর নাম উল্লেখ করে ভাণ্ডারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. কামাল হোসেন মুফতির বরাবরে লিখিত অভিযোগ করেছেন।

অভিযোগে জানাগেছে সরকারি হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্স চালক মনিরুল ইসলাম ব্যস্ততা দেখিয়ে সাধারণ রোগীদেরকে বেসরকারি এ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করতে বাধ্য করেন। এমন কি অধিপত্য বিস্তার করে সরকারি এ্যাম্বুলেন্স না চালিয়ে টিএইচও’র অস্থায়ী অউটসোর্র্সিং ড্রাইভার টগর চন্দ্র শীলকে দিয়ে সরকারি এ্যাম্বুলেন্স পরিচালনা করান। এসব বিষয়টি প্রকাশ্যে হলেও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কোনও কার্যকর ব্যবস্থাও গ্রহণ করছে না।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, সরকারি হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্সে যাতায়াত ভাড়া পৌর শহরের মধ্যে ৩০০ টাকা, ভাণ্ডারিয়া শহর থেকে বরিশাল মেডিকেলে সরকারি নির্ধারিত ভাড়া ১০০০ টাকা এবং খুলনা মেডিকেলে ২০০০ টাকা। তবে নির্ধারিত ভাড়ার তোয়াক্কা না করে পৌর শহরের ম্যধ্যে ৫০০ – ৬০০ টাকা, বরিশাল গেলে ২০০০ থেকে ২৫০০ টাকা এবং খুলনা গেলে ৪ হাজার টাকা আদায় করেন চালক । ফলে অ্যাম্বুলেন্সের মতো জরুরি পরিবহন সেবা নিয়ে এভাবেই ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন ভাণ্ডারিয়া হাসপাতালে আসা রোগীর স্বজনরা।

হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স সাজেদা আক্তার জানান, কিছুদিন আগে আমার নানী শ^াশুরি অসুস্থ হলে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে থেকে বরিশাল নিয়ে গেলে নির্ধারিত ভাড়ার তোয়াক্কা না করে অ্যাম্বুলেন্স চালক মনিরুল ২৫০০ টাকা নেন।

ভূক্তভোগি প্রধান শিক্ষক শহিদুল ইসলাম জানান, রাস্তায় পড়ে থাকা দূর্ঘটনা কবলিত অসহায় এক রোগিকে ভান্ডারিয়া হাসপাতালে নিয়ে আসলে তার অবস্থা আশংঙ্কাজনক হওয়ায় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে বরিশালে স্থানান্তর করেন। রোগী অত্যন্ত গরিব হওয়ায় টি.এইচ.ও এ্যাম্বুলেন্স ভাড়া ফ্রি করে দিলেও চালক রোগীর কাছ থেকে ১০০০ টাকা নেন।

মোঃ জামাল হোসেন নামের এক রোগী বলেন হাসপাতালের জরুরী বিভাগের গেটে এমন ভাবে প্রাইভেট অ্যাম্বেুলেন্সে রাখে রোগী তো দুরে কথা সাধারণ মানুষ প্রবেশ করতে পারে না। এই হাসপাতালে সরকারি কর্মচারীদের ছত্র ছায়ায় এ কাজটি করে থাকেন। কিন্তু তারা সরকারি অ্যাম্বুলেন্সে এর বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে প্রাইভেট গাড়ীতে নিয়ে যাওয়ার জন্য উৎসাহিত করেন।

এ বিষয়ে অ্যাম্বুলেন্স চালক মনির হোসেন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, গাড়ির জ্বালানী তেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়া ছাড়াও আরও অনেক খরচ হয়। তবু কোনো রোগীকে চাপ দিয়ে ভাড়া নেওয়া হয় না। রোগীর কাছ থেকে নির্ধারিত ভাড়া নেয়া হয়।

এ বিষয়ে ভাণ্ডারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. কামাল হোসেন মুফতি বলেন, এ বিষয়ে একটি অভিযোগ পেয়েছি। আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাঃ কামাল হোসেনকে প্রধান করে ৪ সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটির গঠন করা হয়েছে। তদন্ত রিপোর্ট পেলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।