Amar Praner Bangladesh

ভান্ডারিয়ায় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তিন শিক্ষককে অনিয়মের অভিযোগে কারণ দর্শানোর নোটিশ

 

(নোটিশের জবাব না দিলে বেতন ভাতা বন্ধ)

 

ভান্ডারিয়া প্রতিনিধিঃ

 

ভান্ডারিয়া উপজেলার ১১ নং মধ্য শিয়ালকাঠী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রাধন শিক্ষক সহ তিন শিক্ষককে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে উপজেলা শিক্ষা অফিস থেকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে গতকাল রোববার সকালে। ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাহফুজা আক্তার, সহকারী শিক্ষক অনিমা রানী ও নাজমা ইয়াসমিনকে বিভিন্ন অভিযোগে কারণ দর্শানো নোটিশ দিয়েছে উপজেলা শিক্ষা অফিসার মোঃ নাছির উদ্দিন খলিফা। গত ২৩ আগষ্ট উপজেলা নির্বাহী অফিসার সীমা রানী ধর এর নেতৃত্বে উপজেলা শিক্ষা কমিটির সম্মিলিত টিম ওই বিদ্যালয় আকস্মিক পরিদর্শনে গেলে এসকল চিত্র পাওয়া যায়।

প্রধান শিক্ষক মাহফুজা আক্তার কে ৫টি অভিযোগে অভিযুক্ত করে বিদ্যালয়ের গৃহে নোংরা অপরিস্কার ও অপরিচ্ছন্ন, সহকারী শিক্ষকদের পাঠদান কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ না করা, বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের হাজিরা রেজিষ্ট্রার সঠিক ভাবে হালফিল না করা, ক্লাশ রুমে শিক্ষার্থীরা শৃঙ্খলাবোধ, পাঠদান চলাকালীন শিক্ষকদের উপস্থিতে মারামারি করে আহত হওয়া।

২০২১-২০২২ অর্থ বছরের বরাদ্ধকৃত শ্লীপ, রুটিন মেইনটেন্যান্স ও প্রাক -প্রাথমিক শ্রেণী সজ্জিত করণের টাকার ভাউচার দিয়ে উত্তোলন করে কাজ না করা। সহকারী শিক্ষক অনিমা রানীর বিরুদ্ধে অভিযোগ শ্রেনী কক্ষে পাঠ পরিকল্পনা না থাকা ও ৩য় শ্রেণীর শিক্ষার্থীরা বাংলা পড়তে না পাড়া, উপস্থিত চার শিক্ষার্থীর ১৭ তারিখ থেকে ২২ তারিখ পর্য়ন্ত হাজিরা উত্তোলন না করে উপবৃত্তির টাকা প্রদানে অনিয়ম করা।

নাজমা ইয়াসমিনের বিরুদ্ধে অভিযোগ পাঠদান কালিন স্মার্ট ফোন ব্যবহার করা এবং তার সম্মুখে শ্রেনি কক্ষে দুই শিক্ষার্থী মারামারি করে আহত হয়সহ একাধিক অভিযোগ রয়েছে। গতকাল ২৮ শে আগষ্ট সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের তিন দিনের মধ্যে সঠিক জবাব প্রদান করার জন্য উপজেলা শিক্ষা অফিসার ৬৩২, ৬৩৩, ৬৩৪ স্মারকে তাদেকে নোটিশ প্রদান করেন।

উল্লেখ্য এদিকে শিক্ষা কমিটির আকম্মিক ৫টি বিদ্যালয় পরিদর্শনের কারণে উপজেলার সকল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক কর্মচারী নড়ে চড়ে বসতে শুরু করেছে। আগে বিদ্যালয় অনিয়মিত থাকলেও তারা এখন বিদ্যালয় মুখি হয়েছে বলে অভিজ্ঞ মহলের ধারণা এ ভাবে যদি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পরির্দশন করেন তাহলে শিক্ষা ব্যবস্থা আমূল পরিবর্তন হবে বলে তারা মনে করেন।

এব্যাপারে উপজেলা শিক্ষা অফিসার মোঃ নাছির উদ্দিন খলিফা জানান তাদের বিরুদ্ধে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হয়েছে। তিন কার্য দিবসের মধ্যে জবাব চেয়ে পত্র দেয়া হয়েছে। সন্তোষ জনক জবাব না পেলে বেতন ভাতা বন্ধসহ বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।