Amar Praner Bangladesh

ভান্ডারিয়ায় সাংবাদিক লোকমান হোসেনকে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি: প্রাণনাশের হুমকি

 

 

নিজস্ব প্রতিনিধি :

 

পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া উপজেলার দৈনিক আমার প্রাণের বাংলাদেশের প্রতিনিধি ও ভাণ্ডারিযা প্রেসক্লাবের কার্য নির্বাহী সদস্য সাংবাদিক মোঃ লোকমান হোসেনকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছে সাবেক ব্যাংকার রুহুল আমিন হাওলাদার, সেই সাথে সম্পূর্ণ মিথ্যা নাটক সাজিয়ে ওই সাবেক ব্যাংকার রুহুল আমিন তার মুক্তিযোদ্ধা ভাই আঃ লতিফকে দিয়ে স্বাধীনতার মাসে সাংবাদিক লোকমান হোসেনের বিরুদ্ধে একটি সাংবাদিক সম্মেলন সহ পিরোজপুর বিজ্ঞ আদালতে একটি মিথ্যা চাঁদাবাজি মামলা দায়ের করে। বাদী দায়ের করা মামলা ও সাবেক ব্যাংকার রুহুল আমিনের কারসাজি বুঝতে পেরে বিজ্ঞ আদালত মামলাটি (পিবিআই)কে তদন্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানা যায়।

উল্লেখ্য, যে সময়কে কেন্দ্র করে সাংবাদিক লোকমান হোসেনকে চাঁদাবাজের কলঙ্ক লেপনের মিথ্যাচার করেছে রুহুল আমিন, উল্লেখিত সময়টিতে ২৬ মার্চ ২০২২ ইং তারিখে মহান স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের দিন সকাল ৮ ঘটিকা হইতে বিকাল ৩ ঘটিকা পর্যন্ত উপজেলা প্রশাসনের সাথে সার্বক্ষণিক উপস্থিত থেকে সাংবাদিকের দায়িত্ব পালন করেন। সাংবাদিক লোকমান হোসেন একটি অনুষ্ঠানে সম্পূর্ণ দিন উপজেলা নির্বাহী অফিসার সীমা রানি ধর ভান্ডারিয়া, পিরোজপুর সহ সরকারী বেসরকারী গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের মাঝে ছিলেন এবং সারাদিন সংবাদ সংগ্রহ করেছেন ছবি তুলেছেন, ভিডিও করেছেন এই মর্মে সাংবাদিক লোকমানের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলার কথা শুনে সম্মানিত উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাহেব তার স্বাক্ষরিত একটি প্যাডে সাংবাদিক লোকমান যে সেখানে উপস্থিতি ছিলেন তার স্বাক্ষরিত একটি প্রত্যয়নপত্র দেন।

বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ভান্ডারিয়া পিরোজপুরের সাবেক কমান্ডার খান এনায়েত করিম তার স্বাক্ষরিত প্রত্যয়নপত্রে লিখিত দিয়েছেন দৈনিক আমার প্রাণের বাংলাদেশ পত্রিকার ভান্ডারিয়া প্রতিনিধি লোকমান হোসেন একজন প্রকৃত সাংবাদিক, তিনি ২৬ মার্চ ২০২২ ইং আমাদের সাথেই ছিলেন।

স্থানীয় সাংবাদিকরা জানান, সারাদেশে যখন চলছে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলার হিড়িক যেখানে সরাসরি পুলিশের মহাপুলিশ পরিদর্শক ড. বেনজীর আহমেদ বলেছেন সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে কোন মিথ্যা মামলা হবেনা। ঠিক সেই সময়ে রুহুল আমিন নিজের ভাইয়ের জায়গা সংক্রান্ত ব্যক্তিগত সমস্যাকে ইস্যু করে সাংবাদিক লোকমান হোসেনের শ্বশুর বাড়ীর সাথে জমির বিবাদকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার লক্ষ্যে একটি মিথ্যা সাংবাদিক সম্মেলন করে চাঁদাবাজির মামলা সৃজন করে প্রশাসন ও আইন আদালতকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে মিথ্যাকে প্রতিষ্ঠিত করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে।

স্থানীয়রা জানায়, সাবেক ব্যাংকার রুহুল আমিন জনতা ব্যাংকে জুনিয়ার লোন অফিসার চাকুরীর সুযোগে রাষ্ট্রীয় ব্যাংকের অর্থ দূর্ণীতি করে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করে এবং সেই টাকায় এখন একাধীক বহুতল প্লাট বভনের মালিক । এক কথায় রুহুল আঙ্গুল ফুলে রাতারাতি কলাগাছ বণে গেছে। এসব কালো টাকার দাপট বারবার দেখিয়েছে পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়া উপজেলার লক্ষীপুরা গ্রামে। গত ১২ সালের ৬ জুলাই রুহুল আমিন ও তার সন্ত্রাসী বাহিনী ধারালো অস্ত্রের আঘাতে লক্ষীপুরা গ্রামের জালাল সিকদারের ছেলে সুজন সিকদারকে হত্যার উদ্দেশ্যে নির্মমভাবে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুত্বর জখম করে।

এ ঘটনায় ওই ব্যাংকার রুহুল আমিনের ফাঁসি ও বিচার চেয়ে ঢাকা সহ বিভিন্ন এলাকায় পোষ্টারিং হয়। এলাকার প্রবীণ লোকেরা জানায়, রুহুল আমিন সন্ত্রাসী ও মাদক সেবীদের নিয়ে এলাকায় চলাফেরা করে। তার সাথে কেউ ভয়ে কথা বলে না। উক্ত রুহুল আমিন একবার একটি লঞ্চ ডাকাতির ঘটনার সাথে সম্পৃক্ত ছিল । এক সময় এলাকাবাসী সন্ত্রাসী ও ভূমিদস্যু জনতা ব্যাংকের জুনিয়র অফিসার ওই রুহুল আমিন হাওলাদরের ফাঁসি চেয়েছে। রুহুল আমিনের অপরাধের সম্রাজ্য যখন অতিরিক্ত হয়ে যায় তখন সে আইনের হাত থেকে বাঁচতে রাজধানী ঢাকার পাইকপাড়া এলাকায় লুকিয়ে থেকে ব্যাংকের দূর্নীতির টাকা দিয়ে ক্রয় করে ফ্ল্যাট এবং শুরু করে বিভিন্ন অবৈধ ব্যবসা। এসব ঘটনায় ওই রুহুল আমিন জেলও খেটেছেন।

ভুক্তভোগী সাংবাদিক লোকমান হোসেন বলেন, সাবেক দূর্নীতিগ্রস্থ এই ব্যাংক কর্মকর্তা রুহুল আমিন হাওলাদার মৃত কাছেম হাওলাদারের ছেলে। তার ব্যবহার পশুর মতো। ভাবসাব দেখলে মনে হবে তিনি সচিবালয়ের বড় সচিব কিংবা মন্ত্রী মহোদয় তার কথার বাহিরে চলেনা। অযথাই কোন সাংবাদিক দেখলেই তাকে তুচ্ছ তাচ্ছিল্য ও কটাক্ষ করে কথা বলে। তুই কিসের সাংবাদিক, বড় বড় পত্রিকার সম্পাদকরা আমাকে সালাম দেয়। অথচ ওই সাংবাদিকের সাথে তার কোন ঝামেলা নেই। সাংবাদিকরা তার দূর্নীতির বিষয়ে খোঁজ নিতেও যায়নি, অথচ আত্ম অহমিকা আর অহংকারে ডুবে আছে এই রুহুল আমিন হাওলাদার। এতই যখন সাংবাদিকে তার চুলকানি, শুরু হয় তার সম্পর্কে অনুসন্ধান। বেরিয়ে আসতে থাকে একের পর এক থলের বিড়াল। তখনই বুঝতে পারলাম চোরের মায়ের বড় গলা। কোন সাংবাদিকরা যেন তার বিষয়ে খোঁজ না নেয়, এ জন্যই সাংবাদিক দেখলে অযথাই চেচামেচি গালাগালি এখনো করে যাচ্ছে রুহুল আমিন।

তিনি আরো বলেন, এক সময় তার ছেলে মেয়ে ও সংসার চালানোর মতো অর্থ না থাকলেও তিনি অবৈধভাবে বিভিন্ন ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে লোন দেওয়া সহ ব্যাংকের বিভিন্ন অনিয়ম করে অবৈধভাবে লক্ষ লক্ষ টাকার মালিক বনে গেছে। অভিযোগে আরোও উল্লেখ করা হয়, এলাকায় গরীব অসহায় লোকের জমি জবর দখল করে অল্প কিছু টাকা দিয়ে তাদের বিধায় করে দেয়। রুহুল আমিনের বিরুদ্ধে বরিশাল কতোয়ালী থানায় একটি নারী নির্যাতনের মামলা ছিলো। যার নং- ৩০৭/১১। এছাড়াও পিরোজপুর আদালতে একটি চাঁদাবাজি মামলা রয়েছে। যার নং- ৭৯/১২।

এছাড়া ভান্ডারিয়া থানায় তার বিরুদ্ধে অসংখ্য সাধারণ ডায়েরী রয়েছে। যার নং- ৬৫, ১০১৪, ১০৫৪, ৪৮০। এসব বিষয় নিয়ে মোবাইল ফোনে রুহুল আমিনের সাথে দৈনিক আমার প্রাণের বাংলাদেশের সাথে কথা হলে তিনি জানান, এগুলো সব মিথ্যা। আমার ভাই মুক্তিযোদ্ধা। তার জমি যারা দখল করছে তারা আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে, আমি তাদের বিরুদ্ধে নারী নির্যাতন মামলা করবো। পত্রিকার সম্পাদককে মোবাইল ফোনে রুহুল আমিন প্রাণনাশের হুমকি দেয় এবং মানহানি ও ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করবে বলে ভয় দেখায় ।