রবিবার, ০৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৩, ০৪:৩৩ অপরাহ্ন

ভান্ডারিয়ায় সাত মুক্তিযোদ্ধা হত্যার যুদ্ধাপরাধ মামলায় অভিযুক্ত ৫ আসামী গ্রেপ্তার

Reporter Name
  • Update Time : মঙ্গলবার, ২২ মে, ২০১৮
  • ১৮ Time View

ভান্ডারিয়া প্রতিনিধিঃ
পিরোজপুরের ভান্ডারিয়ায় ১৯৭১ সালে গণহত্যা ও লুটপাটের ঘটনায় দায়েরকৃত যুদ্ধাপরাধ মামলার অভিযুক্ত ৫ জন আসামীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল সোমবার সকালে ভান্ডারিয়া উপজেলার ধাওয় ইউনিয়নের হেতালিয়া ও নদমূলা ইউনিয়নের চরখালী গ্রামে আসামীদের নিজ বাড়ি থেকে তাদের গ্রেপ্তার করে পিরোজপুর ডিবি পুলিশ। পিরোজপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জি এম আবুল কালাম আজাদ গ্রেপ্তারের সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালে দায়ের করা মামলায় যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে আসামীদের সকালে ভান্ডারিয়া থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলো জেলার ভান্ডারিয়া উপজেলার হেতালিয়া গ্রামের খবির উদ্দিন হাওলাদারের ছেলে ফজলুল হক হাওলাদার (৭৫), আবুল হাসেম হাওলাদারের ছেলে আব্দুল মান্নান হাওলাদার (৭৪), মৃত আফসার আলী হাওলাদারের ছেলে আজহার আলী হাওলাদার ওরফে আজু মুন্সি (৮৮), মৃত নজর আলী হাওলাদারের ছেলে আশরাফ আলী হাওলাদার (৬৭) ও উপজেলার চরখালী গ্রামের মৃত মহব্বত হাওলাদারের ছেলে মো: মহারাজ হাওলাদার ওরফে হাত কাটা মহারাজ( ৬৮)।

উল্লেখ্য, ২০১৫ সালের ১০ অক্টোবর পিরোজপুর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে ভান্ডারিয়া উপজেলার ধাওয়া ইউনিয়নের যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা বিজয় কৃষ্ণ বালা এ মামলাটি দায়ের করে। মামলাটি জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতের এখতিয়ার না হওয়ায় বিজ্ঞ বিচারক মামলাটি ঢাকায় আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করেন।

মামলার বিবরনে জানা যায়, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ৯ কার্তিক ভান্ডারিয়ার হেতালিয়া গ্রামের রাজাকার আমীর হোসেন হাওলাদারের নেতৃত্বে সংঘবদ্ধ রাজাকার বাহিনী উপজেলার পশারীবুনীয়া গ্রামের হিন্দু অধ্যূষিত গ্রামে নির্যাতন, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট চালায়। এসময় রাজাকাররা আটজন হিন্দু বাঙালী মুক্তিযোদ্ধাকে ধরপাকড় করে আটক করে। পরে আট মুক্তিযোদ্ধাকে ধরে নিয়ে স্থানীয় রাজাকার বাহিনী গ্রামের বনমালি গাছারু বাড়ি নামক স্থানে পুকুরের দক্ষিণ পশ্চিম পাড়ে এ সাড়রিতে দাড় করিয়ে নির্বচারে গুলি করে হত্যা করে । এসময় ভাগ্যক্রমে পশারীবুনীয়া গ্রামের নিরোদ চন্দ্র বালার ছেলে মুক্তিযোদ্ধা কৃষক বিজয় কৃষ্ণ বালা গুলিবিদ্ধ হয়ে ভাগ্যক্রমে বেঁচে যান। তবে ঘটনার ওই দিন ঘটনাস্থলে সাত মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হন। এরা হলেন মামলার বাদীর পিতা নিরোদ চন্দ্র বালা, ভাই রণজিৎ কুমার, ভগ্নিপতি সুখময়, কাকা গঙ্গা চরণ মিস্ত্রী, কাকাত ভাই অমূল্য মিস্ত্রী ও সমুল্য মিস্ত্রী।

সেই দিনের হত্যাযজ্ঞের প্রত্যক্ষদর্শী ও মামলার সাক্ষি পশারীবুনীয় গ্রামের কৃষক চিত্ত রঞ্জন গাছারু বলেন, চার রাজারকার মিলে এলকায় গণহত্যা, লুটপাট ও নারী নির্যাতন চালায়। তারা নিরীহ মানুষকে এক লাইনে দাড় করিয়ে পাখির মত গুলি করে হত্যা করে।
প্রসঙ্গত আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত দলের সমন্বয়কারী মুহাম্মদ আবদুল হান্নান খান (পিপিএম) এর নেতৃত্বে ২০১৬ ও ২০১৭ সালে পশারীবুনীয়ার সাত মুক্তিযোদ্ধা হত্যা মামলাটি চার দফায় তদন্ত করে তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ করা হয়। মামলার তদন্তে অভিযুক্ত আসামীদের বিরুদ্ধে গণহত্যার সত্যতা মেলে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category