সোমবার, ৩০ জানুয়ারী ২০২৩, ০৪:০৮ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে মমতাজুল হক সভাপতি ও অক্ষয় কুমার সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত চুয়াডাঙ্গায় ভালাইপুরের শাজান সজীবের বিরুদ্ধে জমি দখলের পায়তারা নড়াইলের মধুমতী নদীতে নিখোঁজ হওয়ার ৩দিন পর যুবকের লাশ উদ্ধার দেশ ও জাতির স্বার্থে ঐক্যের বিকল্প নেই : হাসান সরকার সাতক্ষীরায় অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারী কল্যাণ সমিতির বার্ষিক সাধারণ সভা টাঙ্গাইলে সেচের মূল্য টাকায় পরিশোধের দাবিতে কৃষকদের মানববন্ধন সৌদি আরবে এক সপ্তাহে বাংলাদেশিসহ ১৬,৩০১ জন অবৈধ প্রবাসী গ্রেফতার প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় লাইনম্যান বেপরোয়া প্রশাসনের নিরব ভূমিকা তুরাগে ওড়না পেঁচিয়ে এক গার্মেন্টসকর্মীর আত্মহত্যা পেরুতে যাত্রীবাহী বাস দুর্ঘটনায় নিহত ২৪

ভুল চিকিৎসায় উত্তরা জাহানারা ক্লিনিকে রোগীর মৃত্যু

Reporter Name
  • Update Time : সোমবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২২
  • ৪৮ Time View

 

 

রবিউল আলম রাজু, উত্তরা :

 

ভুল চিকিৎসায় উত্তরা জাহানারা ক্লিনিকে রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী ওই নারী হলেন, তহুরা বেগম (৮০)।

রবিবার সন্ধ্যায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় রোগীর স্বজন ও এলাকাবাসী উত্তেজিত হয়ে ক্লিনিকে ভাঙচুর চালায়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে বিমানবন্দর থানা পুলিশের এস আই সাজ্জাদ। কিন্তু রহস্য জনক আচরণ তারও। তথ্য সংগ্রহে উপস্থিত সংবাদকর্মীরা ভু্ক্তভোগী রোগীর তথ্য চাইলেও এস আই সাজ্জাদ তা দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন এবং মৃত তহুরা বেগমের লাশ হাসপাতাল থেকে দ্রুত নামিয়ে নিয়ে চলে যেতে বলেন‌।

ভুক্তভোগী মৃত তহুরার সেজো ছেলে রাশেদ উজ জামান খোকন ও তার নিকট আত্মীয়রা প্রতিবেদককে বলেন, ডেঙ্গু জ্বর আর শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত তহুরা বেগমকে বিকেল তিনটায় উত্তরা জাহানারা ক্লিনিকে নিয়ে আসার পর সেখানে কর্তব্যরত ডাক্তার এম এন আলম তাকে ভর্তি রেখে দেন। তার পরামর্শেই ভর্তি রেখে স্যালাইন দেয়া হয়। স্যালাইন দেয়ার ২০ মিনিট পরেই রোগী মারা যান। স্যালাইন যেখানে পুশ করার কথা সেখানে না দিয়ে ভুল জায়গায় পুশ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে ক্লিনিকের জেনারেল ম্যানেজার হেমায়েত উদ্দিন রোগীর মৃত্যুর ঘটনা স্বীকার করে বলেন, ডাঃ এম এন আলমের তত্ত্বাবধায়নে রোগীটিকে ভর্তি করা হয়। রোগী মারা গেলো কেনো বলতে পারছি না। ভুল চিকিৎসায় মারা গেছে এর সত্যতা নাই। দালাল নির্ভর এ ক্লিনিকে ঠিক কতজন দালাল নিয়োগ দেয়া হয়েছে এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন কোনো দালালদের মাধ্যমে এখনে রোগী ভর্তি করা হয় না।

ভুল চিকিৎসায় মারা যাওয়ার অভিযোগের বিষয়ে জানতে ক্লিনিকের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডাঃ এম এন আলম বলেন, ডেঙ্গুতে আক্রান্ত তহুরা বেগমকে তার ছেলেরা ক্লিনিকে ভর্তি করেছিলেন। আমি সাধারণত একটি স্যালাইন পুশ করেছিলাম। এখানে ভুল চিকিৎসায় মারা গেছে কথাটি সঠিক না।

বিমানবন্দর জোনের অতিরিক্ত উপকমিশনার তাপস কুমার দাস ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, এ ঘটনায় এখনো পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ করেনি ভুক্তভোগীর পরিবার। যদি এমন কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায় পুলিশ আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

উল্লেখ্য যে, এ্যাম্বুল্যান্স চালক হতে শুরু করে সাবেক মন্ত্রীর আত্মীয় পরিচয় দিয়ে ক্লিনিকে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে জাহানারা ক্লিনিকে এম্বুল্যান্স দালাল, বিভিন্ন ধরনের রুগী দালালের কাছে জিম্মি সাধারণ রোগী ও প্রসূতি নারীরা। দীর্ঘ দিন ধরে জাহানারা ক্লিনিক দালালের সিন্ডিকেটের মাধ্যমে রোগী কেনাবেচা করে আসছে। দিন দিন বেড়েই চলেছে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে অতিরিক্ত অর্থ হাতিয়ে নেওয়া। ঢাকার পার্শ্ববর্তী এলাকার রোগী ঢাকা মেডিকেলের নাম বলে নিয়ে আসে এম্বুল্যান্স চালকরা। নিয়ে এসে তাদের উত্তরার আশেপাশে মেডিকেলগুলোতে বিক্রি করে দিচ্ছে। জাহানারা ক্লিনিকে এধরনের দালাল দুইজনকে পাওয়া গেছে। তারা হলেন রফিক ও কবির। রফিক (৪৫) বিভিন্ন মেডিকেলে রোগী সাপ্লাই করে থাকে। সিজারের রোগী কন্টাকের মাধ্যমে নিয়ে এসকল মেডিকেলে দিয়ে আসেন।

পরবর্তীতে মেডিকেল কর্তৃপক্ষ জিম্মি করে অতিরিক্ত বিল আদায় করছে। এদের সিন্ডিকেট সারা বাংলাদেশ জুড়ে রয়েছে। যুবলীগ পরিচয় দানকারী কবির নামে এক ব্যক্তির পরিচয় দেয়। তথ্যসূত্র জানা গেছে আসলে তার কোনো পদ নেই। রাজনৈতিক পরিচয় দিয়ে এই মেডিকেলের শেল্টারদাতা হিসেবে কাজ করে। ডাক্তার খন্দকার রাহাত হোসেনের কাছে বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি দলীয় পরিচয় দিয়ে আমির হোসেন আমু এর ছোট খালার ছেলের পরিচয় দেয়। তখন তিনি বলেন ” আপনারা কার সামনে দাঁড়িয়ে কথা বলছেন আমাকে চিনেন”। একপর্যায়ে তিনি রেগে যান।

কিছুক্ষণের মধ্যেই ঘটনাস্থলে বিমানবন্দর থানার এসআই সুমন এসে ঘটনার বিবরণ জানতে পেরে জানান, ‘এটি একটা ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে।’

পরবর্তীতে এস আই সুমন ঘটনা স্থান ত্যাগ করেন। এই ভবনের মালিক তানভীর আহমেদ সিদ্দিকী এর মেয়ের জামাই সাবেক সচিব হলেন ভবনের মালিক। তাকে ভাড়া না দিয়েই ক্লিনিক চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। সাবেক এই মন্ত্রীর পরিচয় দিয়ে ৫০ থেকে ৬০ লাখ এর বেশি ভাড়া না দিয়ে ক্লিনিক চালিয়ে যাচ্ছে এই চক্রটি। চক্রের মালহোতা হিসেবে মন্ত্রীর আত্মীয় পরিচয় দানকারীকেই দেখা যায়।

এ বিষয়ে ভুক্তভোগী এক রোগী জানান, তার অসুস্থতার কারণে তিনি ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের উদ্দেশ্যে এম্বুল্যান্স যোগে রওয়ানা দিলে এম্বুল্যান্স চালক তাকে কম খরচে ভালো চিকিৎসার কথা বলে প্রায় জোর পূর্বক ভাবে তাকে এই মেডিক্যালে নিয়ে আসেন।তাকে ৩ লক্ষ টাকার বিল দেখানো হয়। তিনি প্রায় ২ লক্ষ টাকা বিল পরিশোধ করার পরেও তাকে জোরপূর্বক আটকে রাখেন। পরবর্তীতে তিনি আরও কিছু টাকা দিয়ে ছুটে এসেছেন।

 

 

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category