Amar Praner Bangladesh

ভূঞাপুরের ফলদা ইউপি সচিবের বিরুদ্ধে দূর্নীতি ও এক নারীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগ

 

 

আ: রশিদ তালুকদার, টাঙ্গাইল প্রতিনিধি :

টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলার ৩নং ফলদা ইউনিয়ন পরিষদের সচিব মো: সামাউন কবীরের বিরুদ্ধে এক নারীকে শ্লীলতাহানি সহ পরিষদের বিভিন্ন কার্যক্রমে চরম অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা ও দূর্নীতির অভিযোগ উঠেছে।

দূর্নীতিবাজ এ সচিব যোগদানের পর থেকে জনগণ তাদের প্রয়োজনীয় সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। ভোগান্তিতে পড়েছে সাধারণ মানুষ। বিশেষ করে জন্ম ও মৃত্যু সনদ নিতে জনগণকে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়। ভোগান্তির শিকার জনগণের পক্ষে কেউ কথা বললে তাদের নানা ভাবে নাজেহাল করে ইউপি সচিব সামাউন কবীর জনগণের পক্ষ নেওয়ায় গত ১ মে’ মাদারীয়া গ্রামের ১০জনের নামে ও আর ২০-২৫জন অজ্ঞাতকে আসামী করে ভূঞাপুর থানায় মামলা দায়ের করে সামাউন কবীর। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেছে ইউনিয়ন বাসী। তারা মিথ্যা মামলা দ্রুত প্রত্যাহার ও দূর্নীতিবাজ সচিকে বদলীর দাবী তুলেছেন।

উল্লেখ্য গত, ২৬ এপ্রিল ফলদা ইউনিয়নের ঝনঝনিয়া গ্রামের জয়নার আবেদীনের স্ত্রী নূরজাহান বেগম তার আত্মীয় ধুবলিয়া গ্রামের খাজা নূর মোহাম্মদকে সঙ্গে নিয়ে পুত্র নজরুল হাসান জয়ের জন্ম নিবন্ধনের জন্য ইউনিয়ন পরিষদে যান। এ সময়ে খাজা নূর মোহাম্মদ ও নূরজাহান বেগমের সঙ্গে সচিব সামাউল কবীরের হাতা হাতির ঘটনা ঘটে। এক পর্যায়ে সচিব সামাউলন কবীর নূর জাহান বেগমের শ্লীলতাহানি ঘটায়। এ ঘটনা সহ ইউপি সচিব সামাউন কবীর তার সকল অপকর্ম আড়াল করতে তিনি মাদরিয়া গ্রামবাসীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করেছে এমন অভিযোগ করেছে এলাকাবাসী। এদিকে গত ৭ মে’ ধুবলিয়া গ্রামের খাজা নূর মোহাম্মদ ইউপি সচিব সামাউন কবীরকে প্রধান আসামী করে ৫জনের নামে ভূঞাপুর থানায় মামলা দায়ের করেছে। মামলার এজাহারে তাকে মারপীট ও নগদ ৫০,০০০/-(পঞ্চাশ হাজার) টাকা এবং তার আত্মীয় নূরজাহান বেগমকে শ্লীলতাহানি সহ নানা অভিযোগ এনেছে।

এলাকার বিভিন্ন শ্রেণীর পেশার মানুষ অভিযোগ করেন সচিব সামাউন কবীর এর অপকর্মে ডুবেছে ঐতিহ্যবাহী ইউনিয়ন ফলদা। দূর্নীতিবাজ এই সচিবের চরম অনিয়মে জনগণের হয়রানি ভোগান্তির শেষ নেই। সমস্যা সমাধানে চেয়ারম্যান ও এলাকার সুধীজনের সুপারিশ কেউ বৃদ্ধাআঙ্গুলি দেখিয়েছেন দূর্নীতিবাজ এ সচিব। তিনি পরিষদের সব নিয়ম ও বিধি ভঙ্গ করে জনগণকে হয়রানি করছে। দূর্নীতি পরায়ন এ ইউপি সচিব ঘাতআয় বর্হিভূত স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ করেছে বলে বিশ^স্থ সূত্র জানিয়েছে। তার নামে উত্তর বঙ্গের প্রবেশ দ্বার এলেঙ্গাতে বিলাস বহুল বাড়ি রয়েছে বলে, নাম প্রকাশে অনইচ্ছেুক তার এক সহকর্মী জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে ফলদা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি মো: সাইদুল ইসলাম তালুকদার দুদু জানান, মাদারিয়া গ্রামবাসীর দাবি তাদের নামে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার এবং দূর্নীতিবাজ সচিবকে বদলী করা। বিষয়টি সমাধানে যথাযথ কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছি। এছাড়া আমার নিকট আসমা খাতুন ও মো: রমিজুল ইসলাম খান নামে দু’ব্যাক্তি সচিব সামাউনের অনিয়ম দূর্নীতির প্রতিকার চেয়ে লিখিত অভিযোগ করেছেন। তদন্ত করে যথাযথ কর্তৃপক্ষের নিকট প্রতিবেদন প্রেরণ করব। ইতিমধ্যে ইউপি সচিব সামাউন কবীরের অন্যত্র বদলীর আদেশ হয়েছে বলে একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে।

এ ব্যাপরে ইউপি সচিব সামাউন কবীরের সাথে তার ব্যবহৃত মুঠো ফোনে বারবার যোগাযোগ করে তাকে পাওয়া যায়নি।