Amar Praner Bangladesh

ভূঞাপুরে ঘুষ নেওয়ায় দুই ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে : ডিসি

 

আ:রশিদ তালুকদার, টাঙ্গাইল প্রতিনিধি :

টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরের অর্জুনা ইউনিয়ন পরিষদের দুই সদস্যের বিরুদ্ধে ঘুষ নেওয়ার সত্যতা পেয়েছে তদন্ত কমিটি। ওই দুই সদস্য নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্তদের সরকারি প্রণোদনার অর্থ পাইয়ে দিতে কয়েকজনের কাছ থেকে ঘুষ গ্রহণ করেন বলে অভিযোগ ওঠে। পরে গঠিত এক সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটির কাছে অপরাধের সতত্যা প্রমাণিত হয়। ওই দুই ইউপি সদস্যদের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় জেলা প্রশাসন নিয়মানুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে।

অভিযুক্ত দুই ইউপি সদস্য হচ্ছেন- অর্জুনা ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের সদস্য দেলোয়ার হোসেন ও সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য নাসিমা বেগম। তারা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে বিষয়টি একটি মহলের ষড়যন্ত্র বলে দাবি করেছেন।
স্থানীয়রা জানায়, যমুনা নদীর ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো ঘর নির্মাণের জন্য সরকারি সহায়তা পেতে আবেদন করে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৯ সালে উপজেলার গাবসারা, অর্জুনা, গোবিন্দাসী ও নিকরাইল ইউনিয়নে নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত এক হাজার ৫০৩টি পরিবারের তালিকা প্রস্তুত করে উপজেলা প্রশাসন। এরমধ্যে গাবসারা ইউনিয়নের ৮৩১টি, অর্জুনার ৪৮৮টি, গোবিন্দাসীর ১১২টি এবং নিকরাইল ইউনিয়নের ৭২টি পরিবার ছিল। পরে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তার জন্য ২০২১ সালে এক কোটি ৬৬ লাখ টাকার সরকারি প্রণোদনার বরাদ্দ আসে এবং তালিকা থেকে ৩৩২টি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে ৫০ হাজার টাকা করে সহায়তার নির্দেশনা দেওয়া হয়।

ওই তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার হুমকি দিয়ে অর্জুনা ইউনিয়নের ৮নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য দেলোয়ার হোসেন এবং সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য নাসিমা বেগমের বিরুদ্ধে সাতটি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা করে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ ওঠে।

এ বিষয়ে প্রতিকার চেয়ে ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে বাসুদেবকোল গ্রামের আব্দুল কুদ্দুস গত ১৬ আগস্ট ভূঞাপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। ভূঞাপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইশরাত জাহান অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে এক সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করেন। দায়িত্ব পেয়ে উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা সাইফুর রহমান ওই ঘটনা তদন্ত শেষ করে গত ৭ সেপ্টেম্বর উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন। প্রতিবেদনে দুই ইউপি সদস্য কর্তৃক ঘুষ নেওয়ার সত্যতা প্রমাণিত হয়।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইশরাত জাহান জানান, তিনি তদন্ত প্রতিবেদন পেয়েছেন। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রতিবেদনটি জেলা প্রশাসকের কাছে পাঠিয়েছেন।

টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক ডক্টর মো. আতাউল গনি জানান, তদন্তে ওই দুই ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। যেহেতু তারা জনপ্রতিনিধি সেহেতু ‘কেন তাদের বরখাস্ত করা হবে না’ তা জানতে চেয়ে প্রথমে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হবে। জবাব পাওয়ার পর নিয়ম অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।