Amar Praner Bangladesh

ভূঞাপুরে সওজের খাল ও সড়ক দখল করে টার্মিনাল!

 

মো: নাসির উদ্দিন, ভূঞাপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি:

 

ভূঞাপুরে সড়ক ও জনপদের গভীর খাল ভরাট এবং সড়ক দখল করে স্থাপন করা হয়েছে বাস, ট্রাক ও সিএনজি চালিত অটোরিকশার অবৈধ টার্মিনাল। টার্মিনালের জন্য নির্ধারিত স্থান ব্যবহার না করায় যানজটসহ নানা দুর্ভোগে পড়তে হয় ভূঞাপুর-তারাকান্দী সড়ক ব্যবহারকারীদের।সরেজমিনে দেখা গেছে, ভূঞাপুর-তারাকান্দী সড়কের উপজেলা পরিষদ ভবনের সামনে দিয়ে প্রবাহিত সড়ক ও জনপদের গভীর খাল।

 

বর্তমানে খন্ড খন্ড অংশে কয়েকশ গজ খালের অস্তিত্ব থাকলেও বাকি অংশ ভরাট হয়ে গেছে। সর্বশেষ ২০১৪ সালে খালের গভীরতম অংশ উপজেলা পরিষদ গেট হতে টিএন্ডটি অফিস ব্রিজ পর্যন্ত পৌরসভা কর্তৃপক্ষ ভরাট করে বাস, ট্রাক টার্মিনাল করে। যানজট নিরসনে ওই খাল ভরাট করে টার্মিনাল স্থাপন করা হলেও সড়ক ব্যবহার করেই চলে তাদের কার্যক্রম।

 

ফলে ঢাকা-টাঙ্গাইল সড়কের হাইচয়েজ, ঢাকা-তারাকান্দীর দিগন্ত এবং ট্রাক ও সিএনজি চালিত অটোরিকশাগুলো পার্কিং ও যাত্রী উঠানামা করায় সৃষ্টি হয় তীব্র যানজটের। এদিকে ২০০৭ সালে ভূঞাপুর-তারাকান্দী আঞ্চলিক মহাসড়কের পৌরসভা সংলগ্ন ¯øুইসগেট এলাকায় পরিত্যক্ত জায়গায় মাটি ভরাট করে বাসস্ট্যান্ড নির্মাণ করা হয়। সে সময় কিছুদিনের জন্য টার্মিনালটি ব্যবহার হলেও অজ্ঞাত কারণে সেটি বন্ধ হয়ে যায়। পুনরায় পরিবহন মালিক ও শ্রমিকরা নতুন বাসস্ট্যান্ড হিসেবে উপজেলা পরিষদ সংলগ্ন এলাকা ব্যবহার করে। পরে পৌরসভা কর্তৃপক্ষ সড়ক ও জনপদের (সওজ) খাল ভরাট করে। ভরাট অংশ ছিল বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনের একমাত্র জলাধার। শফিকুল ইসলাম শাহীন নামে এক যাত্রী জানান, সড়কের পর এভাবে পরিবহনগুলো দাঁড় করিয়ে রাখায় যানজটের সৃষ্টি হয়।

 

এতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়।কলেজ ছাত্র কামরান পারভেজ, লিজা, লাবণ্যসহ অনেকেই জানান, স্কুল-কলেজে যাতায়াতের পথে এই বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এসে চরম ভোগান্তিত পড়তে হয়। পরিবহনগুলো সড়কের উপর এলোমেলো করে রেখে দেয় চালকরা। অন্যদিকে সিএনজিগুলো সড়কের উপর রেখেই যাত্রী উঠানামা করে। খাল ভরাট হয়ে সাধারণ মানুষ আর পরিবেশের ক্ষতি ছাড়া উপকার হয়নি।উপজেলা বাস-মিনিবাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক হারুন অর রশিদ বলেন, তত্ত¡াবধায়ক সরকারকালীন সময়ে যে বাস টার্মিনাল স্থাপন করা হয়েছিল সেখানে মানুষ যেতে চায় না। বাধ্য হয়েই সওজের খাল ভরাট ও সড়কের উপর গাড়ি রেখে বাসগুলো চলাচল করাতে হচ্ছে।ভূঞাপুর পৌরসভার মেয়র মাসুদুল হক মাসুদ জানান, বাসস্ট্যান্ড স্থাপনের জন্য উপজেলার শিয়ালকোল এলাকায় জমি দেখা হয়েছে। সেখানেই বাস টার্মিনাল নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বরাবর প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। সেখানে টার্মিনাল নির্মাণ হলে ভোগান্তি কমে যাবে।

 

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ঝোটন চন্দ বলেন, ভরাটের বিষয়ে সওজকে একাধিকবার অবহিত করা হলেও এ বিষয়ে তারা ব্যবস্থা গ্রহণ করছে না। যানজট নিরসনে সমন্বয় মিটিংয়ে বারবার আলোচনা করা হয়েছে। কিন্তু বিভিন্ন পক্ষের অসহযোগিতায় যানজট নিয়ন্ত্রণে রাখতে বেগ পেতে হচ্ছে। সামনের ঈদকে কেন্দ্র করে যানজট নিরসনে উপজেলা প্রশাসন থেকে ওই এলাকায় আনসার সদস্য মোতায়েন করা হবে।টাঙ্গাইল সড়ক ও জনপদের (সওজ) সহকারী প্রকৌশলী সোহেল মাহমুদ বলেন, খাল ভরাট বন্ধে মৌখিক নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীকালে তারা কোনো নির্দেশ মানেনি। এ বিষয়ে লিখিত কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।